।
হেলাল আহমদ বালাগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
কথায় একটি প্রভাত আছে, মাছে ভাতে বাঙ্গালী!
আর সেই মাছের দামও এখন দিন দিন আকাশ চুম্বি হয়ে যাচ্ছে।
দাম যেমন তেমন, দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ এখন প্রায় পাওয়াই দুষ্কর।
যেমন দেশীয় মাগুর, রাণী মাছ, গুতুম মাছ, কাল্লা অথবা ফলি মাছ, দেশীয় পাবদা মাছ সহ আরও অনেক প্রজাতির মাছ এখন বিলুপ্তির পথে প্রায়।
আর আমাদের দেশীয় মাছ গুলো বিলুপ্তির একমাত্র কারণ হচ্ছে ম্যাজিক জাল, আগে কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরত, তাতে কিছুটা হলেও দেশীয় মাছের অস্তিত্ব ছিলো, যদিও সেই কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরাও নিষিদ্ধ ছিলো, তাও দায়িত্বশীলদের চোখকে ফাকি দিয়ে ধরত।
কিন্তু গতকয়েক বছর ধরে এমন এক জালের আবিস্কার হলো যেই জালে পোনা মাছ থেকে বড় যে কোন মাছ সহজে ধরা পরে, আর এই জালটির নামই হচ্ছে ম্যাজিক জাল।
বর্ষার মৌসুম বৃষ্টি সিজনটা দেশীয় সব প্রজাতির মাছের প্রজননের গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়, আর সেই সময়টাতেই ম্যাজিক জালের ফাঁদে ধরা পরছে মা মাছ গুলো অথবা ডিম ওয়ালা মাছ গুলো।
যারা মাছ ধরার পেশায় নিয়জিত আছেন আমরা আপনাদেরকেও অনুরোধ করছি আপনারা অন্তত ম্যাজিক জাল দিয়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকুন, তাতে দেশের, আপনার, আমার সকলেরই জন্য ভালো।
আমরা যদি এখন থেকেই এর কোনো ব্যবস্থা না নিতে পারি তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই দেশীয় মাছ গুলোকে হারিয়ে ফেলবো আমরা, তাই আমি আমাদের দেশের প্রশাসনের কাছে এবং সরকারের দায়িত্বশীলদের কাছে অনুরোধ করবো আপনারা এই ব্যাপারে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দেশ ও দেশের জনগণের চাহিদার সংকট হবেনা ইনশাআল্লাহ।
আমাদের বিবেক বুঝও দিন দিন কমে যাচ্ছে, আর বাজারে শাক সবজির দামের ঊর্ধ্বগতির জন্য সরকারকে দায়ী করে থাকি, কিন্তু আমরা প্রতিটি এলাকায় কতজন এতটা দায়িত্বশীল হতে পেরেছি! যতটা দায়িত্বশীল হওয়া আমাদের প্রয়োজন ছিলো?
আসুন না, আমাদের নিজেদের নিত্যদিনের খাদ্য চাহিদা মিটানোর জন্য বাড়ির আনাচে কানাচে খালি যায়গা গুলোতে শাক সবজি, মাছ চাষের উৎপাদনে মনযোগী হই! আর আমরা উৎপাদন বাড়াইতে পারলেই নিজেদের চাহিদা দেশের চাহিদা এবং দৈনিক খাদ্য শষ্যের চড়া মূল্য থেকে রেহাই পেতে পারবো ইনশাআল্লাহ।