• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোলায় খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ।। বাদীকে হুমকির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুলাই ২০, ২০২২, ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ভোলায়  খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ।।  বাদীকে হুমকির অভিযোগ

মোঃ ইসমাইল ভোলা।।

ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের কুঞ্জপট্টি গ্রামের বৃদ্ধা জয়তুন বিবি হত্যা মামলার বাদীকে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। মামলার বাদী ওই বৃদ্ধার ছেলে মো. বিল্লাল হোসেন এ দাবি করে। মামলার মূল হোতা সাবেক ইউপি সদস্য কাবিলসহ পাঁচ আসামী জেলে থাকলেও তাঁর বড় ছেলে আসাদ বাদী পক্ষকে নানা ভাবে ভয়ভিতি দেখাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার (১৯জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ভোলা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনের সড়কে হত্যা মামলায় আটক আসামীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধনে এমন দাবি করেন নিহতের ছেলে বিল্লাল।
ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধনে নিহতের ছেলে ও আত্মীয় স্বজনসহ প্রায় দুই শতাধিক এলাকাবাসী অংশগ্রহন করেন। মানববন্ধন শেষে তারা জয়তুন বিবির খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহতের বড় ছেলে মো. বিল্লাল, ছোট ছেলে মো. হেলাল ও এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন মো. আব্দুস সাত্তার পাটওয়ারী, নাহার বেগম, আকতার হোসেন প্রমূখ।

নিহতের ছেলে বিল্লাল অভিযোগ করে বলেন, তাঁর মাকে হত্যা করার জন্য ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি কাবিল তাঁর ছোট ছেলে সোহেলকে দিয়ে তাদের বাড়িতে বাসা ভাড়া নেয়। কাবিল মেম্বারের অত্যাচারে ওই এলাকার মানুষ অতিষ্ট। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় হত্যা, ধর্ষণ ও চাদাবাজিসহ বেশ কয়েকটি মামলাও রয়েছে। এলাকার মানুষ কাবিলের ভয়ে মুখ খোলার সাহস পায় না। কারন তাঁর অপকর্মের প্রতিবাদ করলেও তাদের ওপর অত্যাচার চালায় কাবিল ও তাঁর ছেলেরা। বর্তমানে তাঁর ছেলে হোসেলসহ কাবিল জেল হাজতে থাকলেও বড় ছেলে আসাদ বাহিরে থেকে গোপনে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নানা ভাবে তাদেরকে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। কাবিল জেল থেকে বের হলে তাদেরকে দেখে নিবে বলেও হুমকি দিচ্ছে আসাদ। তাই তাঁরা স্থানীয়দের নিয়ে কাবিলসহ হত্যার সাথে জড়িত সকলের ফাঁসির দাবি জানান।

উল্লেখ্যঃ গত ১০ জুলাই ঈদের দিন দিবাগত রাতে ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের কুঞ্জপট্টি গ্রাম থেকে জয়তুন বেগম নামের এক বৃদ্ধাকে হাত-পা বাঁধে শ^াসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরের পুলিশ ওই বৃদ্ধার ঘর থেকে লাশ উদ্ধর করে। উদ্ধারের পর থেকেই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ ওই এলাকার সোহেল ও সোহেলের স্ত্রী নাজমাকে আটক করে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হত্যার মূল হোতা সোহেলের বাবা কাবিল ও ভাড়াটে খুনি আব্দুল মান্নান এবং মো. রবিউলকে আটক করে। গত ১৫জুলাই আটক আসামীদের জেলহাজতে প্রেরণ করেন। তাদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কারের লোভেই এ হত্যা কা- হয়েছে। একই সঙ্গে জয়তুন বেগমের ঘর থেকে নেয়া স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা আরো জানায়, নিহত জয়তুন বিবির ঘরে সোহেলের বাবা কাবিল মেম্বরের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এবং জয়তুন বিবির ঘরের স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা পয়সার বিষয়ে জানা ছিল কাবিলের। ওই স্বর্ণালঙ্কার ও টাকার জন্য গত ১৫দিন পূর্বে কাবিল মেম্বার তাঁর ছেলে সোহেল ও ছেলে বউ নাজমাকে বৃদ্ধার বাড়িতে পাঠায়। কাবিলের পরামর্শে ছেলে সোহেল মান্নান ও রবিউল নামের আরো দুইজনকে ভাড়া করে। ঈদের দিন সন্ধ্যার পর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাবিল, সোহেল ও নাজমা জয়তুন বিবির বাসায় যায়। বাসার ভিতরে গিয়ে বৃদ্ধাকে একা পেয়ে তাঁর হাত-পা ও মুখ ওড়ানা দিয়ে বেধে ফেলে। পরে ভাড়া করা খুনি মান্নান ও রবিউল একটি অটোরিকশা নিয়ে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে বৃদ্ধার ছটফট করলে মান্নান ও রবিউল তার হাত-পা চেপে ধরে। আর কাবিল, সোহেল ও নাজমা জয়তুন বিবির শরীরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও ঘরের শোকেস ও আলমারী ভেঙে নগদ টাকা নিয়ে যায়।

ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার জানান, হত্যার সাথে জড়িত সকল আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামী সোহেলের স্বীকারোক্তি মোতাবেক জয়তুন বেগমের ব্যবহৃত এক ভড়ি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও আসামী রবিউলের কাছ থেকে নগদ দুই হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকা-ের মূল আসামী কাবিল একজন চিহ্নিত ক্রিমিনাল। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও চাদাবাজিসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। এছাড়াও যদি বাদী পক্ষেকে কেউ হুমকি-ধামকি দিয়ে থাকলে আমাদের কাছে অভিযোগ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।