বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
বাকেরগঞ্জের রঙ্গশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বসির সিকদারের বিরুদ্ধে ওয়ারিশ সনদ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্বামীর মৃত্যুর পর তার স্ত্রীকে ওয়ারিশ সনদ দিয়ে পরবর্তীতে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহন করে বিয়ের কাবিননামা না থাকা সত্বেও অন্য একজন নারীকে মৃতের দ্বিতীয় স্ত্রী সাজিয়ে ওয়ারিশ সনদ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার ১২ নং রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের আউলিয়াপুর গ্রামের মৃত রুস্তুম আলী হাওলাদারের পুত্র মোঃ দুলাল হাওলাদার পটুয়াখালী সিভিল সার্জন অফিসে এ্যাম্বুলেন্সের চালক পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০২০ সালের ২৯ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন।মৃত্যুর পর তার চাকুরীর পেনশনের টাকা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পেতে স্ত্রী শামিমা বেগম ২০২০ সালের ৪ জুন রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত একটি ওয়ারিশ সনদ গ্রহন করেন। যেখানে তিনিসহ তার একমাত্র পুত্র মোঃ সুমন হাওলাদার, তিন কন্যা রোমানা আক্তার, ইসরাত জাহান সুমনা ও নুসরাত জাহান লিজাকে ওয়ারিশ দেখানো হয়।
অথচ ২০২০ সালের ৬ আগস্ট রঙ্গশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বসির উদ্দিন সিকদার ঢাকা ডেমরা থানার ভুগাইর পূর্বপাড়া মহাকাশ স্কুল রোড নিবাসী মোছাঃ হামিদা বেগম নামের একজনকে মৃত মোঃ দুলাল হাওলাদারের দ্বিতীয় স্ত্রী দেখিয়ে দ্বিতীয়বার ওয়ারিশ সনদ প্রদান করেন। যাতে মৃত মোঃ দুলাল হাওলাদারের স্ত্রী ও ৪ সন্তানদের সাথে মোছাঃ হামিদা বেগম ও তার কন্যা র্ঝনা আক্তার সেতুকেও ওয়ারিশ দেখানো হয়।
বিস্ময়ের বিষয় মোছাঃ হামিদা বেগমের জাতীয় পরিচয় পত্রে স্বামীর নাম দুলাল হাওলাদার এবং তার কন্যা র্ঝনা আক্তার সেতুর জাতীয় পরিচয় পত্রে পিতার নাম মোঃ জুলহাস হাওলাদার উল্লেখ রয়েছে। তাছাড়া তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কপোরেশন ও রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দ্বিতীয় বিয়ে করেননি বলে একটি প্রত্যায়ন পত্র নিয়েছেন। যদি তিনি দ্বিতীয় বিয়ে নাই করেন তাহলে তার কন্যা র্ঝনা আক্তার সেতুর পিতার নামের স্থলে মোঃ জুলহাস হাওলাদারের নাম এলো কোথা থেকে।
শামিমা বেগমের স্বামী মৃত মোঃ দুলাল হাওলাদারের ড্রাইভিং লাইসেন্স, চাকুরীতে যোগদান পত্র, চেয়ারম্যানের পরিচয়পত্র, স্কুল পাশের সাটিফিকেট, সরকারি গাড়ি চালক সমিতির পরিচয় পত্র, ডিউটি পাশের কাগজে তার নাম মোঃ দুলাল হাওলাদার লেখা রয়েছে। কোন কাগজ পত্রেই তার নাম শুধু দুলাল হাওলাদার লেখা নেই। তাহলে কি করে মোছাঃ হামিদা বেগম শামিমা বেগমের স্বামী মোঃ দুলাল হাওলাদারকে স্বামী বলে দাবি করেন। আর চেয়ারম্যান বসির সিকদার তিনিবা কোন কাগজের বলে জনৈক হামিদাকে দ্বিতীয়বার মৃত মোঃ দুলাল হাওলাদারের স্ত্রী দেখিয়ে ওয়ারিশ সনদ দিলেন।
শামিমা বেগন জানান, তিনি তার স্বামী মৃত মোঃ দুলাল হাওলাদারের একমাত্র স্ত্রী। তার স্বামী কখনো দ্বিতীয় বিয়ে করেননি। এমর্মে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেয়ার পরেও রঙ্গশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বসির সিকদার ওই মহিলার কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহন করে জালজালিয়াতির মাধ্যমে দ্বিতীয়বার ওয়ারিশ সনদ প্রদান করেছেন। এ বিষয়ে তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
অভিযুক্ত রঙ্গশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বসির সিকদার অভিযোগ অস্বীকার করে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে বিস্তারিত কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।