গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি \ বরিশালের গৌরনদীতে ক্লিনিকের এক ভূয়া চিকিৎসকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ধর্ষনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রকৃত এক নারী চিকিৎসক। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত ভূয়া চিকিৎসক তার প্রেমিকাকে ছেড়ে পালিয়েছেন। এঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগি নারী চিকিৎসক অভিযোগ করে বলেন, গৌরনদীতে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আসা যাওয়ার সময় ডাক্তার মোহাম্মদ জাকির হোসেন তাকে প্রায়ই উত্ত্যক্তসহ প্রেম নিবেদন করে আসছিলো। এক পর্যায়ে ডাঃ জাকিরের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে ৮ মার্চ সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে (ওই নারী ডাক্তার) অসংখ্যবার ধর্ষণ করে জাকির। একপর্যায়ে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে জাকির তাকে বিয়ে করতে নানান তালবাহানা শুরু করে। এমনকি গত দুইমাসে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা ধার নেয় ডা. জাকির। অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, গত ২০ মার্চ রাত ১০টার দিকে টরকী বন্দর ফুড ভিলেজ রেঁস্তোরায় গিয়ে প্রকাশ্যে জাকিরকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন তিনি। একপর্যায়ে সেখান থেকে ডা. জাকির সটকে পড়ে। পরবর্তীতে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারি ডাঃ জাকির একজন ভূয়া এমবিবিএস। তার প্রকৃত নাম আরিফুল ইসলাম আরিফ। সে টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার সহবতপুর ইউনিয়নের সহবতপুর গ্রামের মোশারফ হোসেন ও মোসাৎ জাহানারা বেগমের ছেলে।
এবিষয়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে, অ৮০০০০ বিএমডিসি রেজিষ্ট্রেশন নাম্বারধারী ব্যক্তির নাম মোঃ জাকির হোসেন। সে একজন প্রকৃত এমবিবিএস ডাক্তার। সে ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর থানার বুধন্তি ইউনিয়নের কেনা গ্রামের মো. ফরিদউদ্দিন ও মোসাৎ আঙ্গুরা বেগমের ছেলে। তিনি (প্রকৃত চিকিৎসক) দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যানেস্থেশিয়া কোর্সে অধ্যায়নরত। অপরদিকে ওই প্রকৃত ডাক্তারের বিএমডিসি’র রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ও নাম ব্যবহারকারী ভ‚য়া এমবিবিএস ডাঃ মোহাম্মদ জাকির হোসেন ওরফে আরিফুল ইসলাম আরিফ টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার সহবতপুর ইউনিয়নের সহবতপুর গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে। তার এনআইডি নং- ১৯৭৭৯৩১৭৬৮৭১৮৯০৯৯।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কথিত ডা. মোহাম্মদ জাকির হোসেন গত আড়াই বছর ধরে গৌরনদী উপজেলার বেঁজগাতি ও বাটাজোর সুইস হাসপাতাল, টরকী বন্দর আলম ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, বাকাই পল্লী সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আগৈলঝাড়ার বাগদা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মুলাদী উপজেলার রামচর বিসমিল্লাহ্ মেডিকেল হলে চেম্বার করে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে প্রতারনা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এমনকি ভ‚য়া ডা. জাকির হোসেন আশোকাঠি শারমিন ক্লিনিকসহ ওইসব ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের আল্ট্রাসোনোগ্রাম করে আসছিলেন।
স্থানীয় সচেতন বাসিন্দারা জানান, ক্লিনিকগুলোতে চেম্বার করানোর সময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ যদি ওই ব্যক্তির সঠিক পরিচয় সনাক্ত করে চেম্বার করাতো তাহলে এরকম ঘটনা ঘটতো না। এবিষয়ে প্রকৃত ডাঃ মোঃ জাকির হোসেন বলেন, আমার বিএমডিসির রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার ও নাম-ঠিকানা ব্যবহার করায় ওই ভ‚য়া ডাক্তারের বিরুদ্ধে দিনাজপুর কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেছি। আমি দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যানেস্থেশিয়া কোর্সে অধ্যায়নরত আছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভ‚য়া ডা. মোহাম্মদ জাকির হোসেনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তার ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি। এবিষয়ে টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার সহবতপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহিম মিয়া জানান, ইম্যুতে পাঠানো ছবিটি আমার এলাকার বাসিন্দা মৃত মোশারফ হোসেন ওরফে মো. আব্দুলের ছেলে মোহাম্মদ জাকির হোসেন ওরফে আরিফুল ইসলাম আরিফের। আরিফের ৪/৫টি নারী কেলেঙ্কারী ও অনেক প্রতারনার ঘটনা গ্রামবাসীরা শুনেছেন। বর্তমানে কোটিপতির এক মেয়েকে বিয়ে করে আরিফ মাঝে মধ্যে বাড়িতে আসে।