আবু তাহের, নিজস্ব প্রতিনিধি:
ফ্রিজে আদা বাটা রাখা নিয়ে বাকবিন্ডার জেরে যশোর জেলার অভয়নগরে চেঙ্গুটিয়া গ্রামের চাচা রাজু আহম্মেদকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানন্দি দিয়েছে ভাতিজা রাকিবুল ইসলাম।
পারিবারিক পূর্বশত্রুতার জের ধরে রাকিবুল তার চাচা রাজুকে ছুরিকাঘ করে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে। শনিবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম আসামির জবানবন্দি গ্রহণ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। আসামি রকিবুল ইসলাম নিহতের ভাই জসিম উদ্দিন খোকনের ছেলে।
রাকিবুল ইসলাম জানিয়েছে, তারা একই বাড়িতে আলাদা ঘরে বসবাস করত। তার চাচা রাজু প্রায় তাদের সাথে ঝগড়া বিবাদ করত। কোন কিছু হলে তাদের পরিবারের উপর দোষারপ করত। এ নিয়ে তার চাচার উপর বেশ কিছুদিন ধরে রাগ হচ্ছিল। আমার মা চাচা রাজুরে ফ্রিজে আদা রাখে। চাচা রাজু বাড়ি এসে ফ্রিজ খুলে দেখে ভিতরে আদা রাখা। আদা রাখায় তিনি বকাবকি করেন। ২৬ জানুয়ারি বিকেলে প্রতিবাদ করলে রাকিবুল ও চাচার মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে রাকিবুলের কাছে থাকা ফল কাটা চাকুদিয়ে তার চাকাকে আঘাত করে। এ সময় ধস্তাধস্তিতে তার হাত কেটে যায়। চাচা রাজু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে বলে সে জেনেছে।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ফ্রিজে আদা বাটা রাখা নিয়ে রাজু আহম্মেদের সাথে ভাতিজা রাকিবুলের সাথে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে রাকিবুল ফলটাকা ছুরি দিয়ে আঘাত করে জখম করে চাচা রাজুকে। গুরুতর জখম রাজুকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে খুলনা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজু ওইদিন দিবাগত গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাসরিন বেগম বাদী হয়ে ভাতিজা রাকিবুলকে আসামি করে অভয়নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রিয়াজ হোসেন হত্যার ঘটনায় রাকিবুলকে আটক করে শনিবার আদালতে সোপর্দ করেন। রাকিবুল তার চাচা রাজুকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।