• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও নারীর টানে টানে ঘর মুখো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ২৯, ২০২২, ১৮:০৩ অপরাহ্ণ
ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও নারীর টানে টানে ঘর মুখো মানুষ

মোঃ হুমায়ুন কবির
স্টাফ রিপোর্টার

ঈদের আনন্দ পরিবার সদস্যদের সাথে ভাগাভাগি করতে শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে ছুটছেন মানুষ। তবে খরচ কমাতে অনেকেই বাহন হিসেবে বেছে নিচ্ছেন ঝুঁকিপূর্ণ ট্রাক ও পিকআপ। তীব্র গরম ও রোদকে উপেক্ষা করেই ছাদবিহীন খোলা ট্রাকে যাত্রা শুরু করেছেন গ্রামমুখী মানুষেরা।শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে সাভারের নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে দেখা গেছে এমন চিত্র। এদিকে বাইপাইল এসএ পরিবহনের সামনে ও শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীর অপেক্ষায় ট্রাক ও পিকআপের দীর্ঘ সাড়িও বেশ চোখে পরার মত।বাইপাইল এলাকায় দেখা যায়, কাঠফাটা রোদে বিভিন্ন বয়সের প্রায় ৩৫জন নারী পুরুষ ছোট্ট একটি পিকাআপে উঠে অসহনীয় রোদের তাপ আর ভ্যাপসা গরমে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে আছেন। এরা সবাই নাটোরের যাত্রী। পিকআপের চালক আরো ৪/৫জন যাত্রির অপেক্ষায় বিলম্ব করছে। রোদ্রের তাপে আর তর সইছে না যাত্রীদের। কান্নাকাটি করছে ছোটছোট বাচ্চারা।ট্রাকটির যাত্রী আমেনা বলেন, বেতন-বোনাস অর্ধেক পেয়েছি, এই টাকা দিয়ে বাড়ির সবার জন্য কেনাকাটা করেছি। এখন যদি বাড়ি যেতে গাড়ি ভাড়া লাগে আট’শ থেকে এক হাজার টাকা তাহলে ঈদের দিন সেমাই চিনি কিনবো কীভাবে? এজন্য একটু কষ্ট হলেও তিন’শ টাকায় ট্রাকে করে নাটোর গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিট্রাক চালক ইব্রাহিম জানান, সে নাটোর থেকে সবজি কাঁচামাল নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন। এই মূহুর্তে ঈদের আগে আবার মালামালের ফিরতি ট্রিপ পাওয়া যাবে না। তাই কিছু বাড়তি আয়ের আশায় ঈদযাত্রীদের নিয়ে রওনা করছেন তিনি। তেল খরচসহ অন্যান্য খরচ দিয়ে অল্প কিছু লাভ থাকবে তার।এদিকে প্রতি ঈদ মৌসুমের মত এবারো যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া আদায় করছেন বাস কাউন্টারসহ বাসের সুপারভাইজাররা। ফলে খরচ কমাতেই রোদ আর ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে ট্রাকের বগিতে ঠায় দাঁড়িয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গ্রামের বাড়ির পথে যাত্রা শুরু করেছেন অল্প আয়ের মানুষেরা। তবে ঈদকে সামনে রেখে বাস ভাড়া বেশি হওয়ায় কষ্ট ও ঝুঁকি নিয়েই ট্রাকে রওনা দিচ্ছেন বলে দাবি যাত্রীদেরবাইপাইল বাস কাউন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এবার ঈদে আশুলিয়ার বাইপাইল থেকে বগুড়ার যেতে ৮ শত টাকা ১ হাজার টাকা , রংপুর ১২শ থেকে ১৫’শ, গাইবান্ধা ১২শ থেকে ১৩শ টাকা করে ভাড়া নিচ্ছেন বাস কাউন্টার গুলো।
এ ব্যাপারে সাভার হাইওয়ে থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, “ট্রাকে যাত্রীবহন সম্পূর্ণ অবৈধ। আমাদের টিম কাজ করে চলছে। তারা যেখানেই এমন দেখতে পাচ্ছেন সেখানেই বাঁধা দিচ্ছেন। এমন গাড়ি ডাম্পিংও করা হচ্ছে। আমি নিজেও সড়কে দায়িত্ব পালন করছি। আমাদের চোখের সামনে এমন হতে দিচ্ছি না।”