বেতাগী(বরগুনা)প্রতিনিধি:
বরগুনার বেতাগীতে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের (ভিজিএফ) ১০ বস্তা চাল বসতঘর থেকে জব্দ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার বিকালে বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো: শাহীন জেলেদের চাল বিতরণ না করে একটি ঘরে মজুদ রাখে। পরে ভ্যানে করে বিক্রির জন্য নেয়ার সময় স্থানীয়রা জব্দ করে। খবর পেয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়। পরে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলেও ঘটনাস্থল পরিদর্শণে যায়নি কোনো প্রশাসনের লোক। এ নিয়ে এলাকাবাসীরর মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নের সুবিধাভোগী জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের ৩০ কেজি বস্তার ১০ বস্তা চাল স্থানীয়রা ভ্যানে দেখে আটকে রাখে। এদিকে ঘটনার তিন ঘণ্টা পরেও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়নি। এ নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং পরে জানাজানি হয় যে জব্দকৃত ওই চাল সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মো. শাহীনের মদদেই বিক্রির পায়তারা চলছিলো।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা যুগান্তরকে বলেন,চাল চুরির উদ্দেশ্যেই গোপণে ভ্যানে করে বিক্রি করতে চেয়েছিলো। তা না হলে একসাথে ৩০০কেজি সরকারি চাল কোনো জনগণের হতে পারেনা। আমরা যেখানে ত্রাণের চালের জন্য মেম্বারদের পিছু ছুটি সেখানে তারই যদি সরকারি চাল চুরি করে তবে আমরা কাকে ভরশা করবো।
তবে এ ব্যাপারে ভ্যানচালক বলছেন এ চালের ব্যাপারে সবকিছু ইউপি সদস্য শাহীন বলতে পারবেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, এলাকাবাসী চাল জব্দের পর কোনো প্রশাসন না আসলে ওই চাল ইউপি সদস্য নিয়ে গেছেন এবং বলেছেন যাদের নামের চাল তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
ইউপি সদস্য মো: শাহীন মুঠোফোনে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি প্রথমে বলেন, তার ওয়ার্ডের সকলের চাল ইতিপূর্বে বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে; আবার বলেন, অর্ধেক সুবিধাভোগীদের মাঝে চাল বিতরণ হয়েছে। কিছুক্ষণ পর বলেন, চাল আদৌ বিতরণ করিনি কাল করব। তার কাছে মাস্টাররোল চাইলে তিনি সর্বশেষ বলেন, মাস্টাররোল ইউপি সচিবের কাছে। তিনি ইউপি কার্যালয়ে নেই এবং আসতেও পারবেন না।
এ বিষয়ে মোকামিয়া ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জালাল আহম্মেদ বলেন, জেলেদের চাল আজ সারাদিন মোকামিয়ার বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিতরণ করা হয়েছে। কোনো ইউপি সদস্য যদি এই চাল বিক্রি করে থাকে তবে এর দায়ভার ইউপি সদস্যদের ,ইউপি চেয়ারম্যান কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ নিবে না।
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সুহৃদ সালেহীন বলেন, ‘জেলেদের ভিজিএফের মজুতকৃত চাল বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি চাল বিক্রি করে থাকলে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’