• ২৫শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৪, ২০২৪, ১৩:৩২ অপরাহ্ণ
গোপালগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শওকত আলী (দিদার) হত্যা মামলার আসামি মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কল্যাণ পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলিমুজ্জামান চৌধুরীর (৫০) মৃত্যু হয়েছে।

রোববার রাত সাড়ে ৭ টায় ঢাকা নেয়ার পথে তিনি মারা যান। গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার তানিয়া জামান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানাগেছে, বোরবার সকালে কারাগারের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ে আলিমুজ্জামান। কারা কর্তৃপক্ষ তাকে প্রথমে গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে পাঠানো হয়। সেখানেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ঢাকায় নেয়ার পথে রাত সাড়ে ৭ টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহত আলিমুজ্জামানের শ্যালক (স্ত্রীর ভাই) নাদিম চৌধুরী বলেন, গতকাল সকালে কারা কর্তৃপক্ষ আলিমুজ্জামনের অসুস্থতার কথা পরিবারকে জানায়। এরপর তাকে ফরিদপুর থেকে ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যায়। পূর্বে তার শারীরিক কোনো সমস্যা ছিলো না। ওই দিনের (১৩ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী গাড়ি বহরে হামলার দিন) হামলায় সে অসুস্থ হয়। এঘটনা দুই দিন পর আলিমুজ্জামান থানায় মামলা করতে গেলে তার মামলা গ্রহণ না করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও পুলিশ তাকে তার গ্রাম ঘোনাপাড়া থেকে গ্রেপ্তার দেখায়।

গোপালগঞ্জের জেলা কারাগারের জেলার তানিয়া জামান ও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. দেবব্রত বিশ্বাস বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর আলিমুজ্জামান চৌধুরীকে কারাগারে আনা হয়। তার উচ্চ রক্তচাপ ছিলো। গতকাল কারাগারে মস্তিষ্কে রক্ত ক্ষরণ (স্টোক) করে। তাকে প্রথমে গোপালগঞ্জ শেখ সায়রা খাতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

প্রসঙ্গত, ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রামে অনুষ্ঠিত এক পথসভা শেষে নিজ গ্রাম টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে রওনা হন। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় সদর উপজেলা ঘোনাপাড়া মোড়ে পৌঁছালে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী–সমর্থকেরা মাইকিং করে দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গাড়িবহরে হামলা করেন। এতে জিলানীসহ সংগঠনের অর্ধশত নেতা–কর্মী আহত হন। ভাঙচুর করা হয় ১০টি গাড়ি। ঘটনাস্থলের অদূরে পাথালিয়া বাংলালিংক টাওয়ারের পাশ থেকে শওকত আলী দিদারের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এঘটনায় ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে নিহত শওকত আলী দিদারের স্ত্রী রাবেয়া রহমান (৩২) বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমসহ ১১৭ জনের নাম উল্লেখ এবং ১ হাজার ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। এ মামলায় আলিমুজ্জামান চৌধুরী ১০৪ নাম্বার আসামি ছিলেন। #