মোবারক হোসেন রুবেল,
ধর্মপাশা( সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের হাওরবেষ্ঠিত মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের গড়াকাটা আব্দুল খালেক মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিলের ওপর ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বেত্রাঘাত করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার সাজানো ও মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার প্রতিবাদে এবং প্রধান শিক্ষকের মানহানি করার ঘটনার
সুবিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই মানবন্ধনের আয়োজন করে। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিদ্যালয়টির শিক্ষকরাও অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল, সহকারী শিক্ষক মোস্তফা কামাল,দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার,জাকির হোসেন,অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নূরে আলম,মনির হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা গড়াকাটা আব্দুল মালেক মডেল উচ্চ বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিলকে জড়িয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া সাদিয়া আক্তারকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার সাজানো এই মিথ্যা অপবাদ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। পাশপাশি যারা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাঁর ওপর বদনাম রটিয়ে তার মানহানি ঘটিয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের গড়াকাটা গ্রামের বাসিন্দা ও গড়াকাটা আব্দুল মালেক মডেল উচ্চ প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল বলেন, আমাদের ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় চারজন ব্যক্তির কাছ থেকে ৮২হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমি এ ঘটনায় গত ১আগস্ট এলাকাবাসীর পক্ষে ইউএনও স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।এই অভিযোগ করার পর থেকেই একটি প্রভাবশালী মহল আমাকে নানাভাবে হয়রানি ও ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্ঠায় লিপ্ত রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে আমাদের স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া আক্তারের পরিবার একটি বিশেষ মহলের প্ররোচনায় পড়ে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে গত ১৬আগস্ট মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মৌখিকভাবে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন
। আমি সাদিয়াকে বিদ্যালয় থেকে বেত্রাঘাট করে বের করে দিইনি।তদন্ত করলে এর সত্যতা বেরিয়ে আসবে।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ হাসান খান বলেন, বেত্রাঘাত করে বিদ্যালয় থেকে এক ছাত্রীকে বের দেওয়ার ঘটনাটির লিখিত কোনো অভিযোগ আমি পাইনি।মৌখিকভাবে আমাকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে।ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাত করার ঘটনাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।