• ২৬শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার ৫০ বছরের সুবর্ণজয়ন্তীর উদযাপিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৬, ২০২১, ০৯:৩১ পূর্বাহ্ণ
গোপালগঞ্জে বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার ৫০ বছরের সুবর্ণজয়ন্তীর উদযাপিত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যে দিয়ে জেলায় মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার ৫০ বছরের সুবর্ণজয়ন্তীর সূচনা করা হয়েছে। এসময় ফুলে ফুলে ভরে ওঠে শ্রেষ্ঠ সন্তানের সমাধি স্থল।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার ৫০ বছরের সুবর্ণজয়ন্তীর প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ বেদীতে প্রথমে জেলা প্রশাসক ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দিকা শ্রদ্ধা জানান।

এরপর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, গোপালগঞ্জ জেলা ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, জেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গোপালগঞ্জ ও টুঙ্গিপাড়া পৌরসভা, গণপূর্ত বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, এলজিইডি বিভাগ, কারা কর্তৃপক্ষ, সিআইডি বিভাগ, টুরিষ্ট পুলিশ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে বঙ্গবন্ধু, পরিবারের নিহত সদস্য ও শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বিজয়ের মুহুর্মুহু ধ্বনিতে কম্পিত হয়ে ওঠে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ কমপ্লেক্স। রাত উপেক্ষা করে জেলা ও আশপাশের জেলা নড়াইল, বাগেরহাট, মাদারীপুর, পিরোজপুর, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রাপ্ত থেকে আসা মুজিব ভক্তরা তাদের প্রিয় নেতার প্রতি প্রাণের শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন। হৃদয় ছোয়া ভালবাসার সাথে ফুলে ফুলে ভরে ওঠে শ্রেষ্ঠ সন্তানের সমাধি স্থল। দিবসটি উপলক্ষে জাতির পিতার সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সে নেতা হয় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পরে সকালে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা শাখাসহ বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানায়।

এদিকে, এ দিবসে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারী, আধা সরকারী, স্বায়ত্বশাসিত এবং বেসরকারী ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে সকাল ৬টা ৩৩ মিনেটে ৫০ বার তোপধ্বানি দেয় হয। এরপর বিজয় স্মৃতিস্তম্ভে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। সকাল সাড়ে ৮টায় শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এ কুচকাওয়াজের উদ্বোধন করে জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা। এ কুচকাওয়াজে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহন করেন।

এরপর সকাল সাড়ে ১১টায় ৭১ এর বধ্যভূমির মহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অপর্ন করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধাদেরন সঙবর্ধনা দেয়া হয়। হাসপাতাল, কারাগার, সরকারী শিশু পরিবার, বৃদ্ধাশ্রম, শিশু নিবাস, এতিমখানা ও শিশু কেন্দ্রসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। বাদ যোহর জাতির শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদ এবং সুবিধামত সময়ে মন্দির ও গীর্জায় বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থানা করা হয়।

অপরদিকে, জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এসময় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার করা হয়। এতে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলার কোটালীপাড়া, কাশিয়ানী ও মুকসুদপুরে অনুরুপ কর্মসূচী পালিত হয়। #