হোসাইন আমির,কুয়াকাটা প্রতিনিধি
কুয়াকাটা তুলাতলি হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার না থাকায় ফাঁস দেওয়া রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে এমন অভিযোগ করেন স্বজনরা। কুয়াকাটা আলিপুরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায ৬টার দিকে শান্তা (১৪) নামে পরিবারের অজান্তে আত্নহত্যা করে তাৎক্ষণিক পরিবারের লোকজন জীবিত ভেবে শান্তাকে উদ্ধার করে কুয়াকাটা ২০ শষ্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে আসেন তখন সন্ধ্যা ৭টা কিন্তু তখন হাসপাতালে কর্তব্যরত কোনো ডাক্তার ছিলেন না।
দীর্ঘ ২ঘন্টা অপেক্ষার পরে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মোটরসাইকেল যোগে ডা. মানিকুল আলম এসে শান্তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন তখন রাত ৯টা ২০ মিনিট।
শান্তার ভাই আবু হানিফ বলেন আমার বোনকে নিয়ে আসার সাথে সাথে যদি ডাক্তার পেতাম এবং চিকিৎসা করাতে পারতাম আমার বোনকে বাঁচানো যেত। আড়াই ঘণ্টা পর ডাক্তার আসার কারণে আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শান্তার লাশ পটুয়াখালী মর্গে প্রেরণ করেন মহিপুর থানা পুলিশ। এ প্রসঙ্গে উপস্থিত ডা. মানিকুল আলম বলেন, এ হাসপাতালে তিনজন কর্তব্যরত ডাক্তার থাকলেও দুইজন ছুটিতে রয়েছে। আজকে বৃহস্পতিবার দায়িত্বরত ছিলেন ডা. হাসিবুল ইসলাম নাহিদ। তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে কলাপাড়া হাসপাতালে চলে যান।
পরে আমি কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিন্ময় হাওলাদারের নির্দেশে এখানে এসে দেখি শান্তা মারা গেছে।
এবিষয়ে এই হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাবিবুল ইসলামের মুঠো ফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এপ্রসঙ্গে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিন্ময় হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, কুয়াকাটা হাসপাতালে তিনজন দায়িত্বরত চিকিৎসক থাকলেও দুইজন ছুটিতে রয়েছেন। আর দায়িত্বরত ডা. হাসিবুল ইসলাম নাহিদ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় কেউ ছিল না। আমি খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ডা. মানিকুল ইসলামকে পাঠিয়েছি।
মহিপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. হাফিজুর রহমান জানান, আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথে হাসপাতালে চলে আসি কিন্তু এসে কোনো ডা. না পেয়ে দুই ঘন্টা অপেক্ষা করি, তারপরে ডা. এসে শান্তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এখন আমরা তাঁকে থানায় নিয়ে পরবর্তী আইনানুসারে ব্যবস্থা নিবো।