• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুব দলের নিস্ক্রীয়দের কারনে খেসারত দিচ্ছে স্বক্রীয়দের!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ১২, ২০২৩, ১২:৩০ অপরাহ্ণ
যুব দলের নিস্ক্রীয়দের কারনে খেসারত দিচ্ছে স্বক্রীয়দের!

নিস্ক্রীয় নেতৃত্ব নিয়ে বিপাকে রয়েছে বরিশাল জেলা যুবদল। তোষামদ করে পদ-পদবি বাগিয়ে নিলেও কর্মসূচিতে অংশগ্রহন নেই তাদের। দু চারজন যারা মাঝে মধ্যে অংশগ্রহন করে তাদের নেই কর্মীবাহিনী। বেশ কয়েকজন নেতার কাছে দলীয় কর্মসূচি হয়ে পরেছে শুধু ফেইসবুকমুখি। দু একটা কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করে নেতৃবৃন্দদের সাথে ফেইসবুকে ছবি আপলোড করাই অনেক নেতার কাজ। যে কারনে জেলা যুব দলের বাকী স্বক্রীয় নেতাদের উপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কর্মসূচিগুলোতে কর্মী হাজির করা বা মিছিল মিটিং সফল করতে চাপ নিতে হচ্ছে তাদের। ফলে জেলা যুবদলের স্বক্রীয়দের সমন্বয়ে সামনের নতুন কমিটি গঠনের দাবি তৃনমূল নেতৃবৃন্দের। দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সাবেক সভাপতি প্রয়াত পারভেজ আকন বিপ্লব ও সাধারন সম্পাদক তছলিম উদ্দিনকে তোষামদ করে পদবি বাগিয়ে নেয়া নেতারাই মূলত নিস্ক্রীয়। টেকে আছে যোগ্য নেতৃত্বরা। অথচ এসব নেতৃবৃন্দদের অনেকেই সামনের কমিটিতে বড় পদ পেতে লবিং তদ্বির করছে। নিস্ক্রিয় নেতাদের এমন তালিকায় রয়েছে সহ সভাপতি, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সহ-সাধারন সম্পাদকরাও। সহ-সভাপতির মধ্যে রয়েছে, সাইফুল ইসলাম আব্বাস, কামাল হোসেন রুবেল, একে এম ফজলুল বাড়ি চয়ন, মিজানুর রহমান, জাকির হোসেন ফকির, শাহারিয়ার অসীম, মহসিন মিয়া লিটন, হরি উদ্দিন মোঃ ফিরোজ, মোঃ রুবাইয়াত আহমেদ, এ্যড. মোর্শেদ মামুন, নূরুল আমীন মোল্লা, মাসুদ হোসেন মোল্লা।
যুগ্ম সাধারন সম্পাদকদের মধ্যে রয়েছেন,মাওলা রাব্বি শামিম, মনিরুল ইসলাম, উলফত রানা রুবেল, রফিকুল ইসলাম রাহাত, হাবিবুল্লাহ, মজিবুর রহমান মাসুদ, কাইয়ূম উদ্দিন ডালিম,খবির সিকদার,সাহাবুদ্দিন আকন সাবু, হারুন অর রশিদ, মোজাম্মেল হোসেন লাদেন, শোয়েব আলম খান শাহীন, সহ সাধারন সম্পাদক মোঃ আমিরুল ইসলাম, মোঃ মনিরুজ্জামান মনির, মোঃ মাকসুদুর রহমান সজল, মোঃ সোহেল খান, এ্যাড. সাইদুল ইসলাম, সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া লিপু, দপ্তর সম্পাদক মঈনুল আবেদিন তুহিন, প্রচার সম্পাদক রেজাউল করিম রাজিব, সহ প্রচার সম্পাদক মৃধা খালেকুজ্জামান বাহাদুর, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আলী আকবর। খোজ নিয়ে জানা গেছে, এদের মধ্যে কেউ মূল দল বা অন্য অঙ্গ সংগঠনে চলে গেছে কেউ বিদেশ গিয়েছে কেউ মাদক নিয়ে আটক হয়েছে কেউ ব্যাবসা বানিজ্য করছে, কেউ অন্য পেশায় ঢুকেছে, আবার কেউ কেউ পুলিশের ভয়ে রাজনীতি থেকে দুরে সরে নিস্ক্রীয় হয়ে রয়েছে। ২০১৯সালের ৩১মার্চ ২০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন হয়েছিল যুবদলের। তারপর থেকেই নিস্ক্রীয় নেতাদের অনুপস্থিতি বা কর্মী সমাগম করতে না পারার খেসারত দিতে হচ্ছে স্বক্রীয় বাকী নেতাদের।
এ প্রসঙ্গে দক্ষিন জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি এক এম ফজলুল বারি চয়ন জানান, যুব দলের কমিটি শীঘ্রই গঠন হতে পারে। দলীয় কর্মসূচি থাকলে অংশগ্রহন করছি। আপাতত এর বেশী ভাবতে চাইনা, প্রার্থীও হতে চাই না।আগে নিজেকে গুছাই তারপরে আবার রাজনীতি।
এদের বিষয়ে এইচ এম তছলিম উদ্দিন জানান, যারা নিস্ক্রীয় তাদের পদত্যাগ করা উচিৎ। শুধু পদ আগলে রাখলে দল ক্ষতিগ্রস্থ হয়। অনেকের দুজন কর্মী আনার ক্ষমতা নেই। নেতাদের তোশামত করে পদ পদবী নিয়েছেন। সভা সমাবেশে সামনে থাকার প্রতিযোগীতায়ও এরাই করছে। অনেকে মিছিলের অগ্রভাগে এসে ছবি তুলে তা আবার ফেইসবুকে দিয়ে নেতা সাজে। আসলে এদের জন্যই দলের এই বিপর্যয়।
যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার জানান, আপনারা নিস্ক্রীয় নেতৃবৃন্দদের তালিকা প্রকাশ করেন। আমরাও ভালকরেই জানি করা স্বক্রীয় আর কারা নিস্ক্রীয়। অনেকেই শেষ সময়ে স্বক্রীয় হয়ে উঠেছেন। নেতৃত্ব তাদেরকেই দেয়া হবে যারা যোগ্য।