গৌরনদী প্রতিনিধি \ বিদ্যালয়ে আয়া ও অফিস সহায়ক পদে নিয়োগে প্রধানশিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে নিয়োগ-বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের।
বামরাইল ইউনিয়নের গ্রামের কালিহাতা বাসিন্দা মিজানুর রহমান সিকদার অভিযোগ করে বলেন, বামরাইল এবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়া ও অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপি প্রদান করা হলে আমার বোন শাহনাজ আক্তার আয়া পদের জন্য আবেদন করেন। পরবর্তীতে আমার বোন শাহনাজকে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে মোট সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়েছে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মামুন ফকির ও প্রধানশিক্ষক আবু ইউসুফ। এরমধ্যে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মামুন ফকিরের হাতে দেওয়া হয়েছে তিন লাখ এবং প্রধানশিক্ষক নিয়েছেন পঞ্চাশ হাজার টাকা। ২৬ নভেম্বর নিয়োগ পরীক্ষা শেষে জানতে পারি বেশি টাকা নিয়ে অন্য লোককে চাকুরী দেওয়ার জন্য পরীক্ষায় ফাষ্ট বানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে তিন লাখ টাকা ফেরত দেয় মামুন। চাপে পরে প্রধানশিক্ষকও পঞ্চাশ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে।
শাহনাজ আক্তারের পিতা এনায়েত হোসেন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, জমি বিক্রি করে মেয়ের চাকুরীর জন্য টাকা দিয়েছি। আমার মেয়ে ঢাকায় গার্মেন্টেসে চাকুরী করতো। প্রধানশিক্ষক আমাকে বলেছেন, আপনার মেয়েরতো চাকুরী হয়ে গেছে। তাকে রিজেন দিয়ে আসতে বলেন। এখন স্কুলের চাকরীটাও হলোনা। আর গার্মেন্টেসে’র চাকুরীটাও হারাতে হয়েছে।
বিএম কলেজে অনার্স পড়–য়া ছাত্র নাজমুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, অফিস সহায়ক পদের পরীক্ষা দিয়েছি। পরীক্ষায় ২০ নম্বরের মধ্যে ১৭ নম্বর পেয়েছি। অথচ অষ্টম শ্রেনী পাশ করা আলামিন নামের একজনকে বেশি নম্বর দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, দূর্নীতি দমন কমিশনের লোকজন পরীক্ষার খাতা চেক করলেই আল আমিন নামের ওই প্রার্থীকে বেশি নম্বর দেওয়ার রহস্য বেড়িয়ে আসবে।
তবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে প্রার্থীদের অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবী করেছেন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মামুন ফকির ও প্রধানশিক্ষক আবু ইউসুফ।
এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবিএম জাহিদ হোসেন বলেন, আয়া পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য এক প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানশিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে নির্দেশ দিয়েছি। পরীক্ষা স্বচ্ছভাবে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।