বিনা কারণে বাইরে বের হওয়া বন্ধ করতে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করছে সশস্ত্র বাহিনীও।
এতে মূল সড়কগুলোতে লোকসমাগম কয়েকদিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার অনেকটাই কম ছিল।
তবে অলিগলিতে আগের মতোই ভিড় ছিল।
বেশ কিছু স্থানে চায়ের দোকানে ও মোড়ে আড্ডা দিতে দেখা গেছে কিশোর-যুবকসহ নানা বয়সীদের।
বিভিন্ন বাজার ও মুদি দোকানেও ভিড় ছিল।
কিছু দোকানের সামনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে চিহ্ন দেয়া থাকলেও তা মানছেন না অনেকেই।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বৃহস্পতিবার এ চিত্র দেখা গেছে।
এদিন আরও দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
তবে এদিনও জরুরি কাজে নিয়োজিত পরিবহনের বাইরে ব্যক্তিগত কিছু গাড়ি রাস্তায় রয়েছে।
তবে কয়েকদিনের তুলনায় অটোরিকশার সংখ্যা কম ছিল।
রাইড শেয়ারিং বন্ধ থাকলেও অনেক স্থানেই মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে চালকদের।
এছাড়া মোড়ে মোড়ে ছিল রিকশাও।
রাজধানীর মতো দেশের বিভিন্ন স্থানেও বৃহস্পতিবার প্রায় অভিন্ন চিত্র দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিনিধিরা।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ঘরে থাকতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।
কিন্তু অনেককেই বাইরে বের হতে দেখা যাওয়ায় কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বুধবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) বার্তায় জানানো হয়, সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার থেকে দেশের সব স্থানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতে কাজ করবে।
সরকার প্রদত্ত নির্দেশাবলি অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অনেকেই নির্দেশনা তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না, অনেকে পেটের দায়ে নেমেছেন রাস্তায়।
নগরীর নতুন বাজার, কাউনিয়া, আলেকান্দা, সদর রোডসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হকার, দিনমজুর ও যানবাহন চালকদের অনেকেই রাস্তায় রয়েছেন।
জেলখানার মোড়ে রিকশাচালক শাহিন বলেন, ৫ দিন ঘরেই ছিলাম। বাজার যা ঘরে ছিল সবই শেষ, টাকাও নাই।
এখন বাধ্য হয়ে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি। কেউ তো বাসায় খাবার দিয়ে যাবে না।
আলেকান্দা এলাকার চা দোকানি শরীফুল ইসলাম বলেন, ২৬ মার্চ থেকে বাসায়ই আছি।
এখন তো ঘরে খাবার নেই। আমরা তো বাঁচতে চাই।
দোকান না খুললে ইনকাম করতে পারব না।
স্ত্রী-সন্তান না খেয়ে থাকবে।
যারা ত্রাণ পায় তারা একাধিকবার পায়।
আর যারা পায় না তারা একবারও পায় না।
পরিবহন শ্রমিক কল্যাণ চন্দ্র বলেন, বাস বন্ধ থাকায় আমাদের মতো দিনমজুররা বেশ ঝামেলায় রয়েছি।
বাসায় খাদ্য নেই।
শুনি শুধু ত্রাণ দেয়া হয় কিন্তু আমাদের কপালে জোটে না।
বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জানান, অযথা কেউ রাস্তায় ঘোরাঘুরি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বলেন, সাধারণ মানুষকে ঘরে রাখতে আমরা নগরীতে টহল জোরদার করেছি।
বরিশাল বিভাগে সেনাবাহিনীর ১৭টি দল জোরদার টহল দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা সেনানিবাসের কর্মকর্তা মেজর সিদ্দিক মোবিন।