ডেস্ক, বরিশাল ॥ বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকার গাছে এবার আগাম আমের মুকুল এসেছে। কুয়াশা কম থাকায় মুকুল রয়েছে হৃষ্টপুষ্ট। মুকুলের মৌ মৌ সুবাস ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণত মাঘের শীতের শেষে বরিশাল অঞ্চলের গাছে গাছে দেখা মিলে আমের মুকুলের।
তবে এবার মাঘের দ্বিতীয় সপ্তাহের শীতেই বরিশালের গাছে গাছে উঁকি দেয় আগাম আমের মুকুল।সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বরিশাল নগরীর সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনের একটি আম গাছে মুকুলের সমারহ। এছাড়াও নগরী সহ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আম গাছে মুকুল আসতে শুরু হয়েছে।
সোনারাঙা সেই মুকুলের পরিমাণ কম হলেও তা সৌরভ ছড়াচ্ছে বাতাসে।মাঘের দ্বিতীয় সপ্তাহ এখন। চলছে শীতের ভরা মৌসুম। অথচ এরই মধ্যে বরিশাল নগরীর অনেক আম গাছে মুকুলের দেখা মিলছে। দেশি জাতের আম গাছে মুকুল দেখা গেছে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ভরা শীতে গাছে মুকুল আসা বিষয়টি ভালো নয়। কারণ আগে ভাগে আসা মুকুল ঘন কুয়াশা ও অনাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে আমের ফলন কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
অবশ্য আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে।স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন এলাকা জুড়ে শীতের তীব্রতা বিরাজ করলেও আগাম জাতের সব আম গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে।
পৌষের শেষের দিকে গাছে মুকুল আসার লক্ষণ দেখা যায়। তাই মাঘের শুরুতে মুকুল ধরেছে। এ কারণে বাগানে পরিচর্যা বাড়িয়েছেন তারা। বরিশাল কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) সাবিনা ইয়াসমিন জানান, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় অবধি বারোমাসী বা লোকাল জাতের আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়।
তবে এবার জানুয়ারির শুরুতেই মুকুল আসা শুরু হয়েছে। শীতের তীব্রতা, তাপমাত্রা ও ঘন কুয়াশার এবং অনাবৃষ্টির কারণে গাছের মুকুল নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যান তত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. সন্তোষ কুমার বসু বলেন, ঘন কুয়াশা এবং অনাবৃষ্টির কারণে দেশি জাতের বিশেষ করে আঁটি ও ফজলি আম গাছের মুকুল ছত্রাকে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঘন কুয়াশা আর অনাবৃষ্টির কবলে না পড়লে এসব মুকুলে ভালো আম হবে।তিনি আরো বলেন, তবে নিয়ম মাফিক মাঘের শেষ দিকে যেসব গাছে মুকুল আসে, তাতে আরো বেশি ফলন হয়।