• ২৬শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

“বিএসএফ কর্তৃক ২৩ বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে যাওয়ায় ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল”

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৪, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
“বিএসএফ কর্তৃক ২৩ বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে যাওয়ায় ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল”

ঢাবি প্রতিনিধি:
আজ ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১টার সময় ‘বিএসএফ কর্তৃক ২৩ বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে যাওয়াসহ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি ক্রমাগত আঘাত’ এরই প্রতিবাদে সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয় ।

সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা বলেন, গত পরশুদিন ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ২৩ বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ধরে নিয়ে যাওয়া ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার দায়িত্ব পালনে বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। এই ২৩ নাগরিককে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের যশোর সীমান্তে বিএসএফ বাংলাদেশের বিজিবি সদস্য রইশুদ্দিনকে গুলি করে হত্যা করেছে। গত ১৫/২০ বছরে ভারত সীমান্তে প্রায় ২০০০ বাংলাদেশী বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি।

তারা জানান,ভারতের সাথে তো অন্যন্য দেশের ও সীমান্ত আছে। কই সেখানে তো এত মানুষ মরে না। এমনকি ভারতের সবচেয়ে বৈরী দেশ পাকিস্তান সীমান্তেও তো এত মানুষ নিহত হয় না। তাহলে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের বুকে গুলি চালানোর সাহস ভারত কোথায় পায়!?

সম্প্রতি বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের শাড়ি কে পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পন্য হিসেবে নিবন্ধিত করেছে ভারত। অথচ টাঙ্গাইল কোথায়? বাংলাদেশের ভৌগোলিক নাম ব্যবহার করে বাংলাদেশের ব্রান্ডকে নিজেদের দাবী করা না শুধু বরং রেজিষ্ট্রেশন করার মতো নিকৃষ্ট আচরণ দেখিয়েছে ভারত। এই অবৈধ নিবন্ধনের ফলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বৈদেশিক বানিজ্যের অনেক বড় বড় বাজা হারাবে। বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা হাতছাড়া হবে বাংলাদেশের। আমরা ভারতের এমন অনৈতিক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই সনদের আবেদন এখন পর্যন্ত জমাই পড়েনি! বাংলাদেশ কীভাবে জি আই সনদ পাবে!? শিল্পমন্ত্রণালয়ের অবহেলার কারণে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা হাতছাড়া হয়ে গেলো বাংলাদেশের। এর দাভার কে নেবে!? আমরা এই দায়িত্ব জ্ঞানহীন শিল্প মন্ত্রণালয়কে ধিক্কার জানাই।

এর আগে রসগোল্লা, নকশিকাঁথা, ফজলি আম ও নারকেলের মোয়ার স্বত্বও ভারতের হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। সুন্দরবনের মধুও ভারতের হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। অথচ এগুলো বাংলাদেশেরও হতে পারত।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় পণ্যগুলোর জিআই স্বীকৃতি হাতছাড়া হয়ে যাওয়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ‘পলিসিগত’ দুর্বলতা ছাড়া আর কী? আমরা প্রশাসনের এই অপরিনামদর্শীতা ও দায়িত্বজ্ঞান হীনতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

সীমান্ত থেকে ১০০ গজ এর মধ্যে এমন অভিযোগ এনে বেনাপোলে বাংলাদেশের ট্রাক টার্মিনালের নির্মাণকাজ ভারত বন্ধ করে দিয়েছে। যে ট্রাক টার্মিনাল নির্মিত হলে একসাথে ভারতীয় ১২০০টি ট্রাক মালামাল আনলোড করতে পারত।

আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোন স্থাপনা নির্মাণ করা যায় না। অথচ ভারত বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্তে ৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করছে-
পাকিস্তান বাদে ভারতের অন্য প্রতিবেশী বন্ধু দেশ ভুটান ও নেপালের সাথে সীমান্তে এমন কোন কাঁটাতারের বেড়া নেই।

তাহলে ভারত আমাদের কেমন বন্ধু যে সীমান্তে বসবাসরত একই পরিবারের দুইঘরের মধ্যে দিয়ে কাটাতারের বেড়া দেয়!

তারা আরো বলেন,মেঘালয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কমপক্ষে ১৩টি এলাকায় জিরো লাইনের ভিতরে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে ভারতকে অনুমোদন দিতে নীতিগতভাবে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ সরকার। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি সীমান্তে ভারত জিরো লাইনের ২০ গজের মধ্যে কাটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে। বাংলাদেশের জন্য এরচেয়ে বড় লজ্জার খবর আর কী হতে পারে!? আমরা ধিক্কার জানাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই আনাড়িপনাকে।

সর্বশেষে, জনসাধারণকে উক্ত বিষয়সমূহে সোচ্চার হওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।