স্টাফ রিপোর্টার :
বরগুনার বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুড়া দাখিল মাদ্রাসা ভবনটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে। যেকোন সময় ভবনটি ধসে ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। প্রায় দিনই শ্রেনী কক্ষের ছাদের পলেস্তরা খসে পরার ভয়ে বর্তমানে বারান্দায় পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষকরা। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ভবনটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বহুবার জানালেও কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছেনা বলে জানান তারা।
মাদ্রাসা সূত্রে জানাগেছে, বর্তমান লক্ষ্মীপুড়া দাখিল মাদ্রাসাটি ১৯৫০ সালে লক্ষ্মীপুড়া ফোরকানীয়া ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। পরে ১৯৭৩ সানে এটি দাখিল পর্যন্ত পাঠদানের অনুমোদন পায়। শুরুতে টিনসেট কাঠের ঘরে পাঠদান করানো হলেও ১৯৯৪ সালে এখানে একটি ৪ কক্ষের একতলা ভবন নির্মান করে মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের ফ্যাসেলেটিস বিভাগ। বর্তমানে এই মাদ্রাসায় ২৬৬ জন শিক্ষার্থী দ্বীন শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছেন। এখানে মোট ১৪জন শিক্ষক কর্মচারী রয়েছেন।
গত বুধবার সরেজমিনে লক্ষ্মীপুড়া দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে দেখাগেছে, শ্যাওলায় আচ্ছন্ন স্যাতস্যাতে একটি ভবনের বারান্দায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষকরা। ভবনটির সামনে গিয়ে দেখাগেছে সমস্ত ভবনের ওয়ালের ইট থেকে পলেস্তরা খসে গিয়ে শ্যাওলার সবুজ রঙে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। বরান্দায় পিলার গুলোর ইট সুড়কী থেকে কলামের রড বেড় হয়ে গেছে। ভবনটির ভিতরে গিয়ে দেখাগেছে প্রতিটি কক্ষের ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ে মেঝ ভর্তী হয়ে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চে বালি আর ইটের খোয়া পড়ে রয়েছে। লাইব্রেরী কক্ষটির ছাদে কোন পলেস্তরা নেই বললেই চলে। এমন অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই ভয়ংকর মৃত্যু ফাঁদে পাঠদান করছেন কোমলমতি ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা।
মাদ্রাসাটির ৬ষ্ঠ শ্রেনির শিক্ষার্থী সৈয়দা আক্তার জানান, প্রতিদিন তারা ক্লাশে এসে বেঞ্চ থেকে বালি ও খোয়া পরিস্কার করেন। একদিন তার পাশে থাকা এক সহপাঠির মাথায় ছাদের পলেস্তরা খসে পরে মাথা ফেটে গিয়েছিলো। প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে ক্লাশ করেন তারা।
৭ম শ্রেনীর আরেক শিক্ষার্থী ফাইজুল করীম জানান, মাদ্রাসায় আসলেই আতঙ্কে থাকি কখন ছাদ ধসে মাথায় পরে। বর্তমান বর্ষা মৌসুমে ছাদ চুয়ে বৃষ্টির পানি পরে বইখাতা ভিজে যায়। ভবনটি সংস্কার না হলে শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসায় আসা ঝুকি মনে করে সবসময় আতঙ্ক নিয়ে পাঠদানে মনোযোগী হওয়া সম্ভব নয়।
লক্ষ্মীপুড়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার মাওলানা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভবনটির ছাদ থেকে প্রতিনিয়ত পলেস্তরা খসে পরার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে বর্তমানে বারান্দায় পাঠদান করাচ্ছি। এখানে একটি নতুন ভবন নির্মান না করা হলে রানা প্লাজার মতোন বড় কোন দুর্ঘটনার খবর আপনারা শুনতে পারবেন।
বামনা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক ভূঞ্চা বলেন, ওই ঝুঁকিপূর্ন ভবনটির বিষয়ে মন্ত্রনালয়ে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনকেও জানিয়েছি। তারা আশ্বস্ত করেছেন দ্রুত ভবনটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।