• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুমকিতে নিবন্ধিত জেলের তালিকায় ভিন্ন পেশার মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ৩১, ২০২৪, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
দুমকিতে নিবন্ধিত জেলের তালিকায় ভিন্ন পেশার মানুষ

ওবায়দুর রহমান অভি, দুমকি,পটুয়াখালী:- পটুয়াখালীর দুমকিতে দুই হাজারেরও অধিক নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন।এর মধ্যে অধিকাংশই ভিন্ন পেশার মানুষ বলে অভিযোগ স্থানীয় ছেলেদের। তারা বলেন, যারা প্রকৃত জেলে তাদের অনেককে বাদ দিয়ে কয়েক শত ভুয়া জেলেকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জেলেদের তালিকায়। তাই নিবন্ধিত না থাকায় সরকারি বিভিন্ন সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত জেলেরা। এছাড়া জেলেদের বরাদ্দের খাদ্য সহায়তা (চাল) বিতরণে অনিয়ম ঠেকাতে যাচাই-বাছাই করে চাল দেওয়ার দাবি স্থানীয় জেলেদের।
উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য মতে দুমকিতে কার্ড ধারী জেলে রয়েছে ২হাজার ৪ জন যার মধ্যে সুবিধাভোগী জেলে রয়েছেন ১হাজার ২শত ৫৬ জন।
প্রতিবছর জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে উপজেলা মৎস্য অফিস জেলেদের তালিকা হালনাগাদ করে। এ সংশ্লিষ্ট উপজেলা পর্যায়ে একটি কমিটি রয়েছে।
চলমান ২২ দিনের মৎস্য শিকারের নিষেধাজ্ঞার খোঁজখবর নিতে গিয়ে উপজেলার শ্রীরামপুর,পাঙ্গাসিয়ার আলগি, হাজির হাট, আঙ্গারিয়ার বাহেরচর, দক্ষিন মুরাদিয়ার জেলে পল্লীতে গেলে স্থানীয় জেলেরা এ অভিযোগ করেন।এবং বলেন, উপজেলায় ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক ও সচ্ছল ব্যাক্তিরা কার্ডধারি জেলে। জীবনে কখনো মাছ শিকার করেনি। যায়নি কখনো নদীর পাড়ে। তাদের প্রধান পেশা ব্যবসা-বাণিজ্য বা কৃষি। কিন্তু তারা নিবন্ধিত জেলে। খাদ্য সহায়তা তালিকায় সবার আগে তাদের নাম। প্রতিবছর জেলে হিসেবে তারা পান খাদ্য সহায়তা। চাল বিতরণের দিন লাইনে দাঁড়াতে হয় না তাদের অন্য লোকের মাধ্যমে চাল চলে যায় তাদের বাড়িতে। একাধিক জেলে বলেন, এ বছর এমনিতেই অনেক লোকশানে আছি ৬৫ দিনের অবরোধ অনেক কষ্ট হয়েছে পরিবারকে নিয়ে। ইলিশ রক্ষায় আমরা প্রতিবছর সরকারের কথা মেনে ঘাটে বসে থাকি। কিন্তু আমাদের নামে চাল আমরা প্রকৃত জেলেরা পাইনা,অন্য পেশার মানুষ চাল নিয়ে যায় আমাদের সামনে থেকে। তাই জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,’মাছ ধরে জাল্লারা, চাল পায় হাইল্লারা,।তালিকায় থাকা ভুয়া জেলেদের কার্ড পরিবর্তন না করা হলে সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
পাঙ্গাসিয়ার আলগি এলাকার জেলে পিন্টু বৈদ্য জানান প্রায় ১০বছর ধরে তিনি জেলে পেশায় রয়েছেন। তিনি পায়রা নদীতে মাছ ধরেন কিন্তু তার নামে কোন জেলা কার্ড নেই। উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের জেলে মজিবর হাওলাদার বলেন আমি অনেক বছর জেলে পেশায় আছি আমার কার্ড হয় নাই আর সরকারি কোন সহায়তা পাইনা। এছাড়া আমাদের এলাকায় আরো অনেক প্রকৃত জেলে রয়েছেন তাদের তাদের কারো জেলে কার্ড নেই।
দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন মাহমুদ বলেন, ভিন্ন পেশার মানুষ জেলে তালিকায় থাকা ঠিক না, উপজেলার একজন অফিসার, একজন পুলিশ সদস্য, ইউপি সদস্য এবং এলাকার চৌকিদের নিয়ে ৫ সদস্য বিশিষ্ট যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা যাচাই বাছাই করে প্রকৃত জেলে সনাক্ত করবেন এবং তাদেরই নিবন্ধন করা হবে।
#