• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বোরহানউদ্দিনে সাধারণ জনগণের প্রশংসায় ভাসছেন ওসি মনির হোসেন মিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মার্চ ১, ২০২৩, ১৭:০৯ অপরাহ্ণ
বোরহানউদ্দিনে সাধারণ জনগণের প্রশংসায় ভাসছেন ওসি মনির হোসেন মিয়া

মোঃ সাইফুল ইসলাম আকাশ
নিজস্ব প্রতিবেদক,ভোলা
অসহায়-দুস্থ মানুষকে সফলতার পথ দেখানো,সংসারে অশান্তি-অবিশ্বাস কে কেন্দ্র করে স্বামী স্ত্রী এর মধ্যে মনোমালিন্য নিষ্পত্তি,দাম্পত্য জীবন পুনরুদ্ধারের স্বামী-স্ত্রীকে নিজেদের ভুল ভেঙ্গে পুণরায় তাদের সংসারে ফেরানো,জমি নিয়ে দু পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তি,মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স,বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ সহ নানা উদ্যোগ আর সাফল্যে প্রশংসায় ভাসছেন ভোলার বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেন মিয়া। ইতোমধ্যেই নিজের ব্যক্তিগত নানা উদ্যোগে তিনি জনগণের আস্থা ও ভালবাসায় সিক্ত হয়েছেন।
বিশ্বের উন্নত দেশের জনগণ বিপদে-আপদে পুলিশকে পরম বন্ধু হিসাবে দেখে থাকে।এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের পুলিশও যে জনগণের জানমালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে সেই প্রত্যয়ে তিনি জনসাধারণের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
যদিও স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের পুলিশ কতটা জনগণের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে এ নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক রয়েছে কেউ পক্ষে আবার কেউ বিপক্ষে।
কিছু কিছু পুলিশ কর্মকর্তার অপকর্মের কারণে এই বাহিনীর ভাবমূর্তি মাঝে-মধ্যে ক্ষুণ্ণও হচ্ছে।
তবে পুলিশের এমনও কিছু কর্মকর্তা রয়েছেন যারা নিজের সুবিধার কথা চিন্তা না করে অসহায় জনগণের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। দেশ ও জনগণের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনসাধারণের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এমনই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মনির হোসেন মিয়া।
অন্যদের সামনে নিজেকে ওসি হিসাবে পরিচয় না দিয়ে জনগণের একজন সেবক হিসাবে পরিচয় দেন তিনি। এভাবেই অতি সাধারণ বেশে জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। এমনকি নিজের রুম ছেড়ে বাইরে থানার পাশে বসে সবার সঙ্গে কথা বলেন তিনি। যে কোনো সময় সাধারণ মানুষ তার সঙ্গে সরাসরি দেখা করে যে কোনো বিষয়ে কথা বলে সমস্যার সমাধান নিয়ে থাকেন।
জানা যায়,মোহাম্মদ মনির হোসেন মিয়া গত বছরের(২০২২ সালে) ২ সেপ্টেম্বর চরফ্যাশন থেকে বোরহানউদ্দিন থানায় যোগদান করেন। যোগদানের পরপরই তিনি জনস্বার্থ ও মানবিক সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি কাজ করেছেন। যা ইতোমধ্যেই স্থানীয় জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি এলাকার সকল শ্রেণির মানুষের কাছে অতি পরিচিত একজন মানুষ।
এর আগে দীর্ঘদিন তিনি চরফ্যাশন থানায় ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরি জীবনে উজ্জ্বল সফলতা ও সততার সঙ্গে কাজ করে আসছেন তিনি।
যোগদানের পরপরই বোরহানউদ্দিন থানাকে দালাল ও মাদকমুক্ত থানা হিসেবে ঘোষণা দেন ওসি মনির হোসেন মিয়া। এরই মধ্যে মাদকের মামলা দিয়ে মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছেন তিনি। এমনকি অভিযানে অপরাধীদের গ্রেপ্তারে তিনি নিজেই নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন।
