স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ : শারদীয়া দূর্গাপূজার পর আজ বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিন অনুষ্ঠিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধন-সম্পদের দেবী লক্ষ্মী পূজা। প্রতি বছরের মত এবছর কোঁজাগোড়ী পূর্ণিমা তিথিতে লক্ষ্মী দেবীর আরাধনা করবেন হিন্দু ধর্মবলম্বীরা। তাই প্রতিমা বিক্রি করতে জেলার বিভিন্ন স্থানে বসেছে লক্ষ্মী প্রতিমার হাট। এসব হাট থেকে প্রতিমাসহ পূজার অনুসঙ্গীক উপকরণ কিনে নিচ্ছেন তারা।
তবে প্রতিমা তৈরীর উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিমা তৈরীর খরচ বাড়ার কারনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বলে জানান প্রতিমা বিক্রেতারা। আর ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিমাসহ অনুসঙ্গ জিনিসপত্রের দাম বেশি। এ লক্ষী পূজার মধ্য দিয়ে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনাসহ সম্প্রতির বন্ধন আটুট থাকবে এমনটিই প্রত্যাশা সকলের।
জেলার বিভিন্ন হাটে ঘুরে জানাগেছে, লক্ষ্মী পূজা উপলক্ষ্যে জেলার হিন্দু ধর্মবলম্বীদের বাড়ীতে বাড়ীতে মন্ডপ তৈরী করে লক্ষ্মী মুর্তি স্থাপন করা হবে। পরে আশ্বিন মাসের কোঁজাগোড়ী পূর্ণিমা তিথিতে ধন সম্পদের দেবী লক্ষ্মী পূজা করবেন হিন্দু ধর্মবলম্বীরা। ঢাকা, ঢোল আর উলুধ্বনি মুখরিত হয়ে উঠবে প্রতিটি ঘর।
এ পূজা উপলক্ষ্যে জেলার শহরের খাটরা সার্বজনীন কালীবাড়ী, সদর উপজেলার রুঘুনাথপুর, সাতপাড়, বৌলতলী, ভেন্নবাড়ী, এবং কোটালীপাড়া, টুঙ্গিপাড়া, কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বসেছে অর্ধ শতাধিক লক্ষ্মী প্রতিমার হাট। একটি ছোট প্রতিমা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ১’শ টাকা এবং বড় প্রতিমা বিক্রি হচ্ছে ২’শ থেকে ১২’শ টাকার মধ্যে। সকাল থেকে রাত পযর্ন্ত এসব হাটে ঘুরে ঘুরে দেশে শুনে দর দাম করে পছন্দ আর সাধ্য মত কিনছেন লক্ষ্মী প্রতিমা।
এসব হাটে শুধু প্রতিমাই নয় পাওয়া যাচ্ছে পূজার অন্যান্য উপকরনও। সোলার ফুল, নৌকা, কলাগাছ, মালা, নলডুগলি লতা, হলুদগাছ, পদ্ম ফুলসহ বিভিন্ন উপকরন বিক্রি হচ্ছে এ হাটে। দেবীর কৃপায় ধন-সম্পদ ও আশির্বাদের আশায় এ বছর লক্ষ্মী পূজা করবেন তারা। সেই সাথে একই হাটে সকল উপকরন পাওয়া কষ্টের হাত থেকেও বেঁচে যাচ্ছন ক্রেতারা।
জেলা শহরের বাসিন্দা কমলেশ বিশ্বাস বলেন, এবছর বাড়ীতে লক্ষ্মী পূজা করবো। তাই খাটরা সার্বজনীন কালীবাড়ী বসে হাটে লক্ষ্মী প্রতিমা কিনতে এসেছি। পছন্দমত প্রতিমাও কিনেছি। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর লক্ষ্মী প্রতিমার দাম অনেক বেশি। তারপরে মায়ের কৃপা পেতে পূজা করবো।
ক্রেতা সুবল মজুমদার বলেন, এবছর লক্ষ্মী পূজা বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিন অনুষ্ঠিত হবে। তাই প্রতিমা কিনতে এখানে এসেছি। তবে ঘুরে দেখলাম প্রতিমার দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় দ্বিগুন। যে প্রতিমার দাম ১’শ টাকার কবার তা তা ২’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তারপরেও পছন্দ হলে প্রতিমা কিনে নিয়ে যাবো।
অপর ক্রেতা ক্রেতা সঞ্জয় সাহা বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিমার দাম কিছুটা বেশি। এছাড়া পূজার অনুসঙ্গ কলাগাছ ৫০ টাকা, একটি নৌকা ৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তারপরে সাধ্যের মধ্যে থেকে প্রতিমাসহ পূজার অনুসঙ্গীক জিনিসপত্র এখান থেকেই কিনে নিচ্ছি। একই হাটে সকল উপকরন পাওয়া কষ্টের হাত থেকে বেঁচে যাচ্ছি।
খাটরা সার্বজনীন কালীবাড়ীতে প্রতিমা বিক্রি করতে আসা রমেশ পাল বলেন, লক্ষ্মী পূজা এবছর দুই দিন অনুষ্ঠিত হবে সেজন্য এক হাজার পিস প্রতিমা নিয়ে হাটে এসেছি। ক্রেতারাও হাটে আসচ্ছে, বিক্রিও ভালো। তবে প্রতিমা তৈরীর মাটি থেকে শুরু করে রংসহ অন্যন্য উপকরনের দাম বেশি। তাই প্রতিমা তৈরীতে খরচ বেশী হওয়ায় দাম একটু বেড়েছে। ক্রেতা বেশি হলে প্রতিমা বিক্রি করে লাভ করতে পারব।
অপর বিক্রেতা মিঠুন পাল বলেন, এবছর বিভিন্ন সাইজের ৬০টি প্রতিমা বিক্রির জন্য এনেছি। তবে কষ্টের তুলনায় প্রতিমার দাম কম। বিভিন্ন দামে প্রতিমা বিক্রি করছি। আশা করি বিক্রি ভালো হবে।
অপর বিক্রেতা সুনীল পাল বলেন, আমার এখন আর আগে মত লাভ বরতে পারি না। যা লাভ হয় তাই দিয়ে কোন রকমে দিন চালিয়ে নেই। তারপরেও বাপ দাদার পেশা ছাড়তে পারি না। এ পেশা টিকিয়ে রাখছি।
বিক্রেতা সুমন বিশ্বাস বলেন, এসব হাটে শুধু প্রতিমাই নয় পাওয়া যাচ্ছে পূজার অন্যান্য উপকরনও। সোলার ফুল, নৌকা, কলাগাছ, মালা, নলডুগলি লতা, হলুদগাছ, পদ্ম ফুলসহ বিভিন্ন উপকরন বিক্রি হচ্ছে। কলাগাছ ৫০ টাকা, একটি নৌকা ৫০ টাকা সোলার মালা ১৫০, নলডুগলি লতা ১০ থেকে ২০ টাকা, হলুদগাছ ২০ টাকা, পদ্ম ফুল ১০ দরে বিক্রি করা হচ্ছে। #