নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
বরগুনার বেতাগীতে বসতঘরে তালাবদ্ধ করে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা করা অগ্নিদগ্ধ সেই ইউপি সদস্য মারা গেছেন।বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরিবারের সদস্য চাচাতো ভাই মাসুম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, মঙ্গলবার গভীররাতে উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড সংলগ্ন ইউপি সদস্যের নিজ বাড়িতে তালাবদ্ধ করে দুর্বৃত্তরা পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সস্ত্রীক ইউপি সদস্য খান ফারুক আহম্মেদ শামীমকে(৩৩) হত্যাচেষ্টা করেন । অগ্নিদগ্ধ ওই ইউপি সদস্যের অবস্থা গুরতর হওয়ায় তাকে বরিশাল শেবাচিম থেকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে চিকিৎসারত ওই ইউপি সদস্য মারা যান। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি।
শামিমের ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম জানান,’আগুন থেকে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে শামিমের দুই হাত, পিঠ, ঘাড় এবং মাথার চুল সহ শরীরের ৬০ ভাগ দগ্ধ হয়। আগামীকাল ইউপি সদস্য শামিমের মরদেহ নিজ বাড়ি বরগুনার বেতাগীতে নিয়ে আসা হবে।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, মধ্যরাতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে লোকজন। এ সময় তারা বাইর থেকে তালাবদ্ধ ঘরের মধ্যে থেকে ইউপি সদস্য শামীম ও তার স্ত্রী সুচিকে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসে। মুহুর্তেই আগুনে ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্রে বিস্ফোরণ হয় এবং স্বর্ণালংকারসহ আসবাবপত্র পুড়ে যায়।
ইউপি সদস্যের পরিবার জানান, তাদের পরিবারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে ২০১৯ সালেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একইভাবে আগুন দেয়া হয়েছিল। ঠিক তেমনি গতকাল রাতেও ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যা করতে চেয়েছিল।
সরিষামুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমাম হাসান শিপন বলেন,’ ইউপি সদস্য খান শামিম আমার শুধু পরিষদের একজন মেম্বারই ছিলেন না, তিনি আমার রাজনৈতিক কর্মীও ছিলেন। আমার প্রতিপক্ষ এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছেন। আমি একজন চেয়ারম্যান হিসেবে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
বেতাগী থানার ওসি মো.শাহআলম হাওলাদার বলেন,’ একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এছাড়াও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা,ডিবি, ডিএসবি সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করছেন। প্রাথমিকভাবে অগ্নিকান্ড পরিকল্পিত এটি নিশ্চিত। লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা নেয়া হবে।