তার ব্যতিক্রমী আরও উদ্যোগ হলো- থানায় মামলার সংখ্যা কমিয়ে আনা, ছোট ছোট অপরাধ স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি, বোরহানউদ্দিন উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি পুলিশিং সভা, বিট পুলিশিং সভা, সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী সভা, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রত্যন্ত এলাকায় পাহারা জোরদার, স্কুল-কলেজে স্টুডেন্ট কমিউনিটি সভা, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ বন্ধসহ নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সমাবেশ করেছেন তিনি।কোনো মহল থেকে প্রভাবিত না হয়েই ন্যায়সঙ্গত কাজ করেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি।

মনির হোসেন মিয়ার সম্পর্কে জানতে কথা হয়,উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের আয়ুব আলী মাতাব্বর নামে এক ব্যক্তির সাথে তিনি জানান,ওই ইউনিয়নের ০৯ নং ওয়ার্ডস্থ জমি নিয়ে দু পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে। ইতোপূর্বে জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে এলাকার গণ্যমান্যগণ একাধিক সলিশ বৈঠক করে মীমাংসার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। অতঃপর বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মনির হোসেন মিয়ার নিকট গেলে জমি সরেজমিনে পরিদর্শন পূর্বক বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নিলে মাত্র ১ ঘন্টার বৈঠকেবিদ্যমান বিরোধের সফল নিষ্পত্তি ঘটে।
এরপরে কথা হয় কুতবা ইউনিয়নের কামরুল ইসলাম,টগবী ইউনিয়নের জসিমউদ্দিন,মানিকা ইউনিয়নের নাইম,দেউলা ইউনিয়নের মাহবুব আলম,সাচড়া ইউনিয়নের কাজি রুবেল,বোরহানউদ্দিন পৌরসভার আব্দুর রহিম মিয়া তারা জানান,ওসি মনির হোসেন মিয়া তাদের বছরের পর বছর পরে থাকা ঝামেলার বিরোধে আজীবনের জন্য নিষ্পত্তি ঘটিয়েছেন।
আলোচিত কাচিয়া ইউনিয়নের অনীল মাষ্টার বাড়ির জমি বিরোধ মীমাংসা ও করেছেন তিনি।
আব্দুর রহমান নামে একজন জানান,তাদের জমি নিয়ে দু পক্ষের মধ্যে বিরোধের শুরু হয়েছিল আজ থেকে ৩০ বছর পূর্বে। বিরোধের জের ধরে দিনে দিনে উভয়ের মাধ্যমে জন্ম নেয় একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারী মামলা। তবুও কাটেনি বিরোধ পরে থানায় অভিযোগ দিলে জমি সরেজমিনে পরিদর্শন পূর্বক বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নিলে মাত্র ১-২ ঘন্টার বৈঠকে সকল বিরোধের সফল নিষ্পত্তি ঘটে।
চন্দন রায় বলেন,ওসি মনির হোসেন মিয়ার চৌকস বুদ্ধিমত্তায় তার এলাকার দুই প্রতিবেশীর মধ্যে প্রায় একযুগ ধরে বিদ্যমান বিবাদের নিষ্পত্তি ও চলমান মামলাগুলো তুলে নিয়ে উভয়ের শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করার পিছনে অবদান ওসি মনির হোসেন মিয়ার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি মনির হোসেন মিয়া বলেন, মুজিববর্ষের অঙ্গীকার পুলিশ হবে জনতার’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন,ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্যারের নির্দেশনায় কাজ করে যাচ্ছি,আমি এই থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় কোনো সন্ত্রাস ও মাদক থাকতে পারবে না।
মাদকের সঙ্গে জীবনে কখনো আপস করিনি,আর করব না।তবে মাদক পুরোপুরি নির্মূল করতে সাংবাদিকসহ সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।পুলিশ জনগণের সেবক ও বন্ধু উল্লেখ করে তিনি বলেন,সমাজ থেকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদসহ সকল অপকর্ম দূর করতে আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। এরই মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তব রূপ পাবে।এসময় পুলিশকে সহযোগিতাকে করার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আহ্বান জানান,বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মনির হোসেন মিয়া।