“”নাফিজ আহমেদ,,,
পরিবারের ছোট মেয়ে ছুটকি।
সর্বদা মায়ের হাতের
কাজ করেদিত সে।
তাদের পরিবারটা ছিল
অত্যান্ত গরিব।
কোনরকম বাবা দিনমজুরি করে
সংসারটার হাল ধরে রেখেছে।
কয়েকদিন যাবৎ ছুটকির তীব্র
আক্ষাঙ্কা ঘিরে ধরে যে
সে ইলিশ মাছ খাবে।
কিন্তু পরিবারে অসহায়ত্ব
আর্বতন করলে কি আর
মাছের সেরা ইলিশ খাওয়া যায়!
আজ মায়ের সাথে সংসারে
সমস্ত কাজের সহযোগিতা করে
খেলার জন্য নদীর তীরে
বন্ধুদের কাছে আসল ছুটকি।
হঠাৎ রাজু নামে এক বন্ধু
বলে উঠল আমাদের বাড়ি
আজ ইলিশ রাধাঁ হয়েছে
তোরা সবাই “চ” আজ আমরা
মজা করে ইলিশ খাব৷
ছুটকিও ওদের সাথে
অগ্রসর হলো বন্ধুর বাড়ি
ইলিশ খাওয়ার জন্য।
কেন জানি বন্ধুর মা তাকে
অপমান করে তাড়িয়ে দিল।
ছুটকি, সোনালী আশাটা
হতাশায় পরিনত হয়ে মনটাকে
মেঘের ন্যায় করে এক
বুক ভরা কষ্ট নিয়ে
ফিরে আসে নিজের বাড়িতে।
মাকে বলল নিজের
সমস্ত দুঃখের কথা।
মা ক্যাঙ্গারুটা যেমন সন্তানকে
পৃথিবীর সমস্ত দুঃখ কষ্টকে
উপেক্ষা করে নিজের বুকের
ভিতরে লুকিয়ে রাখে,
ঠিক তদ্রূপ ছুটকির মা
যেন তাকে অজানা কি
একটা আশা দিয়ে শান্তনার
চাদরটা নিজের কলিজার টুকরা
মেয়ের গায়ে আবৃত করে দেয়।
তারপরও বাবা বাড়িতে
আসলে ছুটকি বাবার কাছে
ইলিশ খাওয়ার বায়না করে।
বাবা তাকে বলল
আচ্ছা ঠিক আছে মা,
আগামীকাল মোরল মশায়ের
কাছ থেকে টাকা নিয়ে তোর
জন্য ইলিশ নিয়ে আসব।
হঠাৎ ছুটকি খুবই অসুস্থ হয়ে যায়।
বাবা সকালে কাজে যায়
এবং কথামতো মোরল মশায়ের
কাছ থেকে টাকা নিয়ে
বাজারের সবথেকে বড় ইলিশটা
নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
বাড়িতে এসে দেখে
আদরের ছুটকিটা আর নেই।
রঙিন আকাশটা যেমন বেলা
ফুরাবার পরে অন্ধকারে ঢেকে যায়। আলোর ছিটাফোঁটাও
অবশিষ্টাংশ থাকেনা।
ঠিক তেমনই ছুটকিও
যেন তার বাবা-মাকে
ফাঁকি দিয়ে চলে যায় কোন
এক অচেনা অজানা গন্তব্যে।
উঠানে পরে থাকে ছুটকির
সেই প্রাণ প্রিয় ইলিশটা।
যে ইলিশটা খাওয়ার জন্য
এত কথা সইতে হলো আচর্য যে,
সময় ও পরিবেশের
পরিপাকে ইলিশটা থাকলেও
খাওয়ার মানুষটা নাই।
পারি জমিয়েছে এক
অনির্দিষ্ট পথচলায়।
সকলেই ডাকতে থাকে
ছুটকিকে তবুও সে কারওর
ডাকে সারা দেয় না।
কেননা সেতো খোদার
ডাকে সারা দিয়ে সকলকে ছেড়ে
চলেগেছে এক অচেনা জগতে।