• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিখোঁজ নানি ও নাতির ৯ দিনের সন্ধান মিলেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জানুয়ারি ২, ২০২২, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিখোঁজ নানি ও নাতির ৯ দিনের সন্ধান মিলেনি

প্রতিবেদন, আমতলী ।
ঝালকাঠির সন্ধ্যা নদীতে অভিযান-১০ লঞ্চ দুর্ঘটনার ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও তালতলীর নিখোঁজ নানি রেখা বেগম (৬০) ও নাতি জুনায়েতের (৭) সন্ধান মেলেনি। পরিবার নিখোঁজদের জীবিত থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিখোঁজ পরিবারের কোন খোজ খবর নেয়নি এবং সহযোগীতাও করেনি এমন অভিযোগ নিখোঁজ জুনায়েতের বাবা জাহাঙ্গির সিকদারের।
জানাগেছে, তালতলী উপজেলার জাকিরতবক গ্রামের জাহাঙ্গির সিকদার জীবন জীবিকার তাগিয়ে গত পাঁচ বছর পুর্বে ঢাকায় যান। ঢাকায় ভ্যানগাড়ী চালিয়ে তিনি পরিবার পরিজনের ভরন পোষন দেন। গত ১৬ ডিসেম্বর স্ত্রী সোনিয়া বেগম দুই পুত্র সন্তান জুনায়েত, জোবায়ের ও মা রেখা বেগমকে নিয়ে ঢাকায় স্বামী জাহাঙ্গির সিকদারের কাছে যান। ৭ দিন সেখানে অবস্থান শেষে গত ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ী ফিরতে বরগুনাগামী অভিযান- ১০ লঞ্চে ওঠেন। লঞ্চের ডেকে বিছানা পেতে মা ও দুই পুত্র সন্তানকে নিয়ে বসে ছিলেন সোনিয়া। গভীর রাতে ঝালকাঠির সন্ধ্যা নদীর মাঝে লঞ্চে আগুন লাগলে সোনিয়া টের পেয়ে জেগে উঠেন। মা ও পুত্র জুনায়েতকে ডেকে তুলে নদীতে ঝাপ দেয়ার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু প্রচন্ড ধোয়া ও আগুনের প্রচন্ড তাপে ম রেখা বেগম ও বড় ছেলে জুনায়েতকে হারিয়ে ফেলেন। জীবন বাঁচাতে এক বছরের শিশুপুত্র জোবায়েরকে কোলে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন তিনি। তাদেরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু মা রেখা বেগম ও বড় পুত্র জুনায়েত (৭) নিখোঁজ হন। স্বজনরা রেখা বেগম ও জোবায়েরকে হাসপাতাল ও প্রশাসনের উদ্ধার করা মরদেহের মধ্যে তাদের খুঁজেও পায়নি। গত ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তাদের কোন সন্দান মিলেনি। পরিবার তাদের বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। এদিকে গত ৯ দিনে নিখোঁজ পরিবারের কোন খোঁজ খবর নেয়নি এবং সহযোগীতা করেনি উপজেলা প্রশাসন এমন অভিযোগ নিখোঁজ জুনায়েতের বাবার। মা ও পুত্র সন্তানকে হারিয়ে দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া সোনিয়া বেগম পাগলপ্রায়। তিনি তার পুত্র সন্তান এবং মাকে ফিরো যান। অপর দিকে মাকে হারিয়ে মাদ্রাসার পড়–য়া শিশু কন্যা সুমি বেগম মুচ্ছা যাচ্ছে। সে তার মায়ের লাশটা ফেরত চান।
বেঁছে যাওয়া সোনিয়া আক্তার কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, মুই মোর মানিকরে চাই। মোর বুকের ধন জুনায়েতকে ফিরাইয়্যা দ্যান। মোর কিছুই লাগবে না মুই মোর পোলা ও মায়রে চাই।
সুমি বেগম বলেন, মাতো বেচেই নেই কিন্তু মায়ের লাশটা চাই। লাশটা পেলেও নিজেকে শান্তনা দিকে পারতাম মা মারা গেছেন। এখন সেই শান্তনা দেয়ারও কোন ভাষা নেই।
নিখোঁজ জুনায়েতের বাবা ও রেখা বেগমের জামাতা জাহাঙ্গির সিকদার বলেন, হাসপাতাল, নদী ও প্রশাসনের উদ্ধার করা মরদেহের মধ্যে খুজলাম কিন্তু কোথাও আমার ছেলে ও শ^াশুড়ীর খোঁজ পেলাম না। এখন ধরেই নিয়েছি তারা জীবিত নেই। মরদেহ দুটি পেয়েও নিশ্চিত হতে পারতাম যে তারা মারা গেছেন। কিন্তু এখন নিশ্চিত হতেও পারছি না। তিনি আরো বলেন, গত ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তাতো দুরের কথা খোঁজ খবর পর্যন্ত নেয়নি। মনে হচ্ছে আমরা পাপ করেছি।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কাওছার হোসেনের বলেন, নিখোঁজ ও নিহতের বিষয়ে জেলা প্রশাসক সকল পদক্ষেপ নিচ্ছেন কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের হাতে এ বিষয়ে কিছুই করনীয় নেই।