• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গৌরনদীতে অপচিকিৎসায় শয্যাশয়ী গৃহবধু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ৮, ২০২২, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ

গৌরনদী প্রতিনিধি \ চিকিৎসকের পছন্দ করা ডায়গনষ্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষার পর দুইজন চিকিৎসকই জানিয়েছিলেন গৃহবধূর জরায়ুতে ডিম আকারের টিউমার রয়েছে। যা দ্রæত অপারেশন করা না হলে রোগীকে বাঁচানো যাবেনা।
দুইজন চিকিৎসকের একই রির্পোটে আতংকিত হয়ে সম্প্রতি সিজার অপারেশন করা গৃহবধূর শরীরে পূর্ণরায় অস্ত্রোপাচার করা হয়। কিন্তু জরায়ু অপারেশনের পর কোন টিউমারের অস্তিত্ব মেলেনি। ফলে পর পর দুইবার অপারেশনে শারিরিকভাবে গুরুত্বর অসুস্থ্য হয়ে এখন শষ্যাশয়ী রয়েছেন ওই গৃহবধূ। বিষয়টি
সর্বত্র ছড়িয়ে পরলে দুইজন চিকিৎসকের অপচিকিৎসা ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের রির্পোট নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে বিষয়টি ধামাচাঁপা দিতে গৃহবধূকে অপারেশন করা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ বিজয়পুর এলাকার শারমিন ক্লিনিকের এবং পরীক্ষা করা এবি সিদ্দিক ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের পক্ষ থেকে ওই দুই চিকিৎসকের পক্ষালম্বন করে রোগীর স্বজনদের ম্যানেজ করতে কয়েক দফায় বৈঠক করা হয়েছে। রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন, ওই বৈঠকে উপস্থিত ডাঃ বিপুল কুমার বিশ্বাস নামের একজন চিকিৎসক পুরো ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়ে অপারেশনের সম্পূর্ণ খরচ দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।
আগৈলঝাড়া উপজেলার পূর্ব পয়সরহাট গ্রামের সোহাগ মিয়ার স্ত্রী সুমি আক্তার (২৫) অভিযোগ করেন, অতিসম্প্রতি তার গাইনী সমস্যা দেখা দিলে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ বিপুল কুমার বিশ্বাসের স্মরনাপন্ন হন। তিনি শারিরিক পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর তার জরায়ুতে টিউমার হয়েছে বলে জানিয়ে বেশ কিছু ওষুধ লিখে দেন। কিন্তু ওষুধ সেবনের পর কোন উন্নতী না হওয়ায় পূনরায় ডাঃ বিপুল বিশ্বাসের স্মরনাপন্ন হন। এসময় সে (ডাক্তার) টিভিএস নামের একটি পরীক্ষা দিয়ে গৌরনদীর এবি সিদ্দিক ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে সেখানে ডাঃ মনিকা বিশ্বাসের মাধ্যমে করাতে বলেন। তার কথা মতো গত ২০ মে ওই ডায়াগনষ্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করানো হয়।
গৃহবধূ সুমি আক্তার আরও জানান, পরীক্ষার পর ডাঃ মনিকা বিশ্বাস জানিয়েছেন তার (সুমি) জরায়ুতে ডিম আকারের বড় টিউমার রয়েছে। যা দ্রæত অপারেশন করাতে হবে। পরবর্তীতে রিপোর্ট নিয়ে ডাঃ বিপুল বিশ্বাসের কাছে আসলে তিনি (ডাঃ বিপুল) বলেন, দ্রæত অপারেশন করানো না হলে তাকে (সুমি) বাঁচানো সম্ভব হবেনা।
সুমি আক্তারের স্বামী সোহাগ মিয়া বলেন, গত নয় মাস পূর্বে আমার স্ত্রীর সিজার অপারেশন হয়েছে। এরমধ্যে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের রির্পোট দেখে দুইজন চিকিৎসকের একই কথায় প্রথমে আমরা ভয় পেয়ে যাই। পরবর্তীতে অপারেশন করানোর সিদ্ধান্ত নেই। গত চারদিন পূর্বে ডাঃ বিপুল কুমার বিশ্বাস গৌরনদীর শারমিন ক্লিনিকে অপারেশন করেন।
সোহাগ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমার স্ত্রীর অপারেশন করার পর ডাঃ বিপুল কুমার বিশ্বাস আমাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে জানিয়েছেন কোন টিউমারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সেসময় আমার স্ত্রী অপারেশন থিয়েটারে থাকায় কোন প্রতিবাদ করিনি। এ অপচিকিৎসা ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ভুল রির্পোটের ঘটনার তিনি (সোহাগ) সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করেছেন।
অপারেশনের পর টিউমার না পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে ডাঃ বিপুল কুমার বিশ্বাস বলেন, রোগীর অবস্থা এবং ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের রিপোর্ট দেখে টিউমার সনাক্ত করে অপারেশন করা হয়েছে। ডাঃ মনিকা বিশ্বাস বলেন, অনেক সময় নামের জায়গায় ভুল হতে পারে। এতে একজন রোগীর রিপোর্ট আরেকজনের কাছে চলে যেতে পারে। তাই রিপোর্ট দেখে বিস্তারিত বলতে পারবো।
গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলহাজ্ব ডাঃ মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে তদন্ত করা হবে।