বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ
বাকেরগঞ্জ আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় ঘাপটি মেরে থাকা জামায়াত-বিএনপি’র সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে গঠিত কুটক্রীমহলের ষড়যন্ত্রের প্রথম সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। পরিকল্পনার প্রথম ধাপেই তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান আতিকের ভিটেমাটি কেড়ে নেয়ার ষড়যন্ত্রের প্রক্রিয়া প্রায় সফলতার পথে গতকাল শুক্রবার ২০ আগস্ট সকাল ৯টা থেকে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন শুরু হয়। ষড়যন্ত্রকারীরা গত ২ এপ্রিল পৈশাচিক হামলা চালিয়ে এই ছাত্রলীগ নেতার পৈত্রিকবাড়ির বসতঘর এবং দোকানঘর ভাংচুর ও লুটপাপাট চালায়। এসময় আতিকুরের বোন মাসুমা বেগমকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। এঘটনায় আশ্রাফ কাজী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং ২২৫/২০২২।
সূত্রের দাবী অনুযায়ি, বরিশাল এডিএম কোর্ট এর ৩১৩/২১ মামলার ১৭ আগস্টের একটি আদেশ হাতিয়ার বানিয়ে উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার কৌশল অবলম্বন করছে ষড়যন্ত্রকারী চক্রটি। আদালতের ৬৩৪৯নং স্মারকের একটি আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘জমির দখল বিদ্যমান থাকলে এবং পূর্ব থেকে নির্মাণ কাজ অব্যাহত থাকলে সেখানে আদালতের কোন নিষেধাজ্ঞা কিংবা আপত্তি নেই। ওই আদেশের অপব্যবহার করে ছাত্রলীগ নেতা আতিকের দোকানঘর ভেঙ্গে ফেলে নতুন স্থাপনা তৈরির কাজ শুরু করেছে দুষ্কৃতকারী চক্রটি।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনাচার্জ (ওসি) আলাউদ্দিন মিলন এ কাজে সহযোগিতা করে আসছেন বলে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে দাবী করা হচ্ছে। কারণ হিসেবে এই পুলিশ অফিসারের পক্ষপাতদুষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্মের কথা উল্লেখ করছেন ভুক্তভোগীরা।
এধরণের ঘটনায় হতবম্ব স্থানীয় প্রায় সকল শ্রেণি-পেশার লোকজন! অনেকেই বিস্ময়ের ভঙ্গিতে প্রশ্ন করে বলছেন- ‘‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রাণের সংগঠন ছাত্রলীগের মেধাবী নেতা তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সহভাপতি আতিকুর রহমান আতিক। সাংগঠনিক কর্মকান্ডে সততা, ন্যায়-নিষ্ঠা এবং দায়িত্ববোধের কারণে সহপাঠীদের কাছেও তুখোড় জনপ্রিয় এই ছাত্রলীগ নেতা। তিনি এবং তার পরিবার যদি এভাবে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় নাজেহাল হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হবে একরকম নানা প্রশ্ন ঘুরেফিরছে জনমনে। ‘আতিক এবং তার পরিবারের অন্য সদস্যদের নূন্যতম নাগরিক অধিকারটুকুও কেড়ে নেয়ায় স্থানীয়রা হতবাক হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে কানাঘুষা। বিশেষ করে ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়া ছাত্রলীগ নেতা আতিকের পাশে দলের নেতার্মীদের কেউ নাই।
স্হানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্র জানায়, উপজেলার নিয়ামতি এলাকার বাসীন্দা আশ্রাফ আলী কাজীর পুত্র তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান আতিকদের সাথে একই এলাকার আনিস ফরাজীর পরিবারের সদস্যদের সাথে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে উঠেপরে লাগে বিএনপি-জামায়াতের পোষ্য একটি কুচক্রীমহল। সূত্রের দাবী, ‘নিরবতা’ নামক কৌশলে তাদের সাথে আতাঁত করেছেন- নিজদলের বিভীষণরা।
তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক। তার পৈত্রিক নিবাস উপজেলার নিয়ামতির পল্লীতে। ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শের প্রতি মোহিত এই ছাত্রনেতা নিজ এলাকায় লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন। তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বর্বরযুগের মতো অবিচার এবং দস্যুবৃত্তির শিকার হয়ে নাজেহাল তিনি। ভিটেমাটি পর্যন্ত কেড়ে নেয়া হচ্ছে এই ছাত্রলীগ নেতার। মোদ্দাকথা হচ্ছে- ‘‘ছাত্রলীগনেতা’’ তাই তিনি ভালো নেই। যে যাই বলুক, প্রকাশ্য এবং দিব্যমান খবর হচ্ছে- ‘ভেতরের খবর বড়ই নির্মম!
ক্ষমতাসীনদলের অধিকাংশের জীবনের পরিণতি তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিকের মতোই।
দলগতবিষয় থেকে সূত্রপাত হওয়া ব্যক্তিগত আক্রোশে নাজেহাল, এই ছাত্রলীগ নেতা নিজদল কিংবা সংগঠনের কারো নিকট থেকে কোনো ধরণের সহযোগিতা না পাওয়ায় সংকট বেড়েছে বহুগুণে। দলের নেতাদের নিরবতাকে সম্মতি ভেবে শত্রু ঘায়েলের মোক্ষম সুযোগ হিসেবে নিয়েছে জামায়াত-বিএনপি লালিত এই কুচক্রিমল!
লাঞ্ছনার শিকার হয়ে ভিটেমাটিহারা তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আতিক তার সংগঠনের নেতাদের জানিয়েছেন, ছুটে গিয়েছেন অবিচারের শিকার হয়ে, ভিটেমাটি হারানোর কথা বলেছেন ছাত্রলীগের নেতাদের কাছে। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধর্ণা দিয়ে অনুনয় করে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের জিম্মিদশার করুণকাহিনী শুনেও মন গলেনি আওয়ামী লীগের কোনো নেতার, এতোটুকুও মায়া লাগেনি কারো।
এ ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে আনিস ফরাজীসহ জড়িত অন্য অভিযুক্তদের কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এবিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আলাউদ্দিন মিলন প্রথমে ব্যস্ততার কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আদালতের একটি আদেশের অপব্যবহারের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন- ‘কেউ ভুল করলে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালত ব্যবস্থা নিবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুজর মোঃ ইজাজুল হক জানান, আদালতের আদেশ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। আদালতের আদেশ-নিষেধের কোনো নোটিশ পাননি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন- ছাত্রলীগ নেতা আতিক এবং তার পরিবারের সদ্যদের ওপর হামলা কিংবা ভাংচুরের বিষয়ে তিনি অবগত নন।