মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে গার্মেন্টসের দোকানে ও ফুটপাতগুলোয় জমে উঠেছে গরম কাপড়ের বেচাকেনা। গত কয়েকদিন ধরে শীত ও ঘন কুয়াশার পাশাপাশি সকালে হালকা বাতাস বইছে। এতে শীত বাড়ছে। তাই গরম কাপড় কিনতে দোকান ও ফুটপাতে ভিড় করছেন ক্রেতারা।
সরেজমিনে উপজেলা সদরের সুবিদখালী বাজার, কোর্টপাড়া ও কলেজ রোড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গার্মেন্টসের দোকান গুলোতে ও বিভিন্ন সড়কের ফুটপাথে শীতবস্ত্রের বেচাকেনা জমে উঠেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত গরম কাপড় কিনতে ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষ করে সুবিদখালী সদরের গরম কাপড়ের দোকানে ছোট-বড় নানা বয়সি মানুষের ভিড় চোখে পড়ছে।
এ ছাড়া মহিষকাটা, নিউমার্কেট, কাঠালতলী মির্জাগঞ্জ মাজার, ভয়াং, কাকড়াবুনিয়া, খলিশাখালি ও দেউলী বাজারের গার্মেন্টস এর দোকান গুলোতে এবং ফুটপাথে ভ্যানে ও হাতে ধরে শীতবস্ত্র বিক্রি করছেন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা। এসব দোকানে উলের সোয়েটার প্রকারভেদে দাম পড়েছে ১৬০ থেকে ২৭০ টাকা। ছোটদের জ্যাকেট ২০০ টাকা ও বড়দের ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, ট্রাউজার ২৫০ টাকা, ফুলহাতা (সুতি) গেঞ্জি ও বাচ্চাদের জামাসেট ১২০-১৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
সুবিদখালী বাজারের উৎসব গার্মেন্টসের মালিক মোঃ আলম হোসেন জানান, দোকানদাররা ক্রেতাদের চাহিদামতো সব বয়সি মানুষের জন্য জ্যাকেট, মাফলার, ট্রাউজার, শর্ট- সোয়েটার, ফুলহাতা সোয়েটার, হাত মোজা, কোর্ট ও টুপিসহ বিভিন্ন ধরনের শীতবস্ত্র দোকানে এনেছে। শীত বাড়ছে তাই বিক্রি বেড়ে গেছে। গরম কাপড় কিনতে গার্মেন্টসগুলোতে ও ফুটপাথে ভিড় করছেন ক্রেতারা।
ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী মোঃ শাহাদাৎ হোসেন জানান, গত সাত দিন ধরে বেচাকেনা ভালোই হচ্ছে। ছোটদের জন্য বেশি কাপড় কিনছে ক্রেতারা। এছাড়া উলের ট্রাউজার, সোয়েটার, মানকি টুপি, মাফলার ও গরম কাপড় বেশি বিক্রি হচ্ছে।
থান কাপড় বিক্রেতা মোঃ সিদ্দিকুর রহমান জানান, গত ১০ দিন থেকে শীতের প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে থান কাপড়ের চাহিদা অনেকটা কমে গেছে। গ্রামের মানুষ এখন ফুটপাতের উলের সোয়েটার, ট্রাউজার, টুপি ও গরম কাপড়ের দোকানে ভিড় করছে।
সুবিদখালী বাজারে শীতবস্ত্র কিনতে আসা মোসাঃ পারভীন বেগম বলেন, অনেক ঘুরে আমার ছেলে-মেয়ের জন্য সোয়েটারসহ কানঢাকা টুপি কিনেছি। শীত বেশি পড়ায় দোকানিরা দামও বেশি চাচ্ছে। অনেক দর দামের পর দুইটি সোয়েটার ও বাচ্চাদের টুপি কিনেছি ৩৫০ টাকায়। স্বামীর জন্য একটি সোয়েটার কিনেছি ২৫০ টাকায়। এক মাস আগে এগুলো ১২০-১৫০ টাকায় পাওয়া যেতো।