• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিলে শহীদ জিয়ার স্লোগান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষোভ(ভিডিওসহ)

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত নভেম্বর ১৩, ২০২২, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিলে শহীদ জিয়ার স্লোগান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষোভ(ভিডিওসহ)

পটুয়াখালী প্রতিনিধি॥
র্দীঘ প্রতিক্ষার পর পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের জেলা কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। নবগঠিত ওই কমিটিতে মো. সাইফুল ইসলামে সভাপতি এবং পটুয়াখালী সাবেক পৌর বিএনপির ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক জামান গাজীর ছেলে তানভীর হাসান আরিফকে সম্পাদক করা হয়েছে। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ঝাড়ছেন পদ বঞ্ছিতরা। এরই মধ্য নবগঠিত সাধারন সম্পাদক তানভীর হাসানের পক্ষে স্লোগান দিতে গিয়ে বির্তকের সৃষ্টি করেছেন তার অনুসারীরা। এমন একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছরিয়ে পরেছে।

ছাত্রলীগের পদ বঞ্চিতরা বলেন-গত ৯ নভেম্বর পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষনা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। কমিটি ঘোষনা হওয়ার পরপর (৯ নভেম্বর) রাতেই সাধারন সম্পাদক পদে আশিন হওয়া তানভীর হাসান আরিফের পক্ষে আনন্দ মিছিল বেড় করেন তার অনুসারীরা। আনন্দ মিছিলের এক পর্যায় তারা সমাবেশে মিলিত হয়। ওই মিছিলের নেতৃত্ব দেন পটুয়াখালীতে আলোচিত শিবু লাল দাস অপহনের ঘটনায় জড়িত বহিস্কৃত স্বেচ্ছাসেবলীগের নেতা আতিকুর রহমান পারভেজ। এসময় তার সাথে বক্তব্যে অংশ নেন নবগঠিত ছাত্রলীগ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হান্নান হাওলাদার।

ওই বক্তেব্যের সাথে স্লোগান দেয় তানভীর হাসান আরিফের অনুসারীরা। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছরিয়ে গেছে। ১ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড একটি ভিডিওতে শোনা যায়-“ধন্য মোরা ধন্য, আরিফ ভাইয়ের জন্য’। আরো বলা হয় ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই। এই লড়াইয়ে জিতবে কারা? শহীদ জিয়ার সৈনিকেরা”। ওই বক্তব্য পারভেজ আরও বলেন-স্নেহের আরিফের দীর্ঘদিন পরিশ্রমের পর মনের আশা পূরণ হয়েছে। আমরা যারা ওর জন্য রাজপথে অনেক শ্রম দিয়েছি, তারা সবাই যেন আগামী দিনে সঠিকভাবে জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিতে পারে।

এছাড়াও অনেকেই আনুসাঙ্গিক রাখেন। ওই আনন্দ মিছিলে শহর মুখোরিত হলেও মৌন ক্ষোভ ও হতাশা নেমেছে আওয়ামীলীগের প্রবীন রাজনৈতিক অঙ্গনে। নানা জলাঞ্জলি দিয়ে কমিটির ঘোষনার পরপর ছাত্রলীগের পক্ষে শহীদ জিয়ার নামে স্লোগান দেয়াকে আওয়ামীর অশনি সংকেত মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টরা বলেন-আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাথায় রেখে ছাত্রলীগের কমিটি দেয়া উচিৎ ছিল। ছাত্রলীগের নেতৃত্বে অনুপ্রেবেশকারী আসা মানেই সংগঠন পঙ্গুত্ব বরন করা। যার খেসারত দলকে দিতে হবে।

এমন বক্তব্য নিয়ে পটুয়াখালী পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাড. তারিকুজ্জামান মনি বলেন-ছাত্রলীগের মিছিলে শহীদ জিয়ার স্লোগান। এটা অবশ্যই দুঃখ জনক। আমি জেলা আওয়ামীলীগের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করবো। তা না হলে আগামী জাতীয় সংসদ র্নিবাচনে এর প্রভাব পরবে। এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামীর যুগ্ম সাধারন সম্পাদক অ্যাড গোলাম সরোয়ার বলেন-ছাত্রলীগের মিছিলে যদি শহীদ জিয়ার স্লোগান হয়,সেটা অবশ্যই দুঃখজনক। তবে কমিটি ভাল হয়েছে বলে দাবি এই নেতার।

এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর হোসেন বলেন-“ওই ভিডিওটি আমি দেখেছি। যার পক্ষেই ওই মিছিলটি হয়েছে তার মধ্যে অনুপ্রবেশকারী ছিল। ভিডিওটি দেখার পরে ওরা যার সমর্থক তাকে ফোন দিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নবগঠিত পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান আরিফ বলেন, যারা মিছিল করেছেন তাদের মিছিলে কোনো ভুল দেখেনি। হয়তো ভিডিও এডিট করে কেউ ছেড়ে দিয়েছেন।