• ২১শে জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মঠবাড়িয়ায় ১১ ইউনিয়নে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ২১, ২০২০, ১৫:০৪ অপরাহ্ণ
মঠবাড়িয়ায় ১১ ইউনিয়নে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র

শাকিল আহমেদ, মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে একটি করে প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার উপজেলা প্রশাসন ১১টি ইউনিয়নের নয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দুটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রকে প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে নানা ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশেষ করে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে বিভিন্ন এলাকা লকডাউন ঘোষণা করা হচ্ছে। বিদেশ বা দেশের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাওয়া মানুষকে হোম কোয়ারেন্টিনে ও প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন রাখা হচ্ছে। সরকারের নির্দেশ প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র করার জন্য উপজেলা প্রশাসন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছে পরামর্শ চান। এরপর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী ১১টি ইউনিয়নে একটি করে প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়। প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রগুলোতে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মঠবাড়িয়ায় আসা মানুষদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের দেখভাল করবেন। কেন্দ্রগুলো হলো, তুষখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর উত্তর বড়মাছুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধানীসাফা ইউনিয়নের সাফা ডিগ্রি কলেজ, মিরুখালী ইউনিয়নের মিরুখালী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, দাউদখালী ইউনিয়নের রাজারহাট শহীদ বাচ্চু মাধ্যমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার, মঠবাড়িয়া ইউনিয়নের মধ্য মিঠাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টিকিকাটা ইউনিয়নের টিকিকাটা নূরিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, বোতমোর রাজপাড়া ইউনিয়নের বোতমোর রাজপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র, আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী ডিগ্রী কলেজ, সাপলেজা ইউনিয়নের তাফালবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার, হলতা গুলিসাখালী ইউনিয়নের গুলিসাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বড়মাছুয়া ইউনিয়নের বড়মাছুয়া ইউনাইটেড হাই ইনস্টিটিউট।
মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আলী হাসান বলেন, নারায়নগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যক্তিদের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। লকডাউনের মধ্যেও মানুষ এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় আসা যাওয়া করছেন। একারণে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ রোধে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যক্তিদের আমরা প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেশের যেকোন এলাকা থেকে মঠবাড়িয়া আসা ব্যক্তিদের ১৪ দিন প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। এ কারণে সরকারের নির্দেশে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রগুলোর সার্বিক দায়িত্বে থাকবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রিপন বিশ্বাস বলেন, প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রগুলো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের প্রস্তাব অনুযায়ী করা হয়েছে। সেখানে সার্বক্ষণিক আনসার সদস্য বা গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকবে। প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রগুলো উপজেলা প্রশাসন দেখভাল করবে।