আসাদুল ইসলাম, গাইবান্ধা
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে প্রার্থী হতে চান বিশিষ্ট সমাজ সেবক ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা মহসিন সরদার টিপু। নির্বাচিত হয়ে তিনি সুন্দরগঞ্জকে স্মার্ট উপজেলা বানাতে
চান।গাইবান্ধা-১ আসন হচ্ছে বৃহত্তম উপজেলা সুন্দরগঞ্জ । এ আসনে প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে মহসিন সরদার টিপু অন্যতম। সদালাপী, বিনয়ী ও বাক্যালাপে পারদর্শী টিপুর সামাজিক ও মানবিক কর্মকান্ডে রয়েছে অবাধ বিচরণ ও অবদান । একমাত্র তিনিই ক্ষমতার
বাইরে থেকে ব্যক্তিগত অর্থে প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে দলমত,ধর্ম-বর্ন না দেখে অসহায় মানুষের পাশে দঁাড়ান নিঃস্বার্থভাবে। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও অনুদান দেন ক্রীড়া ও সংস্কৃতি প্রেমী টিপু। মাদক, জুয়া ও বাল্য বিয়ের
বিরুদ্ধে রয়েছে তার দৃঢ় অবস্থান।সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মধ্য বেলকা গ্রামের মরহুম মজিবর রহমান সরদারের
ছেলে ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা মহসিন সরদার টিপু। তিনি ২০০৭ সালে সরদার মহসিন মেডিকেল সেন্টার নামে ফ্রি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে সমাজসেবামূলক কাজ শুরু করেন। যা ফ্রি চিকিৎসায় বিশেষ অবদান রাখছে।
টিপু সরদারের প্রেস সচিব হাসানুর জামান বলেন, এ পর্যন্ত ৩৭হাজার রোগিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে ৮ হাজার নলকুপ স্থাপন, মসজিদ ও মাদরাসায় ৫০০ অযুখানা নির্মাণসহ ৩০০ মসজিদ ও
৫০ টি মন্দির নির্মাণে দিয়েছেন আর্থিক সহায়তা। ত্রাণ দিয়েছেন ৫০ হাজারের অধিক মানুষকে। অসহায় রোগিদের জরুরি চিকিৎসায় যাতায়াতের
জন্য তিনি দিয়েছেন একটি এ্যাম্বুলেন্স। হাসানুর জামান আরও বলেন, ২০১৬ সালে ফ্রি চিকিৎসা সেবা সংকুচিত করে চিকিৎসা ও অপারেশনের জন্য
অর্থ প্রদান করে আসছেন। এতে ৭/৮ বছরে প্রায় ৬ হাজারের বেশি রোগিকে নগদ আড়াই কোটি টাকা দিয়েছেন। এছাড়া ঈদে গরীব-অসহায় মানুষের মাঝে সেমাই, চিনি, শাড়ি-লুঙ্গি, গরুর মাংশ ও নগদ অর্থ এবং মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়–য়া গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের বার্ষিক হারে
আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন। করোনাকালিন সময়ে ৫০টি অটোভ্যান ও ৫০টি গরু প্রদান করেছেন গরীবদের মাঝে। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জনগণের মাঝেবিতরণ করেন ৫০ হাজার মাস্ক ও সচেতনতামূলক লিফলেট ৫০ হাজার। এসময়
কর্মহীন ৫০০ শ্রমিককে নগদ অর্থ দেন। প্রতিবন্ধী ও অসুস্থদের দিচ্ছেন হুইল
চেয়ার। এছাড়া রাস্তা সংস্কার ও জলাশয়ে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছেন।যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে তার সরব উপস্থিতি থাকে। এই সকল
কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য প্রত্যেকটি ইউনিয়নে তার ব্যাক্তিগত কমিটি রয়েছে। এভাবে সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে ১৬/১৭ বছরে জনগণের ভালবাসা অর্জন করে সাধারণ মানুষের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছেন।
মোস্তফা মহসিন বলেন, জনগণের সেবা করাই আমার লক্ষ্য। সামর্থ্য অনুযায়ি সেবা করেই যাবো। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এ উপজেলায় উন্নয়নের নব দিগন্ত সৃষ্টি করতে চাই। সন্ত্রাস, দূর্নীতি, মাদক মুক্ত করে
সুন্দরগঞ্জকে স্মার্ট উপজেলায় পরিণত করতে চাই। স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সহযোগী হতে চাই। এছাড়া খাল-বিল খনন, জলাবদ্ধতা নিরসন,
রাস্তা পাকাকরণ, হাট-বাজারের আধুনিকায়ন ও ফ্লাইওভার নির্মাণ, তিস্তার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও নদীর দুই পাড় দৃষ্টিনন্দন করে সুন্দরগঞ্জকে নয়নাভিরাম
আধুনিক রুপ দিতে চাই। বালাসীঘাট-বাহাদুরাবাদ রুটে রেল সেতু অথবা ট্যানেল নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রাখতে চাই। তিনি আরো বলেন,হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা বৃদ্ধি, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন,মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ, নৌ অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু এবং বৃহত্তম উপজেলা সুন্দরগঞ্জকে পৃথক দুইটি উপজেলায় রুপান্তরের চেষ্টা করবো।
এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্ত করা, অবকাঠামো উন্নয়ন, মা ও শিশু কেন্দ্র নির্মাণ, ইউপি কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, হাসানগঞ্জকে পুর্ণাঙ্গ রেল
স্টেশনে উন্নীতকরণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বঁাধ সংস্কারসহ বেড়িবঁাধ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি বেকারত্ব দূরীকরণে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রকল্প
গ্রহণের চেষ্টা করবো। গাইবান্ধা জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য মোস্তফা মহসিন আরও বলেন,আমি জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। মনোনয়ন পেলে নির্বাচিত হবো ইনশাআল্লাহ।