• ২৬শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আসুন সাশ্রয়ী হই, ধৈর্যশীল হই।

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুলাই ১১, ২০২২, ১৭:২২ অপরাহ্ণ
আসুন সাশ্রয়ী হই, ধৈর্যশীল হই।

মোঃ হুমায়ুন কবির
সাভার প্রতিনিধি:

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৫৩০০০ কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দেয় সরকার
ভর্তুকি না দিলে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম কত হতে পারে ভাবুন!
বাংলাদেশের বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় হয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের ভর্তুকিতে। আন্তর্জাতিক বাজার হতে জ্বালানী কিনলেও সেই দামে দেশের গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে না সরকার। কারন তাতে সাধারন মানুষের ব্যয় বহুলাংশে বেড়ে যাবে এবং অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার প্রবণতাও বাড়বে। সরকার আসলে কত টাকা ভর্তুকি দেয়? এমন প্রশ্ন আমাদের অনেকের মনেই আসে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৬ জুলাই ভর্তুকির বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। সে হিসেব অনুযায়ী বিদ্যুৎ খাতে মোট ভর্তুকি ২৮ হাজার কোটি টাকার বেশি আর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি-তে ভর্তুকি দেওয়া হয় ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। সরকার বিভিন্ন উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেও একটি নির্দিষ্ট দামে বিক্রি করে যা সবচেয়ে সস্তা বিদ্যুতের উৎপাদন মূল্যের অর্ধেকেরও কম। যেমন-
– এলএনজি প্রতি কিউবিক মিটার ক্রয় মূল্য ৫৯.৬০ টাকা, ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয় ১১ টাকা
– নবায়নযোগ্য জ্বালানি দ্বারা প্রতি ইউনিট উৎপাদিত বিদ্যুৎ এর উৎপাদন ব্যয় ১২.৮৪ টাকা (কি.ও/ঘন্টা)। কিন্তু ভোক্তারা পান মাত্র ৫.০৮ টাকায়
– ফার্নেস অয়েল প্রতি একক উৎপাদন ব্যয় ১৭.৪২ টাকা, বিক্রয় ৫.০৮ টাকা
– ডিজেলে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ৩৬.৮৫ টাকা কিন্তু ভোক্তারা দেন ৫.০৮ টাকা,
– কয়লা হতে প্রতি ইউনিট উৎপাদিত বিদ্যুতে ব্যয় হয় ১২.০৭ টাকা, সেখানে ভোক্তারা দেন ৫.০৮ টাকা,
এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকার শুধু বিদ্যুতের সহজলভ্যতা নিশ্চিতের জন্য ব্যয় করে। যাতে দেশের প্রতিটি মানুষ বিদ্যুতে সুবিধা নিতে পারে। আলো থেকে যাতে কাউকে বঞ্চিত না হতে হয়, নাগরিক সুবিধা, চিকিৎসা সেবার মতো প্রয়োজনীয় সেবা পেতে যাতে মানুষকে আরেকটু কম টাকা খরচ করতে হয়।
শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক সংকট, মহামারী, মন্দা সত্ত্বেও এই সরকার কখনো তার মূল আদর্শ থেকে নড়েনি। শেখ হাসিনা শত প্রতিকূলতা সত্বেও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর পাশে থাকা, তাঁর নির্দেশ বাস্তবায়ন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।