মো. ইসমাইল ভোলা।
ভোলা সদর উপজেলা ৩নং পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে অবস্থিত পাঙ্গাশিয়া খালের পাশে থাকা ফসলি জমি ও ভিটে-বাড়ির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে কয়েকটি ইটভাটায়।
রাতের আঁধারে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ভাটার সর্দাররা এসব মাটি কেটে নিচ্ছেন।
২০ থেকে ৩০ জন শ্রমিক দিয়ে এসব মাটি কেটে ষ্টীলবডি (লোহার তৈরি ছোট নৌযান) দিয়ে ইটভাটায় নেওয়া হয়। খালের পাশে থাকা এসব ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার কারনে খালের ভাঙনের মুখে পড়েছে ওই এলাকার প্রায় ১ হাজার পরিবার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাঙ্গাশিয়া খালের জুলেখা বিবির বাড়ি থেকে শুরু করে কামাল বেপারির বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১৫ থেকে ২০টি স্থানে চলছে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার মহোৎসব।
গত একমাস ধরে রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ওইসব স্থান থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে অবস্থিত সোনালী, রুপালি, সাইমন ও বাঘা ব্রিকস্ সহ আরও কয়েকটি ইটভাটার জন্য এসব মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে।
দীর্ঘদিন ধরে এমন মাটি কাটার ফলে ওই এলাকার প্রায় ১ হাজার পরিবার পাঙ্গাশিয়া খালের ভাঙনের কবলে পড়েছে।
স্থানীয় রাকিব, কামাল, জুলেখা বিবি ও রহিমা বেগমসহ আরও অনেকে অভিযোগ করে জানান, ভাটার সর্দাররা চওড়া মূল্যে কয়েকজন কৃষক থেকে এসব ফসিল জমির মাটি কিনে তা রাতের আঁধারে ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা এসবের প্রতিবাদ করলে তাদের সাথে অশ্লীল আচরণ করা হয় বলেও জানান তাঁরা। তাঁরা জানান, ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে খাল ভেঙে ভিটে-বাড়িও ভেঙে যাচ্ছে।
স্থানীয় হনুফা বেগম ও সজিব রায়হান জানান, সোনালী ব্রিকসের সর্দার মো. সাহেব আলী রাত ১২টা কিংবা ২টার দিকে ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক ও কয়েকটি নৌযান নিয়ে গিয়ে মাটি কেটে সোনালী ব্রিকসে নিয়ে যাচ্ছেন। সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতেও মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁরা তাদেরকে বাঁধা দিলে সর্দার সাহেব আলী তাদেরকে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে এবং তিনি তাদেরকে জানায়, সোনালী ইটভাটার মালিক খোকন গোলদার। মাটি নিতে দ্বিতীয়বার বাঁধা দিলে সেখান থেকে তাদেরকে ঘরবাড়িসহ উচ্ছেদ করে দিবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
সর্দার সাহেব আলী জানান, খোকন গোলদারের সোনালী ব্রিকসে এসব মাটি কেটে আনা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতেই রাতের আঁধারে এসব মাটি কাটা হচ্ছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ওমর ফারুক গাজী জানান, গতবছর একই জায়গা থেকে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে উক্ত ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন ভুক্তভোগীরা। কিন্তু এর কোনো স্থায়ী সুরাহা পাচ্ছেন না তাঁরা।
ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল জানিয়েছেন, উক্ত সংবাদদাতার কাছ থেকে সংবাদটি পেয়ে মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ওই ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী মো. ইউছুফ হোসেন ও ইউপি সদস্য ওমর ফারুক গাজীকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন। তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে কাউকেই সেখানে গিয়ে উপস্থিত পাননি।
নির্বাহী কর্মকর্তা আরও জানান, মাটি কাটা বন্ধ না হলে এর সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।