বামনা(বরগুনা) প্রতিনিধিঃ
পৈত্রিক সম্পত্তি দখল মুক্ত করতে বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে কাফনের কাপড় পরিধান করে অনশন করছিলেন বরগুনার বামনা উপজেলার ঘোলাঘাটা গ্রামের পিতৃমাতৃহীন তিন বোন। প্রায় ৫ঘন্টা অনশন শেষে বরগুনা পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীল হোসেন মল্লিকের আশ্বাসে অনশন ভাঙ্গলেন ওই তিন বোন। অসহায় ওই তিন বোনেরা হলেন গোলাঘাটা গ্রামের মৃত.আঃ রশিদ হাওলাদারের মেয়ে , মোসাঃ রুবি আক্তার(২৬), মোসাঃ জেসমিন আক্তার(১৮) ও রোজিনা আক্তার(১৫)।
আজ বুধবার ২৩ ফেব্রুয়ারী সকাল ১০টা থেকে ২টা ৩০ পর্যন্ত বরগুনা জেলা প্রশাসক অফিসের সামনে তারা তাদের দখল কৃত জমি ফেরত পেতে কাফনের কাপড় পরিধান করে অনশন করেন।
অসহায় তিন বোনের অনশনের খবর পেয়ে বরগুনার জেলা পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর মল্লিক তাদেরকে বুঝিয়ে অনশন ভঙ্গ করেন। পরে তিনি ঐ তিন বোনকে নিয়ে বরগুনার বামনা উপজেলার গ্রামের বাড়ীতে আসেন। সেখানে অভিযুক্তদের সাথে তিনি কথা বলেন এবং ওই তিন অসহায় বোনকে তাদের জমির সামান্য অংশ বুঝিয়ে দেন। এসপি তাৎক্ষনিক তাদেরকে সেখানে ঘর তোলার জন্য নগদ অর্থ প্রদান করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, বামনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইতুল ইসলাম লিটু মৃধা, বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিবেক সরকার, অফিসার ইন চার্জ মো. বশিরুল আলম, বরগুনা প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি হাসানুর রহমান ঝন্টুসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
রুবি আক্তার বলেন, আমার মা, বাবা, ভাই কেউ জীবিত নেই। আমরা অসহায় এই তিন বোন রয়েছি। অর্থেও অভাবে বোনদের লেখাপড়াও করাতে পারছিনা। বাড়ির জায়গা জমি সব আমার স্বজনরা দখল করে আছে। জমি জমা দখলমুক্তকরতে প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরেও কোন সুরহা পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে আমার জীবনের মায়া ত্যাগ করে ডিসি অফিসের সামনে অনশনে বসেছিলাম। পরে এসপি স্যার এসে আমাদের জমিজমা দখল মুক্ত করার আশ্বাস দিলে আমরা অনশন ভাংগে এসপি স্যারের সাথে গ্রামের বাড়ীতে আসি।
বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর মল্লিক বলেন, আমরা মানবিক কারণে ওদের অনশন ভেঙ্গে এই তিন বোনের পাশে দাড়িয়েছি। আমরা এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসেছি একই কারনে। যেহেতু এই তিন বোনের কোন অভিভাবক নেই তাই আমরা চেস্টা করছি তাদের ন্যায্য হিৎসা বুঝিয়ে দিতে। জেলা পুলিশের অর্থয়নের তাদের থাকার জন্য কয়েকদিনের মধ্যেই একটি ঘর তুলে দিবো যাতে তারা মাথা গোজার ঠাঁই পায়।