• ২৬শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণতন্ত্র ছাড়া মানবাধিকারের অস্তিত্বই থাকে না; বিচারপতি এম. এনায়েতুর রহিম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ৬, ২০২৩, ১৪:৪৫ অপরাহ্ণ
গণতন্ত্র ছাড়া মানবাধিকারের অস্তিত্বই থাকে না; বিচারপতি এম. এনায়েতুর রহিম

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, রাবি:
একটি সমাজ তখনই স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ থাকে যখন নাগরিকরা সমাজে নিজেদের নিরাপদ মনে করে। সুশাসন ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয় এবং গণতন্ত্র ছাড়া মানবাধিকারের অস্তিত্ব নেই। সেজন্য রাষ্ট্রযন্ত্রের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহিতা অত্যন্ত অপরিহার্য।

শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে ‘মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার: সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এম. এনায়েতুর রহিম এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, মানুষের অধিকার রক্ষায় সুশাসনের বিকল্প নেই। সুষ্ঠু এবং দ্রুত বিচার সংবিধানে বর্ণিত একটি মৌলিক অধিকার। বিদ্যমান আইনের অপব্যবহার করে কারো অধিকার খর্ব করা যাবে না।

তিনি বক্তব্যে আরো উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিকভাবে রাজনৈতিক, দেওয়ানি, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অধিকারগুলো মানবাধিকারের অন্তর্ভুক্ত। রাষ্ট্রযন্ত্রকে অবশ্যই সকলের এই অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে সজাগ থাকতে হবে। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার যেগুলো আমাদের সংবিধানে নিশ্চিত করা হয়েছে, সেগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। রাষ্ট্রের সকল বিভাগকে এই অধিকারগুলো নিশ্চিত করা থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। এটা ভুলে যাওয়া যাবে না, এ রাষ্ট্র ধর্ম, বর্ণ, জাতি, লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১ এর সভাপতি বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম। তিনি বলেন, মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি সম্মান বাড়ানো এবং মানবাধিকারের কার্যকর উন্নতির জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিচালিত করতে হবে। মানবাধিকারকে শিক্ষা কারিকুলামের অংশ করলে, সেটা নতুন প্রজন্মের মনোজগত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নতুন প্রজন্মের সক্ষমতা যথাযথভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে তারা মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার রক্ষা ও অগ্রসরে কাজ করতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, যেকোনো মূল্যে আমাদের মানবাধিকার রক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সামাজিক বৈষম্য দূর করার মাধ্যমে এই অধিকারগুলিকে রক্ষা করা যায়। আর এর জন্য প্রচার এবং আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের অনেক দেশের সংবিধানের চেয়ে বাংলাদেশের সংবিধান সমতা এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অনেক বেশি উন্নত উল্লেখ করে সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

দুইদিন ব্যাপি আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক হাসিবুল আলম প্রধান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সভাপতি ড. মিজানুর রহমান, রাবির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক অবায়দুর রহমান প্রামণিক, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক আব্দুল হান্নান এবং আইন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও দেশী-বিদেশী গবেষকরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিগত চারটি বিজেএস পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বিভাগ থেকে ১ম স্থান অধিকারকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পরে দিনব্যাপী বিভিন্ন সেশন চলতে থাকে। সম্মেলনে দেশি বিদেশি ২২টা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে চারশো শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন। এরমধ্যে ১২১ জন গবেষক আইন বিষয়ক ৯৩টা গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি ভেন্যুতে এ উপস্থাপন চলবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এম. এনায়েতুর রহিম, বিশেষ অতিথি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১ এর সভাপতি বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম, সম্মানিত অতিথি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভারনেন্সের ফাউন্ডিং ডিরেক্টর অধ্যাপক দাউদ হাসান, রাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক হুমায়ুন কবির।