• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বেতাগীতে শেখ রাসেল কর্ণারের কক্ষ নয় যেনো বসত ঘর। দুটি কক্ষই ভাড়া দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ২৮, ২০২৩, ১৩:৪৯ অপরাহ্ণ
বেতাগীতে শেখ রাসেল কর্ণারের কক্ষ নয় যেনো বসত ঘর। দুটি কক্ষই ভাড়া দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক

বেতাগী(বরগুনা)প্রতিনিধি:
বরগুনার বেতাগীতে ‘গড়িয়াবুনিয়া ফুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের’ শেখ রাসেল কর্ণারের কক্ষ ভাড়া দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গত পাঁচ মাস যাবৎ বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষ ভাড়া দিয়ে আসছিলেন ওই প্রধান শিক্ষক। কক্ষটি বর্তমানে বসতঘরে পরিনত হয়েছে। এহেন কর্মকান্ডে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিও কোনো ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তবে কারণ দর্শাণোর নোটিশের মাধ্যমে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে বেতাগী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। এদিকে রুম ভাড়া দেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম।
সরেজমিনে দেখা যায়, গড়িয়াবুনিয়া ফুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শেখ রাসেল ইনডোর স্পোর্টস কর্ণারের সাইনবোর্ড লাগানো একটি কক্ষ। বাহির থেকে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও মধ্যে ঢুকতেই যেনো সব গড়মিল। দেখা যায় সেই কক্ষে একটি লোকের বসবাস, মালামাল আসবাসপত্র সহ ব্যবহৃত সবকিছুই আছে। অপরদিকে পাশের আরেকটি কক্ষে রয়েছে নিমার্নসামগ্রীও। ভাড়াটিয়া মো. হাবিব ও মাসুম নামের ওই দুই লোকের সাথে কথা বললে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলাম মাসিক ভাড়া হিসেবে দুটি কক্ষই ভাড়া দিয়েছেন। শুধু তাই নয় বিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক লাইন থেকে বিদ্যুতও ব্যবহার করেন ওই ভাড়াটিয়া। ওই কক্ষে রয়েছে ভাড়াটিয়ার খাট,ফ্যান,গ্যাসের চুলা,রড,সিমেন্টসহ বিভিন্ন ব্যবহৃত জিনিসপত্র। শুধুমাত্র সামনে একটি মাত্র সাইনবোর্ড ছাড়া নেই শেখ রাসেল স্পোর্টস কর্ণার এর কোনো দৃশ্য। অথচ ওই কক্ষে থাকার কথা শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার ইনডোর সরঞ্জমাদী। এদিকে সরেজমিনে শেখ রাসেল কর্ণার এর বরাদ্দের রুম দেখতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মোঃ মনিরুল ইসলাম প্রথমে সংবাদকর্মীদের বলেন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও ইউএনও এর অনুমোদন নিয়ে আসেন তারপরে আপনাদের রুম দেখাবো। তখন প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাওয়া হয় যে এই রুমে এমন কি রয়েছে যে শিক্ষা অফিসার ও ইউএনও এর অনুমতি নিতে হবে? তিনি তখন বলেন সেটা তাদের কাছ থেকে জেনে নিবেন। একপযার্য়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের সহায়তায় কক্ষের তালা খোলা হয়।
এলাকার একাদিক অভিভাবকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, প্রধান শিক্ষক তার ইচ্ছেমতো বিদ্যালয়ে আসেন আবার চলে যান। তাকে বাধা দেয়ারই তো কেউ নেই বিদ্যালয়ের কক্ষ ভাড়া দিলেই বা কে কি বলবে। তারা আরো বলেন শেখ রাসেল কর্ণার যদি ভাড়া দেওয়া হয় তাহলে আপনার বুঝে নিবেন যে বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার কি অবস্থা। এমন কর্মকান্ডে বারবার কথা বলতে চাইলেও এ বিষয়ে কোনো ধরনের কথা বলেননি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি।
এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন,‘ বিদ্যালয়ের রুম ভাড়া দিলেও এখন সাদা ফকফকা, আর আমি ব্যস্ত আছি, এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে পারবোনা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) মো. মিজানুর রহমান বলেন,‘ বিষয়টি জানতে পেরেছি ওই প্রধান শিক্ষককে প্রাথমিকভাবে কারণ দশার্ণোর নোটিশ দেয়া হবে, এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সুহৃদ সালেহীন বলেন,‘ শেখ রাসেল কণার্রের কক্ষ ভাড়া দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে শিক্ষা অফিসারের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে, তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।