• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৯ বছর ধরে বন্ধ বরিশাল সিটি সার্ভিস ll চালুর কোন সিদ্ধান্ত নেই আপাতত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২২, ১৮:১৮ অপরাহ্ণ
৯ বছর ধরে বন্ধ বরিশাল সিটি সার্ভিস  ll চালুর কোন সিদ্ধান্ত নেই আপাতত

ডেস্ক নিউজ ঃ
যাতায়াতে অতিরিক্ত ভাড়া আর ভোগান্তিতে দিশেয়ারা হয়ে পড়েছে নগরবাসী। প্রতিদিন দুর্বিষহ যানজট এবং যাত্রী-চালকদের মধ্যে হাতাহাতি-মারামারি, বাক-বিতন্ডা লেগেই আছে। তবুও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না নগর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি অতিরিক্ত গাড়ি ভাড়া আদায়ে প্রশাসনের নেই কোন আপাতদৃষ্ট পদক্ষেপ। নিশ্চুপ নগর ট্রাফিক বিভাগ। এই সময়ে দাবী একটাই সিটি বাস সার্ভিস চালু করা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চালানো।

সরেজমিন দেখে গেছে, নগরীর লঞ্চঘাট থেকে রূপাতলী ২০ টাকা, রুপাতলী থেকে নথুল্লাবাদ ২০ টাকা, নথুল্লাবাদ থেকে লঞ্চঘাট ১৫/২০ টাকা নেয়া হচ্ছে। পথিমধ্যে কোন যাত্রী নেমে গেলেও ওই পরিমানের ভাড়া দিতে হবে। আর না দেয়া হলে যাত্রীদের সাথে চালকদের মধ্যে হাতাহাতি, মারামারির ঘটনা ঘটছে অহরহ। অন্যদিকে ভাড়া কম দেওয়ার কারণে লঞ্চঘাট থেকে সদর রোডের যাত্রীদের উঠানো হচ্ছে না। তাছাড়া না বলে উঠলেও দিতে হবে সমান ভাড়া।

বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, ৯ বছর ধরে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বাস সার্ভিস বন্ধ। চালু হবে হবে বলে চালু হয়নি বাস সার্ভিস। স্বল্প খরচে নগরীর সাধারণ মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ‘সিটি বাস সার্ভিস’ নয় বছর ধরে বন্ধ থাকলেও তা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেননি সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। ফলে সিটি বাস সার্ভিস বন্ধ থাকায় নগরীর সাধারণ মানুষ, বর্ধিত এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত গাড়ি ভাড়া।

জানাগেছে, ২০০৩ সালে বিআরটিসি চালু করেছিল দ্বিতল বাস সার্ভিস। দুই বছর চলার পর বন্ধ হয়ে যায় সার্ভিসটি। এরপর ২০০৯ সালে তৎকালীন বিসিসি মেয়র শওকত হোসেন হিরন নগরবাসীর যাতায়েতের কথা মাথায় রেখে পুনরায় চালু করেছিলেন সিটি বাস সার্ভিস। ২০১৩ সালে সিটি সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর বাস চালুর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে বাসের স্থানটি দখল করে উচ্চ আদালত থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ইজিবাইকের (অটোরিক্সা) কারণে নগরীতে যানজট লেগেই রয়েছে।

বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে নগরীতে দ্বিতল বাস চলাচল শুরু করা হয়। লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে ২০০৫ সালে দ্বিতল বাস প্রত্যাহার করে পাবনায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ব্যাপারে বরিশাল বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক মোঃ আতিকুল আলম জানান, ‘অবৈধ গাড়ি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে। চালকরা ভাড়া নির্ধারণের ক্ষমতা রাখে না। ভাড়া নির্ধারণ করে বিআরটিএ। ভাড়া নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নের জন্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ট্রাফিক) কে প্রধান করে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। অচিরেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ ব্যাপারে উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) শেখ মোঃ সেলিম জানান, ‘নগরীর কোথায় কত ভাড়া তা নির্ধারণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। পাস হলে নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখন অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হলে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্টকে অবহিত করা হলে তারা ব্যবস্থা গ্রহন করবে। বরিশাল নগরীতে সিটি বাস সার্ভিস চালুর ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত বিআরটিএ’র সভায় হয়নি।’

সিটি বাস সার্ভিস চালুর ব্যাপারে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও দায়িত্ব প্রাপ্ত জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, ‘আমার জানা মতে সিটি বাস সার্ভিস চালুর কোন সিদ্ধান্ত আপাতত নেই। তবে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন।’ এ ব্যাপারে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।