৩৭ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বরিশাল বিমানবন্দরে
বরিশাল বিমানবন্দরটি জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। বর্তমানে এ বিমানবন্দরটিতে বিভিন্ন এয়ার লাইন্সের আটটি করে ফ্লাইট প্রতিদিন ওঠানামা করে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও সামরিক বাহিনীর বিমানও নিয়মিত ওঠানামা করে এ বিমানবন্দরে। অথচ বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার ৩৭ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এ বিমানবন্দরটিতে।
সোমবার (১৮ এপ্রিল) বরিশাল বিমানবন্দর এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পুরো বিমানবন্দরটির নিরাপত্তার জন্য দেওয়া সীমানাপ্রাচীর প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটা নিচু ও জরাজীর্ণ। এছাড়াও মাত্র ৫-৬ ফুট উচ্চতার সীমানাপ্রাচীরের বিভিন্ন অংশে ভাঙা ও পূর্ব দিকের দেয়ালের একটি বড় অংশের ইট ভেঙে পড়ে বিশালাকার ফাঁকা তৈরি হয়েছে। ফলে ওই ফাঁকা অংশটি দিয়ে স্থানীয়রা বিমানবন্দরের ভিতরে অনায়াসে ঢুকছে আর বেরোচ্ছে। অনেকেই আবার দেয়ালের ওই ফাঁকা অংশ দিয়ে ঢুকে গরুর জন্য ঘাস কেটে আনছে।
ওইদিন দুপুর ১২টায় দেখা যায়, বিমানবন্দরের রানওয়েতে একদিকে বিমান ছুটছে, অন্যদিকে সীমানাপ্রাচীরের ভাঙা অংশ দিয়ে ঘাস কেটে আনছেন ওই এলাকার মোতালেব শরীফ। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরের সীমানাপ্রাচীর লাগোয়া আমাদের ঘর। দেয়াল ভাঙা থাকায় মাঝে মাঝে গরুর জন্য ঘাস কেটে আনি। দেয়াল ভাঙা না থাকলে তো ভিতরে যেতাম না।’
বিমানবন্দরটি শুধু অরক্ষিতই নয়, রয়েছে পর্যাপ্ত আলোর স্বল্পতা। ফলে সন্ধ্যার পর বিমান অবতরণ করতে পারে না। নানা সমস্যার পাশাপাশি বিমানবন্দরটি রয়েছে সুগন্ধা নদীর ভাঙনের কবলে। সুগন্ধা নদীর ভাঙন এরই মধ্যে বিমানবন্দরটির উত্তর প্রান্তে রানওয়ের ১শ গজের মধ্যে চলে এসেছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে এ ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলে জানান স্থানীয়রা।
বরিশাল বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৫ সালে ১৬৩ একর জমির ওপর সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ৬ হাজার ফুট দৈর্ঘ্য ও ১শ ফুট প্রস্থ রানওয়ে ও টার্মিনাল ভবন নিয়ে নির্মিত হয় বিমানবন্দরটি। ১৯৮৫ সালে বিমানবন্দরটি নির্মাণ করা হলেও নানাবিধ জটিলতার কারণে বিমান চলাচল শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। পরে ১৯৯৫ সালের ৩ ডিসেম্বর বেসরকারি বিমান সংস্থা ‘এয়ারো বেঙ্গল এয়ারলাইন্স’ দিনের বেলা ঢাকা-বরিশাল রুটে বাণিজ্যিকভাবে প্রথম ফ্লাইট পরিচালনা করে।
তবে বিমান চলাচল শুরু হওয়ার ৩৭ বছর পর এসেও রাতে বিমান চলাচলের জন্য আলোর ব্যবস্থা করতে পারেনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। যে কারণে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই অন্ধকারে অচল হয়ে যায় বিমানবন্দরটি। ফলে পর্যাপ্ত আলোক স্বল্পতার কারণে রাতের বিমান সেবা থেকে বঞ্চিত পুরো বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলবাসী।
বাবুগঞ্জ উপজেলার পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহজাহান খান বলেন, ‘দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই সুগন্ধা নদীর এ ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের তীব্রতা যে হারে বাড়ছে, তাতে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ভাঙনের কবলে পড়বে বিমানবন্দরের সীমানাপ্রাচীরসহ রানওয়ে।’
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মুন্না জানান, বিমানবন্দর সংলগ্ন নদী তীরে পাইলিং করে জিও ব্যাগও ফেলা হয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। সেই পাইলিং ও জিও ব্যাগ এখন নদীগর্ভে। নদী ভাঙনের এ বিষয়টি নিয়ে মিডিয়ায় বহু লেখালেখি এবং আন্দোলন সংগ্রাম হলেও কোনো লাভ হয়নি।
বরিশাল বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক আ. রহিম তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বিমানবন্দরে উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। তবে সীমানাপ্রাচীর ও নদী ভাঙনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে, সুগন্ধা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়া বরিশাল বিমানবন্দরের রানওয়ে ও অরক্ষিত বিমানবন্দর (চলতি বছরের ১৯ মার্চ শনিবার) পরিদর্শনে আসেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। এ সময় তিনি জানান, বরিশাল বিমানবন্দরকে সর্বাধুনিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার পাশাপাশি নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ এর রানওয়ে ও সীমানাপ্রাচীরের উন্নয়ন কাজে শিগগিরই হাত দেওয়া হবে। যাতে বড় আকারের বোয়িং ৭৭৭ বিমান এই বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারে। সেজন্য রানওয়েকে আরও সাড়ে ৭০০ ফুট সম্প্রসারণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। এছাড়াও বরিশাল বিমানবন্দরে যেন ২৪ ঘণ্টা বিমান ওঠানামা করতে পারে, সেই লক্ষ্যে কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন বিমান প্রতিমন্ত্রী।
সূত্র ঃঢাকা মেইল