• ২৬শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বামনায় ব্রীজ নির্মানে অনিয়ম : মাটির ১০ ফুট গভীরে পাইল ওপরে লোক দেখানো পাইলিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ৩১, ২০২১, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ
বামনায় ব্রীজ নির্মানে অনিয়ম : মাটির ১০ ফুট গভীরে পাইল ওপরে লোক দেখানো পাইলিং

মাসুদ রেজা ফয়সাল
বামনা(বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

বরগুনার বামনা উপজেলার বামনা-বুকাবুনিয়া সড়কের যাদবপুড়া খালে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ব্রীজ নির্মানে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত দৈর্ঘ্যের চেয়ে কম দৈর্ঘ্যরে একটি পাইল নির্মান করে সেটিকে মাটি দিয়ে ভড়াট ও মাটির ওপর একটি লোক দেখানো রডের খাঁচা সিমেন্ট দিয়ে লাগিয়ে রাখার অভিযোগও ওঠেছে নির্মানকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে জানাগেছে, ইএফটি এন্ড ইটিসিএল নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার যাদবপূরা ব্রীজটি নির্মান কাজ করেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ব্রীজটির উভয় পাশে ২৪টি পাইল বসালেও একটি পাইল মাটির প্রায় ১০ ফুট গভীরে স্থাপন করে। পরে সেখানে মাটি দিয়ে সেই পাইলটি ঢেকে দেয়। এভাবেই একপাশের ১১টি পাইলের স্থানে বেইজ ঢালাই করেন শ্রমিকরা। তবে পরে মাত্র ২ফুট লম্বা রড দিয়ে ঝালি তৈরী করে ওই পাইলের স্থানে স্থাপন করে শ্রমীকরা। এঘটনাটি এলাকাবাসীরা দেখতে পেয়ে প্রতিবাদ করেন এবং ওই ঝালিটি সরিয়ে ফেলেন। পরে ঘটনাস্থলে উপজেলা এলজিইডির কার্যসহকারী মো. কামাল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে পাইলে স্থানে মাটি খুড়ে রড ঝালাই দিয়ে পুনরায় পাইলটি মাটির ওপরে স্থাপনের নির্দেশ দেন।
আজ রবিবার সকালে যাদবপুড়া নির্মানাধিন ব্রীজে সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, প্রায় ১০ ফুট মাটি খুড়ে সেই পাইলটি দৃশ্যমান করেছে শ্রমিকরা। তবে এখনো সেই পাইলের রডের সাথে নতুন রড ওয়েল্ডিং করা হয়নি। শুধু তাই নয় এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ন এই সড়কটিতে চলাচলের জন্য আলাদা কোন ব্যবস্থা করেন নি। প্রতিদিন বামনা-বুকাবুনিয়া সড়কে চলাচলকারী যানবাহনকে পড়তে হয় ভোগান্তিতে।
জানাগেছে, বরগুনার বামনা উপজেলার বামনা-বুকাবুনিয়া সড়কের যাদবপুড়া খালে ব্রীজ নির্মানের জন্য দরপত্র আহবান করেন বরগুনা এলজিইডি দপ্তর। লটারী প্রক্রিয়া শেষে ওই ব্রীজটি নির্মানের জন্য ইএফটি এন্ড ইটিসিএল নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হন। পরে তাদের কাছ থেকে লেচ নিয়ে কাজটি কিনে নেন পার্শ্ববর্তী মঠবাড়িয়া উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রিপন। গত বছরের শুরুতে এই ব্রীজটির নির্মান কাজ শুরু করলেও কোভিড মহামারীর কারণে কাজে ধীরগতি থাকায় এখনো সম্পূর্ন হয়নি সবগুলো পাইলের কাজ।
উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানাগেছে, ২৪ মিটার দ্বীর্ঘ এই ব্রীজটি নির্মান করতে উভয় প্রান্তে ২৪টি পাইল ২৪মিটার মাটির গভীরে স্থাপিত হবে। আর এই ব্রীজটি নির্মানে ব্যায় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা।
এব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক এলাকাবাসীরা জানান, শুক্রবার দিন সকলে যখন জুম্মার নামাজ আদায় করতে মসজিদে ছিলেন তখন শ্রমিকরা গোপনে পাইলের স্থানে মাটির ওপরে একটি রডের খাচা তৈরী করে সিমেন্ট দিয়ে জোড়া লাগিয়ে রাখেন। পরে তারা মসজিদ থেকে এসে ঘটনাটি দেখতে পেয়ে প্রতিবাদ করেন। এবং নিজেরাই সেই রডের খাচাটি সরিয়ে ফেলে সাংবাদিক ও এলজিইডির কর্মকর্তাদের খবর দেন।
যাদবপূড়া ব্রীজের নির্মান কাজের দেখভালের দ্বায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের ম্যানেজার মোহাম্মদ হোসেন জানান, ১২টি পাইলের একটি নিচে ডেবে গেছে। শ্রমিকরা শারীরিক শ্রম এড়াতে ওই পাইলের স্থানটি না খুড়ে বেইজ ঢালাই দিয়েছে। পরে পাইলের স্থানে একটি খাচা তৈরী করে লাগিয়ে দিয়েছে। তবে আমরা বুঝতে পারিনি এটা ধরা পড়ে যাবো।
এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে বামনা উপজেলা এলজিইডির সার্ভেয়ার মো. জয়নাল আবেদীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ সংক্রান্ত কোন প্রকার তথ্য দিতে রাজি হয়নি।
তবে ওই ব্রীজ নির্মান কাজের তদারকী কর্মকর্তা উপজেলা এলজিইডির কার্যসহকারী মো. কামাল হোসেন জানান, মাটির নিচে পাইল আছে। এখানে ঠিকাদার বা এলজিইডির কেউ দুর্নীতির আশ্রয় নেয়নি। তিনি আরো জানান, মাটি খুড়ে পাইল বেড় করে পুনরায় রডের সাথে ওয়েলডিং করে পাইলের বাকি অংশ জুড়ে দেওয়া হবে।
ইএফটি এন্ড ইটিসিএল নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি অনেকের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
তবে ওই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সে কাজ করা ঠিকাদার মঠবাড়িয়া উপজেলার টিকিকাটা ইউপি চেয়ারম্যান মো. রিপন বলেন, আমরা শতভাগ দুর্নীতি মুক্ত থেকে এই ব্রীজের কাজ শুরু করেছি। একটি পাইল হয়তো ডেবে গেছে। আমার শ্রমিকরা সেটি ঠিক করার চেষ্টা করছে।
বামনা উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ব্রীজটির একটি পাইল হয়তো নিচে ডেবে গেছে। মাটি খুড়ে ওই পাইলের সাথে আর একটি পাইল জুড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। তবে এই কাজটি শ্রমিকদের খামখেয়ালীতে হয়তো হয়েছে। এটা কোন দুর্নীতির উদ্দেশ্যে করা হয়নি।