বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি
বরিশালের বাবুগঞ্জের জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে সোমবার সকাল ১০ টায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেণ দলটি। সমাবেশ শেষে আগরপুর আলতাফ মেমোরিয়াল স্কুল প্রাঙ্গনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউসুফ খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মৃধা মু আক্তার উজ জামান মিলন, কেদারপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নূরে আলম বেপারী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম তারেক প্রমূখ।
উল্লেখ্য গত রোববার সন্ধ্যায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ তারিকুল ইসলাম তারেক কে হত্যার চেষ্টায় স্থানীয় জনতা ২ জনকে কে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।
আটককৃতরা হলো ঠাকুরমল্লিক গ্রামের আবদুল হক সরকার এর পুত্র মজিদ সরদার ও ব্রাহ্মণদিয়া গ্রামের মমিন উদ্দিন হাওলাদার এর পুত্র মোঃ আজহার হাওলাদার। বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ আহতদের কে উদ্ধার করে পুলিশ পাহারায় বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ তারিকুল ইসলাম তারেক কে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ৫/৬ জন লোক তাঁর বাড়িতে তাকে হত্যার উদ্দেশ্য আসলে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে তাদেরকে ধাওয়া করে ২ জনকে আটক করেন। পরে গণধোলাই দিয়ে আগরপুর পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। খবর পেয়ে আগরপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মোঃ মহিদুল আলম ও বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুবুর রহমান রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় ২ জনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুবুর রহমান জানান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ তারিকুল ইসলাম তারেক কে হত্যা চেষ্টা করায় ২ জনকে আটকের সংবাদ পেয়ে আহত অবস্থায় ২ জনকে উদ্ধার করে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাবেক ও বর্তমান দুই চেয়ারম্যানের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ তারিকুল ইসলাম তারেক বলেন, ২০০৫ সালে সন্ত্রাসীরা তার বাবা আবুল কাসেম সরদার কে কুপিয়ে হত্যা করে। ওই মামলার আসামী আবদুল মজিদ সরদার এখন আমাকে হত্যার চেষ্টার জন্য রোববার সন্ধ্যায় মজিদ সরদার ও আজহার সহ ৫/৬ জন আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আসলে তাদেরকে ধাওয়া করে দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এরা দুইজনই বর্তমান চেয়ারম্যান কামরুল আহসান হিমু খানের লোক।
অপরদিকে বর্তমান ইউপি চেয়াম্যান কামরুল আহসান খান হিমু বলেন, আটক মজিদ সরদার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের একই বাড়ির লোক। অভ্যন্তরিন ঘটনার জের হিসেবে তাদেরকে মারধর করা হয়েছে। অহেতুক ভাবে এঘটনায় আমাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।