• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ত্রিমুখী লড়াই! বেতাগীতে আওয়ামী লীগের গলার কাঁটা আ.লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৪, ২০২২, ১৮:২২ অপরাহ্ণ
জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ত্রিমুখী লড়াই! বেতাগীতে আওয়ামী লীগের গলার কাঁটা আ.লীগ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
আগামী ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বরগুনা জেলা পরিষদ নির্বাচন।ভোটের বাকি মাত্র দুদিন, ফলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেষ সময়ে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বেতাগী উপজেলার সাধারণ সদস্য পদের প্রার্থীরা। বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো.জাহাঙ্গীর কবির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় এবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনি দৌড়ঝাঁপ না থাকলে মাঠ সরগরম করেছেন সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থীরা। যার ফলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেতাগী উপজেলায় (৪নং আসন) শুরু হয়েছে ত্রিমুখী লড়াই। আসন্ন নির্বাচনে ওই আসন থেকে যে তিনজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন তারা সকলেই আওয়ামী লীগার ও ভাইটাল পদ বহনকারী রাজনৈতিক নেতা।যার ফলে ভোটের মাঠে তিনজন প্রার্থীর প্রচার প্রচারণাই যেনো ত্রিমুখী লড়াই।এদিকে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন সহ একে অন্যের প্রতি অভিযোগও রয়েছে ত্রিমুখী। তবে নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন দলের উপজেলার নেতৃবৃন্দের সমর্থন নিয়ে ভোটার ও সমর্থকদের মধ্যে রয়েছে না জল্পনাকল্পনা। যদিও উপজেলা আওয়ামী লীগের দাবী দলের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা না থাকায় তারা কোনো সাধারণ প্রার্থীকেই সমর্থন দিচ্ছেন না।

জানা যায়, জেলা পরিষদ নির্বাচনে বেতাগী থেকে ১টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বেতাগী ৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১০৪জন। গত ২৩ আগষ্ট তফসিল ঘোষনার পরপরই প্রচার প্রচারণায় মাঠে নামেন সাধারণ পার্থীরা।শেষ পর্যন্ত বেতাগী আসন থেকে তিনজন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।তারা হলেন, বরগুনা জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য,প্যানেল চেয়ারম্যান ও বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য নাহিদ মাহমুদ হোসেন লিটু (টিউবওয়েল), বেতাগী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আকতার(হাতি) ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহোসিন ফয়সাল অপু(তালা)।তিনজন প্রার্থীর ত্রিমুখী প্রচারণায় এখন উত্তপ্ত বেতাগী আসন। তবে এদের মধ্যে একে অন্যের প্রতি রয়েছে নানা অভিযোগ।এদিকে ভোটাররা বলছেন তিনজন প্রার্থীই আওয়ামী লীগের কাকে রেখে কাকে সমর্থন দিবো এ নিয়ে আমরাই জটিলতায় আছি।

টিউবওয়েল প্রতিকের প্রার্থী লিটুর অভিযোগ: একান্ত স্বাক্ষাতকারে টিউবওয়েল প্রতিকের প্রার্থী লিটু জানান,‘তার বিপক্ষের প্রার্থী সমর্থকদের দিয়ে প্রচার প্রচারণায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দিচ্ছেন। যদি কোন ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে যান তখন তার সাথে থাকা সমর্থকদের নানা ভাবে একের পর এক হুমকী দিচ্ছেন বিপক্ষের প্রার্থী বাবুল আকতারের সমর্থকরা। এ ঘটনায় থানায় জিডিও করেছেন তিনি। তিনি আরো জানান, বরগুনা জেলা পরিষদের সদ্য নির্বাচত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির ও বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ তাকে সমর্থন জানিয়েছেন। যদি সুষ্ঠ ভোট অনুষ্ঠিত হয় তবে ৮০ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি নির্বাচনে জয়ী হবেন।

হাতি প্রতিকের প্রার্থী বাবুল আকতারের অভিযোগ: বাবুল আকতার জানান,‘ প্রত্যেক ভোটারদের লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুস দেয়ার দাবী জানিয়েছেন টিউবওয়েল প্রতিকের প্রার্থী লিটু। এছাড়াও তিনি আমার সমর্থকদের তিনি জনসমূখে গুলি করার হুমকি দিয়েছেন। তাছাড়া তিনি প্রকাশ্যে নিবন্ধনকৃত অস্ত্র ও দেহরক্ষী নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। তিনি আমার লোকজনদের হুমকি দিয়ে বলেন বুলেট কারো মা বাপ চেনে না।এ ঘটনায় আমি বেতাগী থানায় সাধারণ ডায়েরীও করেছি।ভোটারদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতার বিষয় জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, ৪০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে ওতপ্রতোভাবে জড়িত সুতরাং হেরে যাওয়ার প্রশ্নই আসেনা। সাধারণ ভোটাররা ভালোবেসে আমাকেই ভোট দিবেন এবং আমিই জয়ী হবো বলে আশাবাদী।

তালা প্রতিকের প্রার্থী মহোসিন ফয়সাল অপু জানান,‘সবাই সবার মতো করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন,কিন্তু আমি ভিন্ন। আমি আমার প্রয়াত বাবার আদর্শ ও সততা বুকে নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমেছি। আমার বাবা এই বেতাগী পৌরসভার মেয়র ছিলেন তাকে যেমন এই উপজেলার সকল সাধারণ মানুষ ভালোবাসতেন ঠিক তেমনি আমাকেও ভালোবেসে সবাই ভোট দিয়ে জয়ী করবেন বলে আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি।

তবে আলাদা আলাদা স্বাক্ষাতকারে একে অন্যের ওপর অভিযোগ করলেও নিজেদের ওপর ওঠা অভিযোগ গুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন প্রার্থীরা।

বরগুনা জেলা পরিষদ নির্বাচনের রির্টানিং কর্মকর্তা ও বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন,‘ইতোমধ্যে অভিযোগের ভিত্তিতে বেতাগী আসনের হাতি মার্কার প্রার্থী বাবুল আকতারকে শোকজ করেছি। সে যদি আরো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তবে আরো কঠিন পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রত্যাশা নির্বাচন সুষ্ঠ ও সঠিকভাবে পরিচালনা করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রেই সিসি ক্যামেরা থাকবে ও ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ হবে।