• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় তালতলীর নানী নাতি নিখোঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৪, ২০২১, ১৩:৪৬ অপরাহ্ণ
সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় তালতলীর নানী নাতি নিখোঁজ

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে যাত্রীবাহী অভিযান-১০ লঞ্চে অঘিœকান্ডের ঘটনায় বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোটবগী গ্রামের নানী রেখা বেগম (৪২) ও নাতি জুনায়েদ (৭) নিখোঁজ রয়েছে। এবং মেহেদি হাসান (১০) নামে একজন আহত হয়ে এখন বরিশালের হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ওই লঞ্চে তালতলীর ২ ব্যবসায়ী মালামাল নিয়ে ফিরছিল। তারা প্রাণে বাঁচলেও তাদের প্রায় ৫ লক্ষ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় তারা খালি হাতে বাড়ি ফিরেছে।

জানা গেছে, বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার ছোটবগী গ্রামের মৃত কামাল সিকদারের স্ত্রী রেখা বেগম ৭-৮ দিন আগে ঢাকার উত্তর বাড্ডা এলাকায় দেবর বাবুল সিকদারের বাসায় মেয়ের ঘরের নাতি মো. জুনায়েদকে (৭) নিয়ে বেড়াতে যান। সেখানে বেড়ানো শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ি আসার জন্য বরগুনা গামী অভিযান-১০ লঞ্চে ওঠেন। লঞ্চটি ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে আসার পর এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকান্ডে তালতলীর ছোটবগী গ্রামের রেখা বেগম (৪২) ও তার মেয়ের ঘরের নাতি জুনায়েদ (৭) নিখোঁজ রয়েছে বলে জানান রেখার দেবর জলির সিকদার।

জলিল সিকদার আরো জানান, শুক্রবার ৩ টা পর্যন্ত তাদের কোন খোঁজ পাইনি। তার খোজে আমি এখণ ঝালকাঠীতে অবস্থান করছি। সকাল থেকে ঝালকাঠী হাসপাতাল , থানা এবং বরিশালের হাসপাতালে তন্ন তন্ন করে খুজেও তাদের দু’জনকে কোথাও পাইনি। তিনি আরো বলেন, আমার আরো স্বজনরা তাদেরকে খোজার জন্য ঝালকাঠি রওয়ানা হয়েছে। এছাড়া লঞ্চ দুর্ঘটনায় তালতলীর গাবতলী গ্রামের রাজ্জাক হাওলাদারের ছেলে মেহেদি হাসান (১০) আহত হয়ে এখন বরিশালের হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তার শ্বাস নারী এবং পা পুরে যাওয়ায় সে গুরুতর আহত হয়েছেন। সে ৭-৮ দিন আগে ঢাকার কেরানি গঞ্জের বালুর চরে তার দাদা হারুন হাওলাদারের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ি আসার জন্য বরগুনার গামী অভিযান -১০ লঞ্চে ওঠেন।

লঞ্চ দুর্ঘটনায় তালতলীর ২ ব্যবসায়ী ফিরেছে খালি হাতে দোকানের জন্য মাল কিনে ঢাকা থেকে অভিযান -১০ লঞ্চে বাড়ি ফিরছিলেন তালতলীর বড়বগী বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী শহিদ হাওলাদার (৩৫) ও মুদি মনোহরি ব্যবসায় মো. নুহু ফরাজী। ব্যবসায়ী শহিদ হাওলাদার এবং নুহু ফরাজি প্রায় ৫ লাখ টাকার কাপড় এবং মুদিমনোহরি মালামাল নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযান -১০ লঞ্চে ওঠেন বাড়ি আসার জন্য। লঞ্চে অঘিœকান্ডের ঘটনায় ভাগ্যক্রমে তারা বাঁচলেও পুরে ছাই হয়ে গেছে দোকানের জন্য কিনে আনা ৫ লক্ষ টাকার মালামাল।

শহিদ হওলাদার জানান, লঞ্চে আগুন লাগার পর অনেক লোককে লাফিয়ে নদীতে পড়তে দেখিছি।তিনি আরো জানান, ভাগ্য ক্রমে আমি এবং তালতলীর ব্যবসায় নুহু ফরাজি বাঁচলেও আমাদের প্রায় ৫ লক্ষ টাকার মালামাল পুরে ছাই।
সূত্র ঃবিডিক্রাইম