বরিশালে সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি জমজমাট গরিবের মার্কেট খ্যাত হাজী মো. মহসিন হকার্স মার্কেট ও বহুমুখী সিটি মার্কেট। তবে এ মার্কেটের সিংহভাগ ক্রেতা নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন। হাজী মো. মহসিন হকার্স মার্কেটে কিছু মেয়েদের পোশাকের দোকান থাকলেও বহুমুখী সিটি মার্কেটে অধিকাংশ দোকানেই বিক্রি হচ্ছে ছেলেদের পোশাক।
সোমবার (২৫ এপ্রিল) নগরীর হাজী মো. মহসিন হকার্স মার্কেট ও বহুমুখী সিটি মার্কেট ঘুরে দেখা যায় নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। মার্কেটের প্রতিটি দোকানে ছেলেদের নজর কাড়তে ডলগুলোর গায়ে পরিয়ে রাখা হয়েছে বাহারি রঙ ও ডিজাইনের জিন্স প্যান্ট, গ্যাবার্ডিন প্যান্ট, শার্ট, টি-শার্ট, ফতুয়া, কাতুয়া ও পাঞ্জাবি। মার্কেটের ব্যবসায়ীরা ক্রেতা ছাড়া যেন কারও সাথে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে না।
হকার্স মার্কেটের কাশবন ফ্যাশন হাউসের প্রোপাইটর মো. আল-আমিন ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘১৫ রমজানের পর থেকেই তাদের বেচাবিক্রি শুরু হয়েছে। ঈদের জন্য এক চালান মাল এনেছিলাম। তার অধিকাংশ মাল শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ২৪ এপ্রিল আরেক চালান মালের অর্ডার দেওয়া হয়েছে।’
তিনি জানান, তার দোকানে ৫০০ টাকা থেকে শুরু ১২৫০ টাকা পর্যন্ত জিন্স প্যান্ট বিক্রি হয়। গ্যাবার্ডিন প্যান্ট ৫০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের পাঞ্জাবি প্রকারভেদে ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে এক ১৯০ টাকা পর্যন্ত শার্ট ও ৪০০ টাকা থেকে সাড়ে ৬০০ টাকা দামের গেঞ্জি রয়েছে তার দোকানে।
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য দোকানের তুলনায় তার দোকানে শার্ট প্যান্টের দাম কম হওয়ায় ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দে কিনতে পারছেন।
মহসিন মার্কেটে ঈদের পোশাক কিনতে আসা কলেজ ছাত্র আকাশ বলেন, শুধু ঈদের সময় না, এই মার্কেট থেকে সারা বছরই শার্ট প্যান্ট কেনা হয়। এখানের দোকানগুলোতে দরদাম করেও টাকা কম দেওয়া যায়। তার দাবি, এই সব দোকানে যেসব মাল পাওয়া যায় তা বড় বড় ব্রান্ডের শপগুলোতেও একই জিনিস পাওয়া যায়।
মহসিন মার্কেটের লেডিস পোশাক বিক্রেতা ছনিয়া গার্মেন্টসের প্রোপাইটর সোহেল খান ঢাকা মেইলকে জানান, তার দোকানে ১২ শ’ টাকা থেকে শুরু করে আড়াই হাজার টাকায় মেয়েদের বিভিন্ন ডিজাইনের ড্রেস পাওয়া যায়। পুষ্পা, কেজিএফ ও কাঁচা বাদামসহ ড্রেসের বাহারি নামের বিষয়ে এ বিক্রেতা বলেন, এগুলো কোনো কোম্পানির দেওয়া নাম নয়, এসব ড্রেসের নাম ক্রেতাদের নজর কাড়তে বিক্রেতারা দিয়ে থাকেন।
মহসিন মার্কেটে তিশা নামের এক ক্রেতা বলেন, চকবাজার, কাটপট্টি, গির্জা মহল্লায় বড় বড় শোরুমগুলোতে ঘুরে দেখেছি। ওইসব শোরুমের পোশাক আর এখানের পোশাক প্রায় একই। কিন্তু দামে বিশাল ফারাক। এখানে ড্রেসের দাম অনেক কম হওয়ায় এখান থেকেই কিনছি।
এদিকে একইভাবে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায় বরিশাল বহুমুখী সিটি মার্কেটের ব্যবসায়ীদের। মার্কেটের প্রতিটি দোকানে যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সকাল থেকে গভীর রাত অবধি ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর সিটি মার্কেট। ব্যবসায়ীরা দম ফেলার ফুরসত না পেলেও এই ব্যস্ততা আর বেচাকেনায় তারা অনেকটাই খুশি।
সিটি মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা প্রাইমারি স্কুলের এক অফিস সহকারী সুজন বলেন, প্রতি বছর এখান থেকেই কেনাকাটা করি। নিজে কেনার পাশাপাশি ছোট ভাই ও ভাগিনার জন্য কিনেছি। তিনি বলেন, বাইরের শপিং মলগুলোর পোশাক আর এখানের মার্কেটগুলোর পোশাক একই। শুধু মার্কেটের ভিন্নতা।
সিটি মার্কেটের আবরার আহমেদ নামের এক ব্যবসায়ী ঢাকা মেইলকে বলেন, ২০ রমজানের পর থেকে বেচা বিক্রি বেড়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি এখন এতটাই ব্যস্ত সময় যাচ্ছে যে ইফতারির সময় ছাড়া এক মিনিটও সময় নেই হাতে। এমনকি পরিবারের সদস্যদের ফোনও ধরার সুযোগ নেই।
এই ব্যবসায়ী জানান, তার দোকানে ছেলেদের ও বাচ্চাদের পছন্দের সবধরনের পোশাক পাওয়া যায়। বাচ্চাদের ফুল প্যান্ট ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে ও বাচ্চাদের গেঞ্জি, শার্ট ও পাঞ্জাবি পাজামা পাওয়া যাচ্ছে ৫০০ টাকার মধ্যে। তাছাড়া বড়দের জন্য সাড়ে ৪০০ টাকা থেকে শুরু ১১ শ’ টাকা পর্যন্ত জিন্স প্যান্ট, বিভিন্ন ধরনের পাঞ্জাবি ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার টাকা পর্যন্ত ও ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০০-৯০০ টাকা পর্যন্ত শার্ট রয়েছে তার দোকানে।