বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
বরিশালের বাকেরগঞ্জে ১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় এক কোটি টাকার পুরাতন ভবন নিলামে বিক্রি নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। ভবন নিলামের গুছের পাঁয়তারার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায় ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খোন্দকার জসিম আহমেদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এ নিলামে তাদের কারসাজি।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, বাকেরগঞ্জ উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪ টি ভবন ব্যবহার ও মেরামতের অনুপযোগী হলে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ভবনগুলো নিলামে বিক্রির জন্য বিজ্ঞতি জারী করা হয়। গত ২৯ মাচ তারিখ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খোন্দকার জসিম আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে তিনি ১৪ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নিলামে বিক্রির জন্য দরপত্র বিজ্ঞতি দেয়। বিজ্ঞতিতে তিনি ১১ এপ্রিল নিলাম দেয়ার তারিখ নির্ধারণ করলেও ৬ এপ্রিল বুধবার পর্যন্ত এর স্বপক্ষে তিনি কোন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখাতে পারেননি। এমনকি তিনি ১৪ টি ভবন নিলামের জন্য কোন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছেন জানতে চাইলেও পত্রিকার নাম বলতে পারেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খোন্দকার জসিম আহমেদ জানান, ইউএনও নিলাম কমিটির সভাপতি। তিনি জানেন কোন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায় বলেন, তিনিও জানেন না ১৪টি ভবন নিলামের জন্য কোন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। এ বিষয় টিও জানেন বলে তিনি সাংবাদিকদের মতামত দেন। নাম প্রকাশে অনিশ্চুক একাধিক ঠিকাদারের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, উপজেলার ১৪ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নিলাম দেয়ার জন্য ১১ এপ্রিল তারিখ নির্ধারণ করলেও ৬ এপ্রিল পর্যন্ত তারা জানেন না কোন পত্রিকায় নিলাম বিজ্ঞতি দেয়া হয়েছে। তাদের ধারনা হয়তোবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেট নিলাম গুছের প্রক্রিয়া চালাচ্ছ। এহেন ঘটনায় উপজেলার প্রকৃত ঠিকাদাররা জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট মহলের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।