মোঃ আসাদুল ইসলাম
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
প্রসঙ্গ যখন সুন্দরগঞ্জ আ: মজিদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা হস্ত ও কুটির শিল্প মেলা। শেষ হয়েও হয়নি শেষ এই আমার বাংলাদেশ, ফেসবুক জুড়ে আলোচনার ঢল, ধন্যবাদ জানাই আওয়ামীলীগ ও উপজেলা প্রশাসনকে। ওপর দিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপিকে।আদৌও কি হয়েছে বন্ধ লটারি বানিজ্য।নাকি চলছে বদ্ধ পরিকরে, লোক চক্ষুর অন্তরালে,প্রশ্ন থেকেই গেল সাধারণ মানুষের জনমনে।
গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা হস্ত ও কুটির শিল্প মেলার নামে চলছে অবৈধ লটারি বাণিজ্য। মুজিব শতবর্ষের ছবিও লাগিয়ে দিয়েছেন টিকিটের গায়ে। নির্বিঘ্নেতায় চালিয়ে যাচ্ছে রমরমা লটারি বানিজ্য। তবে মেলায় র্যাফেল ড্র আয়োজনের কোনো অনুমোদন না থাকলেও লটারির নামে প্রতারণার ফাঁদ পেতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র।
এবিষয়ে স্থানীয়রা জানান, প্রতিরাতেই মেলার মূল মঞ্চে চলে র্যাফেল ড্র। সরাসরি দেখানো হয় স্থানীয় ফেসবুকে পেজেও। মাত্র ২০ টাকায় গাড়ি, মোটরসাইকেল, রেফ্রিজারেটর, স্বর্ণালংকারসহ নানা লোভনীয় পণ্যের প্রচারণায় চলছে টিকিট বিক্রি। লোভে পড়ে দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ প্রতারিত হলেও আয়োজকদের দাবি, প্রশাসনের অনুমতিতেই চলছে মেলা।
যতই দিন যাচ্ছে, ততই টিকিট বিক্রি বাড়ছে। ক্রেতাদের বড় অংশই হতদরিদ্র, রিক্সা ভ্যান চালক, দিনমজুর এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।টিকিট কিনে কিছু না পাওয়ার বিষয়ে গ্রামের গৃহবধূ বলেন, সোনার গহনার লোভে তিনটি হাঁস বিক্রি করে টিকিট কেটেছিলাম অথচ আমার কপালে গহনা তো দূরে থাক, কিছুই বাঁধেনি। প্রশাসনিক ঝামেলা আসলেও,অভিনব কায়দায় বিক্রি হচ্ছে টিকিট, ঠিক যেন ঘরে থেকে বাহিরের বাতাস পেলে বাহিরে না যাওয়ার মতো অবস্থা।
গ্ৰামের মহিলারা বলেন,মেলা শুরুর পর থেকেই কয়েকদিনে বাড়ির পুরুষ সদস্যরা বাজার করা বন্ধ করে দিয়েছে। রিকশা চালক দিনমজুর স্বামী সারাদিনে যা আয় করেন, তাই লটারির টিকেট কিনে শেষ করে আসেন। বার বার বলেও তাকে বোঝাতে পারছি না। বাচ্চাদের নিয়ে খুবই কষ্টে পড়েছি। গরিব ঠকানোর এ মেলা বন্ধ করতে প্রশাসনের কাছে দাবিও জানান তারা।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রতিদিন প্রায় ১৫/২০ লক্ষ টাকার টিকিট বিক্রি করে র্যাফেল ড্র কর্তৃপক্ষ। তার সিংহভাগ টাকা বাটোয়ারা হচ্ছে জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের মধ্যে। এক্ষেত্রে প্রশাসনও রহস্যজনক কারণে নীরব রয়েছে।
তবে মেলায় লটারি বা র্যাফেল ড্র পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি জানিয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক অলিউল রহমান এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।