• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

“ধান কাইটে ঘরে তুইল্যা দিয়ায় ম্যালা উপকার হইছে”

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ৭, ২০২৩, ১৩:৩৯ অপরাহ্ণ
“ধান কাইটে ঘরে তুইল্যা দিয়ায় ম্যালা উপকার হইছে”

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : রোদের জন্যি কিশেনরা কাজ করতি চায়না। যারা কাজ করতি চায় তারা ম্যালা টাহা চায়। আমি গরিব মানুষ, তাই বেশি টাহা দিয়ে আমি ধান কাটতি পারতিছিলাম না। পরে বাড়ির ধারের লোক শুইনে টুঙ্গিপাড়া যুবলীগের সেক্রেটারি মাহমুদ বিশ্বাসরে কন। তখন উনি যুবলীগের সবাইরে আইনে ১৬ কাঠা জমির ধান কাইটে ও মইলে দিয়ে যায়। অশ্রুশিক্ত নয়নে একথাগুলো বলছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গিমাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আনোয়ার মুন্সি।

কৃষক আনোয়ার মুন্সী আরও বলেন, যুবলীগ ধান কাইটে দেয়ায় ম্যালা উপকার হইছে। ছল মাইয়ে নিয়ে পুরো বছর খাতি পারবো। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও যুবলীগের সবাইরে ধন্যবাদ জানাই।

শুধু টুঙ্গিপাড়ায় নয় কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বানে সাড়া দিয়ে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে প্রত্যন্ত মাঠে কৃষকের পাকা ধান কেটে ঘরে তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা।

আজ রবিবার (০৭ মে) সকালে কৃষক আনোয়ার মুন্সির ১৬ কাঠা জমির ধান কেটে মাড়াই করে তার ঘরে উঠিয়ে দেয় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা যুবলীগ এবং মুকসুদপুর উপজেলার কাশালিয়া ইউনিয়নের বেদগ্রামের লক্ষণ মন্ডল ও কনক মন্ডলের দুই বিঘা জমির ধান কেটে দেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের উপ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক উর্মি ঢালী ও তার নেতাকর্মীরা।

জানাগেছে, তীব্র গরম ও শ্রমিক সংকটের কারণে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গিমাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আনোয়ার মুন্সি পাকা ধান কাটতে পারছিলে না। আর শ্রমিক পাওয়া গেলেও তাদের মূল্য অনেক বেশি থাকায় তারপক্ষে দেয়াও সম্ভব ছিলো না। তাই এ নিয়ে কৃষক আনোয়ার দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন। লোক মুখে আনোয়ারের অসুবিধার কথা জানতে পারেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ বিশ্বাস। তখন অন্যান্য নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে তার ১৬ কাঠা জমির ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তুলে দেন।

ধান কাটায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক জাবের বিশ্বাস, রমজান শরীফ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সজল মাহমুদ, সদস্য দেলোয়ার হোসেন, পৌর যুবলীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম সহ ২৫ জন যুবলীগ নেতা অংশগ্রহণ করেন।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ বিশ্বাস বলেন, নেতা কর্মীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে অসহায় কৃষকের ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। তাই তার নির্দেশ বাস্তবায়নে গত ২৫ এপ্রিল কেন্দ্রীয় যুবলীগ স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান (নিখিল)। তাদের আহ্বানে সারা দিয়ে উপজেলা যুবলীগের নেতাকর্মীরা কৃষকের ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তুলে দিচ্ছে। আগামী বোরো মৌসুম পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করবে যুবলীগ।

এদিকে, মুকসুদপুর উপজেলার কাশালিয়া ইউনিয়নের বেদগ্রামের লক্ষণ মন্ডল ও কনক মন্ডলের দুই বিঘা জমির ধান কেটে ঘুরে তুলে দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের উপ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক উর্মি ঢালী ও তার নেতাকর্মীরা। এসময় ওই গ্রামের আরও ৬০ জন নারী পুরুষ ধান কাটায় তাদের সহযোগিতা করেন।

কৃষক লক্ষণ মন্ডল বলেন, আমার পাকা ধান কাটতে শ্রমিকের মজুরি লাগতো। বিষয়টা আমাদের গ্রামের নেত্রী উর্মি ঢালীকে ফোনে জানালে তিনি বলেন কালই আসছি। পরের দিন উর্মি ঢালী বাড়ীতে এসে তার সহকর্মীসহ অনেক সেচ্ছাসেবক নেতাকর্মীরা আমার ধান কেটে দিয়েছে বিনামূল্যে। এতে আমার অনেক উপকার হয়েছে। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

একই গ্রামের কৃষক কনক মন্ডল জানিয়েছেন, গত বছরও আমাদের কন্যা, সেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী তার লোকজন নিয়ে মাঠ থেকে ধান কেটে মাথায় করে বাড়ীতে তুলেছে। এবারও তাই করেছে। ওরা আমাদের বাড়ীতে সামান্য চিড়ামুড়িতে আপ্যায়িত হয়েছে। এতে সেচ্ছাসেবকরাও খুশী, আমরাও খুশী।

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় নেতা উর্মি ঢালী জানান, জমির ধান পেকে আছে, অথচ কৃষক শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতে পারছিলেন না। এমন সময় কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু ও সম্পাদক একেএম আফজালুর রহমান বাবু এর নির্দেশে ঢাকা থেকে বাড়ীতে এসে লক্ষণ ম-ল ও কনক মন্ডলের পাকা ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এতে খুশি ওই কৃষক ও তার পরিবার। খুশী এলাকাবাসীও। কারণ এখন গ্রামে প্রচন্ড ধানকাটা শ্রমিক সংকট।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেক লীগ সাধারণ সম্পাদক একেএম আফজালুর রহমান বাবু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ও আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারাদেশে কৃষকের ধান কাটা সহায়তা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে। আমাদের প্রেস বিজ্ঞপ্তির পর সারাদেশে কৃষকের ২০০ একর জমির ধান কাটতে নেতাকর্মীরা সহযোগিতা করেছে। যতদিন পর্যন্ত ধান কাটার মৌসুম চলবে, ততদিনে পর্যন্ত আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক লীগ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি একেএম আফজালুর রহমান বাবু বলেন, আমরা দুয়োর্গে দুর্বিপাকে শুধু নয় কৃষকের উন্নয়নে কৃষি বিপ্লব বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে স্মার্ট এগ্রিকালচারের সন্নিবেশের জন্য কাজ করতে বদ্ধপরিকর। কৃষকের বিশ্বস্ততম বন্ধু শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী বোরো মৌসুমে ধান কেটে ঘরে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছি। আমরা তরুণ সেচ্ছাসেবকদের কৃষি-প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও কৃষি অর্থনীতিতে উদ্বুদ্ধ করতে চাই। বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে তরুণেরাই সমৃদ্ধ-কৃষকবান্ধব স্মার্ট-জলবায়ু সহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়বে। #