• ২৪শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গুঠিয়ার সন্দেশে গরুর টাটকা দুধের ঘ্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ১৪, ২০২২, ১৯:৩৩ অপরাহ্ণ
গুঠিয়ার সন্দেশে গরুর টাটকা দুধের ঘ্রাণ

গুঠিয়ার সন্দেশে গরুর টাটকা দুধের ঘ্রাণ
বরিশালের বিখ্যাত মিষ্টান্ন গুঠিয়ার সন্দেশ। নাম শুনলেই সবার মাথায় চলে আসে খাঁটি ছানা দিয়ে তৈরি এই খাবারটির লোভনীয় স্বাদের কথা। অনেকের মতে গুঠিয়া ইউনিয়নটি আজ খ্যাতি লাভ করেছে এই সন্দেশের জন্যই।

বরিশাল থেকে গুঠিয়া ইউনিয়নের দুরত্ব প্রায় ১৭ কিলোমিটার। দূরত্বের কথা ভুলে ভোজনবিলাসীরা ছুটে যান এই সন্দেশের স্বাদ নিতে। কারণ অত্যন্ত মুখোরোচক এই সন্দেশে খাঁটি ছানা ও চিনি ছাড়া অন্য কিছুই ব্যবহার করা হয় না। এই সন্দেশের আরও বিশেষত্ব হলো এর থেকে গরুর টাটকা দুধের ঘ্রাণ পাওয়া যায়।

জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া থেকে সন্দেশ তৈরির কৌশল শিখে আসেন সতীশ চন্দ্র দাস নামের এক ময়রা। সেই কৌশলের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তিনি ১৯৬২ সালে তৈরি করেন এই সন্দেশ। যা এখন গুঠিয়ার সন্দেশ নামে পরিচিত। ৬০ বছর পরে এসেও একই গুণমান বজায় রেখেছে ঐতিহ্যবাহী গুঠিয়ার সন্দেশ।

বর্তমানে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন দোকানে এই গুঠিয়ার সন্দেশ পাওয়া গেলেও সেগুলো আসল কিনা তা নিয়ে রয়েছে অনেক প্রশ্ন। ফলে সিংহভাগ ক্রেতাই আসল সন্দেশের খোঁজে ছুটে যান গুঠিয়া বাজারে।

কথা হয় গুঠিয়া সন্দেশের আদী বিক্রেতা বাদশা মিষ্টান্ন ভান্ডারের কর্ণধার শাওন হাওলাদারের সঙ্গে। তিনি ঢাকা মেইলকে জানান, তারাই গুঠিয়ার সন্দেশ ব্যবসার আদী প্রতিষ্ঠান। তাদের পাশাপাশি গুঠিয়া বাজারে এখন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, ‘দুধ, চিনি এবং শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় এখন খুব বেশি লাভ হয় না। তবু ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে মানের সঙ্গে আপস করি না।’

তিনি জানান, এ ব্যবসার শুরু পশ্চিমবঙ্গের সতীশ চন্দ্রের হাত ধরে। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া থেকে সন্দেশ তৈরির কৌশল শিখে আসেন তিনি। সেই কৌশলের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে ১৯৬২ সালে তৈরি করেন এই সন্দেশ। সতীশ চন্দ্র বহু বছর আগে কলকাতায় চলে যান এবং সেখানেই মারা যান। তারপর থেকে এই বিখ্যাত সন্দেশের ঐতিহ্য বাদশা হাওলাদার ধরে রেখেছেন।

বাবার কাছ থেকে সন্দেশের তৈরির প্রক্রিয়া শিখে বর্তমানে এ ব্যবসা শাওন হাওলাদার চালাচ্ছেন।

সন্দেশ তৈরির প্রণালি সম্পর্কে জানতে চাইলে শাওন হাওলাদার বলেন, সাধারণত ৬-৭ কেজি দুধে ১ কেজি ছানা পাওয়া যায়। সেই ছানার সঙ্গে ১ কেজি চিনি মিশিয়ে অল্প জ্বাল দিতে হয়। ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর পাকিয়ে অল্প আঁচে ৫ মিনিট রাখলেই কাঁচামাল তৈরি। তা পরিমাণমতো নিয়ে কাঠের ওপরে রেখে সন্দেশের আকার দেওয়া হয়। সন্দেশ তৈরিতে পরিমাণমতো আঁচ ও পাকই হলো মূল। পরে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য সন্দেশের উপর কিসমিস দেয়া হয়। গুঠিয়া সন্দেশের বিশেষত্ব হলো এর থেকে টাটকা গরুর দুধের ঘ্রাণ পাওয়া যায়। বর্তমানে গুঠিয়া সন্দেশের কেজি সাড়ে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। কেজিতে ২৫টির মতো সন্দেশ পাওয়া যায়।