• ২৬শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরগুনার বামনায় প্রধান শিক্ষকের সীমাহীন দুর্নীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত নভেম্বর ১৯, ২০২১, ১৩:২৩ অপরাহ্ণ
বরগুনার বামনায় প্রধান শিক্ষকের সীমাহীন দুর্নীতি

বামনা(বরগুনা) প্রতিনিধিঃ
বরগুনার বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের রামনা শের-ই বাংলা সমবায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন এর বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে নিয়োগ প্রদানের চেষ্টা, স্কুলের অর্থ লোপাট, সাইক্লোন সেল্টারে বসতঘরস্থাপনসহ সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে জানাগেছে, গত বছরের মার্চ মাসে উপজেলার রামনা শের-ই-বাংলা সমবায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের শূণ্য পদের স্থলে নিয়োগ পায় মো. জাকির হোসেন । তিনি বিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই বিদ্যালয়ের পাশে ঘুর্নীঝড় দুর্গতদের জন্য নির্মিত বিদ্যালয় কাম ঘুর্নিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রের তিন তলার অর্ধৈকটা দখল করে বসবাস করে আসছেন। ফলে গত বছরের আম্ফান ঘুর্নিঝড়ের সময় দুর্গতরা এই আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় পায়না জানিয়ে একাধিক ঘুর্ণীদুর্গত মানুষরা অভিযোগ করেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানাগেছে, ওই প্রধান শিক্ষকের জন্য নির্ধারিত বাসভবনটিতে একটি ফার্নিচারের কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগ আছে ওই বসতঘরটি প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন একজন ফার্নিচার ব্যবসায়ির কাছে ভাড়া দিয়েছেন।
তিনি শুধু ভবন দখলই করেননি অভিযোগ রয়েছে তার দখলকৃত ভবনের বৈদ্যুতিক বিল প্রতিমাসে স্কুল তহবিল থেকে প্রদান করে থাকেন।
ঘুর্নিঝর আশ্রয় কেন্দ্রটি প্রধান শিক্ষকের বসত ঘর হিসাবে ব্যবহার করার বিষয়ে রামনা গ্রামের গত বছরের ঘুর্নিঝড় আম্ফান দুর্গত মো. আ. আজিজ বলেন, মাইকে সকলকে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার সরকারি ঘোষনা পাওয়ার পর তিনি তার পরিবার পরিজন নিয়ে রামনা স্কুলের আশ্রয় কেন্দ্রে আসেন। তিনি এসে দেখেন দোতালায় মানুষের ভীড়। পরে তিনি তিনতলায় উঠতে চাইলে প্রধান শিক্ষক তাকে ও তার সাথে থাকা আরো অন্ততো ৫০জন বন্যাদুর্গত মানুষকে সেখানে উঠতে দেয়নি। পরে তারা অন্যত্র আশ্রয় নেয়।
এতো গেলো প্রধান শিক্ষকের ভবন দখলের কথা। এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিদ্যালয়ে তিনজন নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরী নিয়োগে ব্যাপক জালিয়াতি ও অর্থ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ করেন একাধিক চাকুরীপ্রত্যাশী, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয়রা।
তাদের অভিযোগে জানাগেছে, প্রধান শিক্ষক গোপনে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্ত প্রকাশ করেন। পরে তার পছন্দের প্রার্থীদের ডেকে তাদের কাছে থেকে ৫শত পোষ্টাল-অর্ডার নিয়ে জমা দেন। পরে প্রার্থীদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা করে ঘুষ দাবী করেন। প্রার্থীরা তার দাবীকৃত ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ওই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বিভিন্ন অজুহাতে বন্ধ রাখেন।
এব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুত এক নিয়োগ প্রার্থীর ভাই বলেন, প্রধান শিক্ষকের সাথে আমাদের কথা হয়েছিলো তিনি গোপনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আমার ভাইকে নিয়োগ দিবেন। সেজন্য কয়েকজন ডেমী প্রর্াীর নামে আমাকে দিয়ে পোষ্টাল অর্ডার ক্রয় করিয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক। চাকুরী দিলে তিনি আমার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবী করেন। আমি ৩ লাখ টাকা দিতে চাইলে তিনি পুরো টাকা একবারে না হলে নিয়োগ দিবেন না বলে জানায়।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির কয়েকজন সদস্যরা জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না। তাদের মেয়াদ শেষে হওয়ার মাত্র কয়েকদিন পূর্বে এই বিজ্ঞপ্তি গোপনে প্রকাশ করা হয়। পরে তার সাথে দেন দরবারে মিল না হওয়ায় তিনি নিয়োগ কার্যক্রমটির সময় ক্ষেপন করেন। কমিটির মেয়াদ শেষ হলে তিনি নতুন কমিটিকে ভুল বুঝিয়ে তার কাঙ্খীত অর্থ নিয়ে নতুন কাউকে নিয়োগ প্রদান করবেন।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য আ. জলিল জমাদ্দার বলেন, প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন তাদের কোন কাজেই ডাকেন না। তিনি আমাদের না জানিয়ে অনেক কাজ করেন। স্কুল থেকে তিনি অনেক টাকা আত্মসাৎ করেছেন। গত কমিটির অনেক টাকা তিনি ব্যাংক থেকে আত্মসাৎ করেছেন।
আরেক সদস্য মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন. তিনজন চতুর্থ শ্রেনির কর্মচারী নিয়োগে প্রার্থীদের কাছ থেকে কিছু টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমরা কয়েকজনে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে প্রথমে সেই টাকা ফান্ডে রাখার কথা ছিলো পরে সেই টাকা দিয়ে ভবন নির্মানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. নাবিল বলেন, এই প্রধান শিক্ষককে আমরাই নিয়োগ দিয়েছি। কিন্তু বিদ্যালয়ের কোন কাজ তিনি আমাদের জানিয়ে কখনো করেননি। সম্প্রতি চতুর্থ শ্রেনির নিয়োগের ব্যাপারে তিনি আমাকে ও কমিটির কাউকে না জানিয়ে কোন প্রকার রেজুলেশন না করিয়ে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি গোপনে প্রকাশ করেছেন। এছারাও তিনি কয়েকজন প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষও দাবী করেছেন। বিষয়টি সংসদ সদস্য মহোদয় জানতে পেরে তাকে কোন প্রকার অবৈধ নিয়োগ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও সাক্ষাৎকারে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, একটা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিলো। তবে এখানে বিভিন্ন লোকের দলাদলির কারণে সেই নিয়োগ বন্ধরাখা হয়েছে। তবে প্রার্থীদের কাছ থেকে কোন টাকা পয়সা নেওয়া হয়নি বা চাওয়া হয়নি। একটা পক্ষকে সুবিধা দেইনি বলে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।