সৈয়দ নূর-ই-আলমঃ
বরগুনার বেতাগীতে হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় ছাদের পলস্তারা মাথার ওপরে খসে পড়ে এক বৃদ্ধ গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার রাত ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডে এ ঘটনাটি ঘটে। এতে ওই বৃদ্ধের মাথায় গুরুতর জখম হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান এখানে কারো কোন দোষ নেই,হাসপাতালের এই ভবনটি গত ৬ মাস পূর্বেই পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। কক্ষ সংকটের কারনে পরিত্যক্ত ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষেই তারা স্বাস্থ্য সেবা চালাচ্ছেন।
জানা যায়, গত ২৯ মার্চ বেতাগী সদর ইউনিয়নের কেওরাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত খাদেম হাওলাদারে ছেলে আব্দুস সালাম(৬০) শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা নিয়ে বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। বুধবার রাত ১০ টার দিকে চিকিৎসারত অবস্থায় বৃদ্ধ আব্দুস সালাম পুরুষ ওয়ার্ডে ঘুমন্ত থাকাকালীন ওপরের ছাদের গ্রেড ভিমের পলস্তারা খসে পড়ে তার উপর। এসময় তার মাথায় প্রচন্ডভাবে আঘাত লেগে জখম হয়। তার পাশের সিটে শুয়ে থাকা রোগীরা ছুটোছুটি করতে থাকে। পরে তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পূণরায় ওই কক্ষেই রাখা হয়।
রোগীর স্বজনরা বলেন “আব্দুস সালাম গত দুই সপ্তাহ ধরে শ্বাসকষ্ট রোগের চিকিৎসায় এখানে ভর্তি আছেন। সিট দেওয়ার সময় নার্সদের বলা হয়েছে সিটের ওপরে জরাজীর্ণ ছাদের অংশ রয়েছে, যেকোন সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু তারা আমাদের কথার কোন গুরুত্ব দেননি। শেষে সেই দূর্ঘটনাই হলো। একটুর জন্য প্রানে বেঁচে গেছেন তিনি।
আহত আব্দুস সালামের ভাই হেমায়েত উদ্দিন বলেন,’মানুষ হাসপাতালে আসে সেবার জন্য। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হতে কিন্তু বেতাগী হাসপাতাল এখন মৃত্যুফাঁদেে পরিনত হয়েছে।
পাশের সিটের রোগী নিজাম মুসুল্লি বলেন,’ডাক্তারেগো বার বার বলছি যে পাশের বিল্ডিংয়ে জায়গা আছে মোগো সেইখানে থাকতে দেন। তারা মোগো কথা না শুইনা ভাঙা ছাদের তলায় দেছে।
তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, ছাদের পলস্তারা খসে পড়ার পরও কোন নার্স বা ডাক্তার আসেনি। অনেক ডাকাডাকির পর নার্স ও ডাক্তার এসে ওই বৃদ্ধের চিকিৎসা দেয়।
স্থানীয় ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল মন্নান হাওলাদার বলেন “হাসপাতাল নয় যেন মরণফাঁদ। এই ভবন দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ তারপরও এখানে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। এর আগেও সিলিং ফ্যান সিটকে পড়ে ও পলস্তারা খসে পড়ে একাধিক রোগী চিকিৎসারত অবস্থায় আহত হয়েছেন।একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এই ভবনে চিকিৎসাসেবা বন্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবী জানাচ্ছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আল মামুন বলেন “ছয় মাস পূর্বে এই ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পরও পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে ঝুঁকি নিয়ে আমরা আমাদের সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা চালাচ্ছি। আমরা চেষ্টা করবো পরবর্তী সময়ে যাতে এমন দূর্ঘটনা না হয়। একইসাথে চিকিৎসারত অবস্থায় আহত হওয়া বৃদ্ধের সুচিকিৎসার ব্যাপারে হাসপাতাণ কর্তৃপক্ষ সকল ব্যবস্থা গ্রহন করবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.সুহৃদ সালেহীন বলেন,’আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি। এটা খুবই মর্মাহত ঘটনা। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে কারও কাজের গাফিলতি হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ছয় মাস আগে এই ভবন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী বিভাগ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। নতুন চারতলা ভবনের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল চলতি মাসে। গেল ডিসেম্বরে বর্তমান ভবন ভাঙার কথা থাকলেও না ভাঙায় পরিত্যক্ত ভবনেই কর্তব্যরত চিকিৎসকরা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা দিয়ে চলছেন।