• ২৬শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গলাচিপায় স্বামী হত্যার অভিযোগে নববধূ গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ২৪, ২০২২, ১৪:৩৫ অপরাহ্ণ

সজ্ঞিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি গলাচিপায় স্বামীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নববধূ মিম আক্তারের (১৯) বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দুপুরে উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামে। নিহত ফারুক মোল্লা (২৭) ওই গ্রামের রহিম মোল্লার ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত নববধূ মিমকে প্রধান আসামী করে তিনজনের বিরুদ্ধে গলাচিপা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নববধূ মিম আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ এমআর শওকত আনোয়ার ইসলাম। ফারুকের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। গলাচিপা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত চার মাস আগে নিহত ফারুকের সাথে বাকেরগঞ্জ উপজেলার নেয়ামতি ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের মিম আক্তারের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। ফারুক ঢাকাতে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন। গত ২০ মে ফারুক তার শ্বশুর বাড়ি মহেশপুর এলাকায় বেড়াতে যান। সেখান থেকে স্ত্রী মিমকে নিয়ে নিজ বাড়ি গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামের বাড়ি আসেন। বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী (ফারুক-মিম) অধিকাংশ সময়ই দরজা বন্ধ করে ঘরের মধ্যে থাকতো। কিন্তু সোমাবার দুপুরে মিম তার বড় বোন একই গ্রামের রিয়া বেগমকে মোবাইল করে জানান, ফারুক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ খবর পেয়ে বোন রিয়া এসে ফারুকের নিথর দেহ দেখে প্রতিবেশীদের খবর দেয়। পরে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক এসে ফারুককে মৃত ঘোষণা করেন। এতে মিম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং মিমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে। এতে মিম কখনও বলে ফারুক এক পাতা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেয়েছে আবার কখনও বলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তার বিভ্রান্তিকর এমন তথ্যে মিমমের উপর পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে এ ঘটনায় ফারুকের বাবা মো. রহিম মোল্লা বাদী হয়ে নববধূ মিমকে প্রধান আসামী করে মিমের বড় বোন ও ভগ্নিপতিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গলাচিপা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ প্রসঙ্গে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ এমআর শওকত আনোয়ার ইসলাম বলেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামী নববধূ মিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পলাতক অন্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।