গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি \ স্বামীর সামনে থেকে স্ত্রীকে পাটক্ষেতে নিয়ে হেনস্থা করে টাকা পয়সা ও স্বর্নালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ১৮ দিন পূর্বে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন ভুক্তভোগী নারী। সেই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার মালেক নামের একজনকে আটক করে রাতেই নাটকীয় ভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাগুরা গ্রামের।
সূত্রমতে, গত ১৮ দিন পূর্বে বৃষ্টির রাতে স্থানীয় কতিপয় যুবককে ক্ষণিকের জন্য আশ্রয় দিয়ে চরম বিপাকে পরেছিলেন মাগুরা গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর মেয়ে ও এক সন্তানের জননী গৃহবধূ শিউলী বেগম (২৮)। সে সময় শিউলি বেগমের অভিযোগ ছিলো ঢাকা থেকে তার স্বামী শিউলির মাগুরা গ্রামের বাড়ি বেড়াতে আসেন। ঘটনার দিন বৃষ্টির রাতে স্থানীয় ইদ্রিস মাতুব্বরের কয়েকজন সহযোগি ক্ষণিকের জন্য তার (শিউলি) ঘরে আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে ওই যুবকরা ইদ্রিস মাতুব্বরকে আমার বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে ইদ্রিস ও আশ্রয় নেওয়া যুবকরা আমাদের স্বামী-স্ত্রীর বিবাহের কাগজপত্র দেখতে চায়। একপর্যায়ে ইদ্রিস ও তার সহযোগিরা রাত নয়টার দিকে স্বামীর সামনে থেকে আমাকে তুলে নিয়ে পাশ্ববর্তী পাটক্ষেতে নিয়ে রাত একটা পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে চরমভাবে হেনস্থা করে। একপর্যায়ে নগদ টাকা, বিকাশের টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায় ইদ্রিস ও তার সহযোগিরা। এঘটনায় জড়িত ইদ্রিস ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিলো।
রবিবার দুপুরে ওই নারী জানান, ঘটনার সাথে জড়িতরা আমার বাড়ির পাশ্ববর্তী বাসিন্দা। তারা আমার টাকা পয়সা ও স্বর্নালংকার ফেরত দিবে। এই জন্য তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা লিখিত অভিযোগ স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার করেছি। খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, মালেককে আটকের পর অভিযোগকারী শিউলির সাথে স্থানীয় ভাবে একটি আপষ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে শিউলির কাছ থেকে নেওয়া ৩৩ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে অভিযুক্তরা। অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা গৌরনদী মডেল থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত অভিযোগে মালেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিলো। পরে অভিযোগকারী নারী তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে।