নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বেতাগীতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি খাল দখল করে মাছ চাষ করার অভিযোগ উঠেছে। এতে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ডুবে আছে শত শত একর কৃষি জমির বীজতলা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিজীবি মানুষ। দীর্ঘদিন যাবৎ উপজেলার সদর ইউনিয়নের লক্ষীপুরা এলাকায় সরকারি চারটি খালের মোহনায় বাঁধ দিয়ে ঘের তৈরী করে মাছ চাষ করে আসছেন বেতাগী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি মোঃ হুমায়ুন কবির খলিফা ও তার ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির খলিফা।এমন ঘটনায় প্রশাসন বলছেন দ্রুত খালের বাঁধ অপসারণকরা হবে, এদিকে ওই ইউপি চেয়ারম্যান বলছেন আমাদের এই মাছ চাষের ব্যাপারে উপজেলার দলীয় নেতারা জানেন সমস্যা হবেনা।
জানা যায়,বেতাগী সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সংলগ্ন বড় লক্ষ্মীপুরা খাল, খন্দকারবাড়ি খাল,-নোমোর খাল ও মরখালী নামের এই চার খালের মোহনায় চারটি বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের তৈরী করে মাছ চাষ করছেন ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির।চাষ করেছেন নানা জাতের মাছ। এতে সহযোগীতা করছেন তারই ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মনির। এমন ঘটনায় ওই এলাকার সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, একসাথে চারটি খালে বাঁধ দেয়ার ফলে কৃষি জমির পানি আটকা পড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।বাঁধ দেওয়ার কারণে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানিতে খালের একপাড়ের ফসলি জমিতে পানি জমে আছে। এতে আমনের বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষক। ডুবে আছে বীজতলা, পঁচে যাচ্ছে ধানের বীজ ও চারা। এছাড়াও জলাবদ্ধতর কারনে পনি নষ্ট হয়ে পানিবাহিত রোগবালাইও দেখা দিচ্ছে ওই এলাকায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু বছর ধরে ওই এলাকার জেলেরা এই খালে মাছ ধরে বিক্রি করতেন এবং এলাকাবাসীও মাছ ধরতেন। কিন্তু মো. হুমায়ুন কবির খলিফা ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরপরই খালটি নিজ দখলে নেন। সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে ছেলেকে দিয়ে মাছ চাষ করছেন। তাদের অভিযোগ, মো. হুমায়ুন কবির খলিফা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং তাঁর ছেলে গোলাম শাহরিয়ার মনির সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় ক্ষমতার দাপটে এমন নানা অনিয়ম দুর্নীতি করে বেড়াচ্ছে।
বেতাগী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির খলিফা বলেন, ‘আমি ইউপি চেয়ারম্যান কাঁচা কাজ করি নাই।রেজ্যুলেশন করে সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছি।এসব কিছু উপজেলার দলীয় নেতারা জানেন।
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুহৃদ সালেহীন বলেন, ‘এ বিষয়ে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেছে।দ্রুত খালের বাঁধ অপসারণ করা হবে।